০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ

  • আপডেট সময়: ১২:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 77

সংগৃহীত ছবি


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং তার মরদেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে এ সমাবেশ ডাকা হয়েছিল।

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই সমাবেশ শুরু হয়।

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিচার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিল।

বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ডেপুটি হাইকমিশনের প্রায় ২০০ মিটার দূর পর্যন্ত মোট তিনটি ব্যারিকেড দিয়েছিল পুলিশ।

সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণ পরই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে, এক পর্যায়ে প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।

এরপর দ্বিতীয় ব্যারিকেড পর্যন্ত তারা পৌঁছে যাওয়ার পর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দূতাবাসের অন্তত ১০০ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ।


আরো পড়ুন

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

https://www.kalerkantho.com/online/national/2025/12/23/1623849


বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের ডাকে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এ কারণে হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয় এবং পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে আজ সকালে দিল্লির চানক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বাজরং দলসহ হিন্দু সংগঠনগুলো। তারাও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বিচার দাবি করছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং ‘বাংলাদেশ মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। তবে বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশন ভবন থেকে ৫০০ মিটার দূরে আটকে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটে বিক্ষোভের বিষয়ে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, কয়েকটি গাড়িতে করে আসা লোকজন কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে চলে যায়।

এদিকে ২০ ডিসেম্বরের ঘটনার পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে দাবি করে।

২১ ডিসেম্বর দেশটির মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘মাত্র ২০-২৫ জন যুবক সেখানে জড়ো হয়েছিল এবং তারা কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙেনি।’

ভারতের এ বক্তব্য দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় কিভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে পারল, তা গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ভারতের প্রেস নোটে অতি সরলীকরণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ গ্রহণ করে না।’

ঢাকা বলছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও ভিয়েনা কনভেনশনের আলোকে বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব, আর এই ঘটনায় সে দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ

আপডেট সময়: ১২:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সংগৃহীত ছবি


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং তার মরদেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে এ সমাবেশ ডাকা হয়েছিল।

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এই সমাবেশ শুরু হয়।

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিচার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিল।

বিবিসির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ডেপুটি হাইকমিশনের প্রায় ২০০ মিটার দূর পর্যন্ত মোট তিনটি ব্যারিকেড দিয়েছিল পুলিশ।

সমাবেশ শুরুর কিছুক্ষণ পরই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ধাক্কাধাক্কি শুরু করে, এক পর্যায়ে প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।

এরপর দ্বিতীয় ব্যারিকেড পর্যন্ত তারা পৌঁছে যাওয়ার পর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দূতাবাসের অন্তত ১০০ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ।


আরো পড়ুন

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

https://www.kalerkantho.com/online/national/2025/12/23/1623849


বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের ডাকে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এ কারণে হাইকমিশনের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয় এবং পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এদিকে আজ সকালে দিল্লির চানক্যপুরীতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বাজরং দলসহ হিন্দু সংগঠনগুলো। তারাও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বিচার দাবি করছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং ‘বাংলাদেশ মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। তবে বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশন ভবন থেকে ৫০০ মিটার দূরে আটকে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটে বিক্ষোভের বিষয়ে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ জানান, কয়েকটি গাড়িতে করে আসা লোকজন কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে চলে যায়।

এদিকে ২০ ডিসেম্বরের ঘটনার পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে দাবি করে।

২১ ডিসেম্বর দেশটির মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘মাত্র ২০-২৫ জন যুবক সেখানে জড়ো হয়েছিল এবং তারা কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙেনি।’

ভারতের এ বক্তব্য দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় কিভাবে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে পারল, তা গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ভারতের প্রেস নোটে অতি সরলীকরণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ গ্রহণ করে না।’

ঢাকা বলছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও ভিয়েনা কনভেনশনের আলোকে বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব, আর এই ঘটনায় সে দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।