১০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মিয়ানমারের সহিংসতার ভিডিওকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে অপপ্রচার

  • আপডেট সময়: ০৭:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • 118

বাংলাফ্রাক্ট। ছবি- সংগৃহীত


মিয়ানমারে ২০২৩ সালের সহিংসতার একটি ভিডিওকে সম্প্রতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিদের সহিংসতা বলে দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ বিভ্রান্তি সৃষ্টির এ অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিওটিতে যা দেখানো হয়েছে তা বাংলাদেশের নয়, বরং মিয়ানমারের ঘটনা।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাসের ওপর পাঁচজন ব্যক্তি শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে দুই সশস্ত্র ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছে। এই ভিডিওটিকে সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিরা কয়েকজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে। যা মূলত মিথ্যা।

বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি আসলে ২০২৩ সালের। তখন মিয়ানমারের শান রাজ্যের সক্রিয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্নি ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা দেশটির কয়েকজন বেসামরিক লোককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিওর কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মিয়ানমারের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ৭৪ মিডিয়া’র ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্নি রেড ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

এদিকে, এসব তথ্যসূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে দেখা যায়, একই ঘটনায় ‘দ্য ৭৪ মিডিয়া’র ইউটিউব চ্যানেল ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সেই প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে এসএনএ-এর পোশাকধারী এক ব্যক্তি ও সাধারণ পোশাক পরা দুই লোক মিলে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। যে মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল, তা পরে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের সেজিন গ্রাম থেকে জব্দ করা হয়।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রতি জঙ্গিদের এমন সহিংস ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিওটির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

মিয়ানমারের সহিংসতার ভিডিওকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বলে অপপ্রচার

আপডেট সময়: ০৭:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাফ্রাক্ট। ছবি- সংগৃহীত


মিয়ানমারে ২০২৩ সালের সহিংসতার একটি ভিডিওকে সম্প্রতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিদের সহিংসতা বলে দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ বিভ্রান্তি সৃষ্টির এ অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিওটিতে যা দেখানো হয়েছে তা বাংলাদেশের নয়, বরং মিয়ানমারের ঘটনা।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাসের ওপর পাঁচজন ব্যক্তি শুয়ে আছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে দুই সশস্ত্র ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছে। এই ভিডিওটিকে সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গিরা কয়েকজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে। যা মূলত মিথ্যা।

বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি আসলে ২০২৩ সালের। তখন মিয়ানমারের শান রাজ্যের সক্রিয় জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী শান্নি ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা দেশটির কয়েকজন বেসামরিক লোককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, ভিডিওর কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে মিয়ানমারের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ৭৪ মিডিয়া’র ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্নি রেড ন্যাশনালিটিস আর্মির (এসএনএ) সন্দেহভাজন সদস্যরা পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

এদিকে, এসব তথ্যসূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে দেখা যায়, একই ঘটনায় ‘দ্য ৭৪ মিডিয়া’র ইউটিউব চ্যানেল ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সেই প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে এসএনএ-এর পোশাকধারী এক ব্যক্তি ও সাধারণ পোশাক পরা দুই লোক মিলে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। যে মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল, তা পরে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের সেজিন গ্রাম থেকে জব্দ করা হয়।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রতি জঙ্গিদের এমন সহিংস ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিওটির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।