১০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

আলু নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

  • আপডেট সময়: ০২:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • 276

উত্তরের কৃষি ফসল নির্ভরশীল জেলা গাইবান্ধা। এখানে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উঁচু ভূমিতে আলু উৎপাদন করেই সংসার চালান অধিকাংশ কৃষক। গত বছরে দাম ভালো থাকায় এ বছর বেশি পরিমাণ জমিতে নানা জাতের আলু আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তবে বাজার দাম একেবারে কম। আর সংরক্ষণ করতেও পারছে না কোল্ড স্টোরে। ফলে আলু যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের।


সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে- আলু আবাদের দৃশ্য। সেখানে কেউ কেউ আলু তুলছেন, আবার কেউবা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। বাজার দামের ধস নামায় এবার লাভ হচ্ছে না তাদের। এমন অভিযোগ একাধিক কৃষকের।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে তা ছাড়িয়ে ১৪ হাজার ৪৯৭ হেক্টর জমিতে উফশী ও স্থানীয় জাতের আলু আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০১ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর জেলায় বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ৯৩ হাজার ৯৭৬ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত আলু স্থানীয় ৬টি কোল্ড স্টোরে মজুদ রাখতে পারবেন কৃষকরা।

এদিকে আলুচাষিরা বলছেন, গত বছরে আলু ফসল নিয়ে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে বীজ ক্রয় করেছেন। একই অবস্থা সার ও কিটনাশকেও। তবুও ভালো দামের আশায় ধারদেনা করে আলুর আবাদ করেছেন। এতে বাম্পার ফলন হলে হাসি ফুটছিলো তাদের মুখে। কিন্তু সেই হাসি ম্লান হয়েছে। একদিকে বাজারে কাঙ্খিত দাম নেই, অপরদিকে কোল্ড স্টোরেও মজুদ করতে পারছেন না তারা। কারণ- এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী চক্র আগেভাগে শ্লিপ নিয়ে বুকিং করেছে কোল্ড স্টোরে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে আলু। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন এই কৃষকরা।

ধাপেরহাটস্থ আরভি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ হাজার বস্তা ঢুকেছে।

গোবিন্দগঞ্জের হিমাদ্রী কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক বলেন, ইতোমধ্যে বুকিং স্লিপ শেষ হয়ে গেছে। আলু মজুদের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়েছে। এখন আর কৃষকের আলু নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু উৎপাদন বেড়েছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে মার্কেটে যোগান বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। ঢাকা মেইল

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

আলু নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

আপডেট সময়: ০২:০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

উত্তরের কৃষি ফসল নির্ভরশীল জেলা গাইবান্ধা। এখানে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উঁচু ভূমিতে আলু উৎপাদন করেই সংসার চালান অধিকাংশ কৃষক। গত বছরে দাম ভালো থাকায় এ বছর বেশি পরিমাণ জমিতে নানা জাতের আলু আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তবে বাজার দাম একেবারে কম। আর সংরক্ষণ করতেও পারছে না কোল্ড স্টোরে। ফলে আলু যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের।


সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে- আলু আবাদের দৃশ্য। সেখানে কেউ কেউ আলু তুলছেন, আবার কেউবা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। বাজার দামের ধস নামায় এবার লাভ হচ্ছে না তাদের। এমন অভিযোগ একাধিক কৃষকের।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে তা ছাড়িয়ে ১৪ হাজার ৪৯৭ হেক্টর জমিতে উফশী ও স্থানীয় জাতের আলু আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০১ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর জেলায় বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ৯৩ হাজার ৯৭৬ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত আলু স্থানীয় ৬টি কোল্ড স্টোরে মজুদ রাখতে পারবেন কৃষকরা।

এদিকে আলুচাষিরা বলছেন, গত বছরে আলু ফসল নিয়ে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে বীজ ক্রয় করেছেন। একই অবস্থা সার ও কিটনাশকেও। তবুও ভালো দামের আশায় ধারদেনা করে আলুর আবাদ করেছেন। এতে বাম্পার ফলন হলে হাসি ফুটছিলো তাদের মুখে। কিন্তু সেই হাসি ম্লান হয়েছে। একদিকে বাজারে কাঙ্খিত দাম নেই, অপরদিকে কোল্ড স্টোরেও মজুদ করতে পারছেন না তারা। কারণ- এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী চক্র আগেভাগে শ্লিপ নিয়ে বুকিং করেছে কোল্ড স্টোরে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে আলু। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন এই কৃষকরা।

ধাপেরহাটস্থ আরভি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ হাজার বস্তা ঢুকেছে।

গোবিন্দগঞ্জের হিমাদ্রী কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক বলেন, ইতোমধ্যে বুকিং স্লিপ শেষ হয়ে গেছে। আলু মজুদের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়েছে। এখন আর কৃষকের আলু নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু উৎপাদন বেড়েছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে মার্কেটে যোগান বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। ঢাকা মেইল