ডেঙ্গুতে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্ত নভেম্বরে। ছবি: ঢাকা মেইল
এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরের ভয়ংকর রূপ দেখেছে চলতি বছরের নভেম্বর। সদ্য গত হওয়া এই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। এটি চলতি বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। আক্রান্তের দিক থেকেও নভেম্বর সব মাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪ হাজার ৫৩০ জন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) মাসের শেষ দিন স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
এর আগে একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছিল অক্টোবরে। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৭৬। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪১ জন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন জুলাইতে।
চলতি বছর সব মিলিয়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেছে ৩৮২ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ হাজার ৪০২ জন।
মাসওয়ারি ভর্তির হিসাবে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ১১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১৭৭৩ জন, জুনে ৫৯৫১ জন, আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৮৬৬ জন এবং অক্টোবরে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৫২০ জন রোগী।
এছাড়া জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ ছিল মৃত্যুহীন। এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও বাড়তে থাকে জুন মাস থেকে। জুনে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে আর আগস্টে মৃত্যু হয় ৩৯ জনের।
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসার বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা, তা নেওয়া হয়নি। ফলে মশা ও রোগী দুটিই বেড়েছে। রোগী বাড়ার কারণে মৃত্যুও হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনেরও বিষয় আছে।

বছরজুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত আছে। ছবি: ঢাকা মেইল
জনস্বাস্থ্যবিদ বেনজীর আহমেদ বলেন, বছরের শেষ সময়ে এসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার প্রবণতা নতুন সংকট। এখন ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রথাগত ভাবনা বাদ দিতে হবে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এ রোগ মোকাবিলার কৌশল পাল্টাতে হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, কোনো টোটকা বা ছিটেফোঁটা উদ্যোগে মশকনিধন বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ আর সম্ভব নয়। এখন দেশজুড়ে সারা বছর ধরে কাজটি করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মশকনিধনের কাজটিকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে হবে। পরপর কয়েক বছর কাজ করলে ফল পাওয়া সম্ভব। এর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দরকার। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু ফগার মেশিন, স্প্রে বা জরিমানা যথেষ্ট নয়।
২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।