
কড়াইল বস্তি আগুনে পুড়ে ছাই। ছবি: ঢাকা মেইল
কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তথ্য মিলেছে। বস্তির বৌবাজারের কুমিল্লা পট্টির মিন্টুর বাসার ভেতরে প্রথমে একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য ঘরে। বস্তিটির প্রায় প্রতিটি ঘরেই কমবেশি গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল। ফলে অনেক ঘর থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে পোড়া বস্তির বিভিন্ন অংশ ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা হতে চলেছে। এই আগুনে পুড়েছে কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্তরা এখন খোলা আকাশের নিচে বসে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ পোড়া টিন, মালপত্র সরাচ্ছেন।

বস্তিবাসী ও স্থানীয়রা বলেন, আগুন প্রথম লাগে বৌবাজারের বাসিন্দা মিন্টুর ঘর থেকে। মিন্টু ২০টি ঘর ভাড়া দিতেন। প্রতিটিই পুড়ে ছাই হয়েছে। তবে তার বাসার পাশে নতুন কিছু ইটের ঘর উঠতে দেখা গেছে।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল বিকেলের দিকে প্রথম আগুন লাগে মিন্টুর বাসায় থাকা একটি সিলিন্ডারে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সেটি বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কয়েক শতাধিক ঘরে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা কিছুই বের করতে পারেননি।
মিন্টু মিয়ার ছোট ছেলে শুকুর আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের ঘরে প্রথমে আগুন লাগে। পরে একটি সিলিন্ডারে আগুন ধরে। এরপর সেটি বিস্ফোরণ হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তখন দুই ভাই বাইরে ছিলাম। মা–বাবা ঘরে ছিলেন। বাবা অসুস্থ, এখন হাসপাতালে। আমাদের ২০টি ঘর পুড়েছে। অন্যদেরও সব পুড়ে ছাই।’
ঘটনাস্থলে মিন্টুর পোড়া একটি মোটরসাইকেলও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আগুনের সময় তিনি গার্মেন্টস কারখানায় ছিলেন। খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন সব শেষ।
তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা বস্তির শুরু থেকেই এখানে বসবাস করেন। তাঁদের ঘরের সামনে পাপড়, পিয়াজু ও চায়ের দোকান চালাতেন। আগুন লাগার সময় তারা কিছুই বের করতে পারেননি। ঘরে যা ছিল সব পুড়ে গেছে।

মিন্টুর ঘরগুলোতে ভাড়ায় থাকা ব্যক্তিরা বলেন, নিচতলা ও ওপরে মিলিয়ে মিন্টুর ২০টি ঘর ছিল। এগুলোতে কুমিল্লা, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভাড়ায় থাকতেন। অনেকেই ১০ থেকে ৩০ বছর ধরে সেখানে থাকছেন। প্রতিটি রুমের ভাড়া ছিল সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। আগুন লাগার সময় তাঁরা কিছুই নিতে পারেননি; এক কাপড়েই বের হন।
দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মিন্টুর পোড়া বাড়ির সামনে মানুষের জটলা। তাঁর চার মেয়ে পোড়া ঘরের সামনে বসে কাঁদছেন। অন্যদিকে ভাড়াটিয়ারা পোড়া জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এসময় মিন্টুকে পাওয়া যায়নি।

তবে মিন্টুর অনুপস্থিতি অনেকেই মানতে পারছেন না। শুকুর আলী দাবি করেন, তাঁর বাবা হাসপাতালে। কিন্তু কোন হাসপাতালে—তা জানাতে পারেননি। শুকুরের ভাষ্য, এর আগেও তাঁদের ঘর তিনবার আগুনে পুড়েছে। এবার তাঁরা প্রায় নিঃস্ব।
মিন্টুর ছেলে দাবি করলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি পলাতক। গতকাল রাত থেকে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছেন না ভাড়াটিয়ারা।
এদিকে কড়াইল বস্তিতে আগুন দেখতে দলে দলে মানুষ আসছেন। সকাল থেকে বস্তির প্রবেশমুখে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মোস্তফা ইমরুল কায়েস, ঢাকা মেইল

















