০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

১৭ বছর পর মাতৃভূমিতে, জনসমুদ্রে ভালোবাসায় নেতাকে বরণ, উচ্ছ্বাসে উৎফুল্ল কর্মীরা

  • আপডেট সময়: ০৮:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 54

তারেক রহমানের গণসংবর্ধনায় হাজির হয়েছিলেন লাখো নেতাকর্মী। গতকাল বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ছবি : কালের কণ্ঠ


একজন নেতার অপেক্ষায় সারা দেশের মানুষ, যে নেতা দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা আর অর্থনীতিতে গতি ফেরাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইটটি অবতরণ করল। দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস ১৪ দিনের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশের টানে, মানুষের টানে, মায়ের টানে তিনি জন্মভূমিতে ফিরলেন।

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে আগে থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণ-অভ্যর্থনাস্থল রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে, তাঁর কথা শুনতে আশপাশের এলাকায়ও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। একজন নেতাকে বরণ করতে এত মানুষের উপস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। সারা দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের ভালোবাসা ও আবেগই এর প্রমাণ।

এর আগে গত বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় ৬টা  ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। তবে বিমানে থেকেও তারেক রহমান ফেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে কয়েকবার আপডেট জানান। তারেক রহমান তাঁর ছবি দিয়ে ‘ফেরা’, ‘দীর্ঘ ছয় হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে’, ‘অবশেষে সিলেটে’, ‘অবশেষে প্রিয় দেশের মাটিতে’ লিখে ফেসবুকে আপডেট জানান।

গতকাল সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটের দিকে তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানসহ সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে বিমান থেকে নামেন। ভিআইপি টার্মিনালে পৌঁছলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এরপর তারেক রহমান ভেতরে পৌঁছলে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ তাঁর শাশুড়ি সৈয়দা ইবাল মান্দ বানু একটি ফুলের মালা দিয়ে মেয়ের জামাইকে বরণ করে নেন। তাঁর পাশে বসান নাতনি জাইমা জারনাজ রহমানকে। পরে স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও সেখানে আসেন।

তারেক রহমান কিছুক্ষণ পরেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন। তিনি তাঁর সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। তাঁর দেশে ফেরায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আয়োজন করায় নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া ড. ইউনূসের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের বিষয়েও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা জারনাজ রহমান গুলশানের বাসার উদ্দেশে বিমানবন্দর ছাড়েন। এর ঠিক ২১ মিনিট পরে ১২টা ৪১ মিনিটে তারেক রহমান ভিআইপি টার্মিনাল থেকে বের হন। তিনি বাইরে পা রেখে হঠাৎ করে ফুলের বাগানে ঘাসের ওপর গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে তিনি জুতা খুলে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটির স্পর্শ নেন। এ সময় জন্মভূমির এক টুকরো মাটি হাতে তুলে নেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আগেই প্রস্তুত ছিল লাল-সবুজ রঙের বাস, যে বাসের সামনে-পেছনে লেখা আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এরপর তিনি বাসে করে রাজধানীর কুড়িলসংলগ্ন পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে আয়োজিত গণ-অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা হন। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

গত বুধবার থেকেই ৩০০ ফিট এলাকা ঘিরে অবস্থান নেয় কয়েক লাখ মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখে সারা রাত ও দিনভর। অনেকেই রাত কাটিয়েছে ফুটপাতে, মাঠে। সকাল হতেই ৩০০ ফিটের সেই জনসমুদ্র ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। হাতে হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অপেক্ষা করতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। শুধু ওই এলাকা নয়, বিমানবন্দর-কুড়িল ছাড়িয়ে জনসমুদ্রের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে উত্তরা, কুর্মিটোলা, বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা, পূর্বাচল এলাকায়ও।

লাখ লাখ মানুষের জনসমাগমে এদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না ওই এলাকায়। জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা আর অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের পাঁচ মিনিটের পথ তারেক রহমানের পাড়ি দিতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টারও বেশি। জনতার উত্তাল ঢেউয়ে এর পরও তাঁকে বহনকারী বাসটি মঞ্চের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বাস থেকে নেমে হেঁটে মঞ্চে পৌঁছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। অভ্যর্থনা মঞ্চে উঠেই তাঁর জন্য অপেক্ষমাণ লাখ লাখ মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান। মঞ্চে রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে বসেন সাধারণ কাঠের চেয়ারে। এরপর দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কৃতজ্ঞতা জানান সবাইকে, তুলে ধরেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় সহযোগিতা চান দেশবাসীর কাছে।

এদিন সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানারসহ ফুল হাতে নিয়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা-স্বাগতম’, ‘বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। তারেক রহমানও বাসের সামনের সিটে বসে নেতাকর্মীসহ জনসাধারণকে সালাম দেন, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমানের বাস বিমানবন্দর ছাড়লে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের সদস্যরা। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ সদস্যরাও দায়িত্বে ছিলেন। তারেক রহমানকে বহনকারী বাস চারদিক দিয়ে দুই থেকে তিন স্তরে ঘিরে রাখেন সব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। অভ্যর্থনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা ঘিরে রেখে বাসের সঙ্গে হাঁটতে থাকেন। খুবই ধীরগতিতে চলতে থাকে বাস। নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকে প্রধান সড়কে চলে আসার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে দেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর ফটক থেকে রাজধানীর কুড়িল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

লাখ লাখ মানুষের ভিড় ঠেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। গাড়ি আর সামনে অগ্রসর হতে না পারায় ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি হেঁটে সভামঞ্চে ওঠেন।

বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে : অভ্যর্থনা জানাতে আয়োজিত গণ-অভ্যর্থনা মঞ্চে উঠে তারেক রহমান উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভ্যর্থনার জবাব দেন। পরে মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা ছাড়াও শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর বসার জন্য গণ-অভ্যর্থনা মঞ্চে বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা করে অভ্যর্থনা কমিটি। তবে তারেক রহমান মঞ্চে উঠে সেই বিশেষ চেয়ার সরিয়ে একটি সাধারণ চেয়ার টেনে সেখানে বসেন।

এরপর উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে ভাষণে তিনি তাঁকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, ‘প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারো, লাখো-কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই—রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে। আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য।’

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে অভ্যর্থনাস্থল থেকে তারেক রহমান চলে যান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছেন, যেখানে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশানের বাসভবন থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। পরে তাঁরা সেখানে একত্রে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে কিছু সময় কাটান। তারেক রহমান চিকিৎসকদের সঙ্গে বেগম জিয়ার চিকিৎসা, স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখান থেকে রওনা দিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবনে পৌঁছেন।

রাজধানীতে অভূতপূর্ব জমায়েত : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিএনপি তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারা দেশের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে ৫০ লাখ লোকের জমায়েতের প্রত্যাশা করা হলেও এদিন কার্যত রাজধানীজুড়েই ছিল তারেক রহমানের অভ্যর্থনার রেশ।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গত ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর থেকেই সারা দেশ থেকে রাজধানীতে আসতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। গতকালও সকাল থেকেই রাজধানীতে মিছিল নিয়ে তাদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে আগের দিন রাত থেকেই ৩০০ ফিটে লাখ লাখ মানুষের অবস্থান নেওয়া এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করায় গতকাল যাঁরা ৩০০ ফিট অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, জনসমুদ্রের কারণে তাঁদের থমকে যেতে হয়েছে উত্তরা, বনানী, গুলশান, বাড্ডা কিংবা পূর্বাচলে। ফলে অভ্যর্থনা এলাকা থেকে বিমানবন্দর ছাড়িয়ে এদিন জনতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার অন্যান্য সড়ক ও প্রধান প্রবেশপথগুলোতে। এর পরও সকাল থেকে দেখা যায় দলে দলে, খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে তারা ছোটার চেষ্টা করছে ৩০০ ফিট অভিমুখে।

কঠোর নিরাপত্তা, সতর্ক প্রশাসন : সম্ভাব্য জনসমাগম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীতে ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কড়া অবস্থান। বিমানবন্দর, কাকলী, বনানী, ফার্মগেট, শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। যদিও কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্র ও শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা : আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন তিনি। কাল শনিবার ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে যাবেন নির্বাচন ভবনে এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন পঙ্গু হাসপাতালে। এদিন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতেও যাবেন তারেক রহমান।

দেশবাসীকে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতাদীর্ঘ  ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশে ফেরার পথে অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সংবর্ধনা দেওয়ায় দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার রাতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তার এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লন্ডন থেকে তারেক রহমানের ফেরা উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট মহাসড়ক পর্যন্ত যে বিশাল জনসমাগম হয়েছে, তাতে ঢাকা মহানগরী এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পাশাপাশি, অভ্যর্থনা জানাতে আসা ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদেরও ধন্যবাদ

অভ্যর্থনা কার্যক্রমটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দিনভর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও মায়ের সাথে সাক্ষাতের ব্যস্ততম দিন শেষে তিনি এখন গুলশানের বাসভবনে অবস্থান করছেন।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করলো ইরান

১৭ বছর পর মাতৃভূমিতে, জনসমুদ্রে ভালোবাসায় নেতাকে বরণ, উচ্ছ্বাসে উৎফুল্ল কর্মীরা

আপডেট সময়: ০৮:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমানের গণসংবর্ধনায় হাজির হয়েছিলেন লাখো নেতাকর্মী। গতকাল বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ছবি : কালের কণ্ঠ


একজন নেতার অপেক্ষায় সারা দেশের মানুষ, যে নেতা দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা আর অর্থনীতিতে গতি ফেরাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইটটি অবতরণ করল। দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস ১৪ দিনের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশের টানে, মানুষের টানে, মায়ের টানে তিনি জন্মভূমিতে ফিরলেন।

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে আগে থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণ-অভ্যর্থনাস্থল রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে, তাঁর কথা শুনতে আশপাশের এলাকায়ও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। একজন নেতাকে বরণ করতে এত মানুষের উপস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। সারা দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের ভালোবাসা ও আবেগই এর প্রমাণ।

এর আগে গত বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় ৬টা  ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। তবে বিমানে থেকেও তারেক রহমান ফেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে কয়েকবার আপডেট জানান। তারেক রহমান তাঁর ছবি দিয়ে ‘ফেরা’, ‘দীর্ঘ ছয় হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে’, ‘অবশেষে সিলেটে’, ‘অবশেষে প্রিয় দেশের মাটিতে’ লিখে ফেসবুকে আপডেট জানান।

গতকাল সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটের দিকে তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানসহ সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে বিমান থেকে নামেন। ভিআইপি টার্মিনালে পৌঁছলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এরপর তারেক রহমান ভেতরে পৌঁছলে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ তাঁর শাশুড়ি সৈয়দা ইবাল মান্দ বানু একটি ফুলের মালা দিয়ে মেয়ের জামাইকে বরণ করে নেন। তাঁর পাশে বসান নাতনি জাইমা জারনাজ রহমানকে। পরে স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও সেখানে আসেন।

তারেক রহমান কিছুক্ষণ পরেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন। তিনি তাঁর সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। তাঁর দেশে ফেরায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আয়োজন করায় নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া ড. ইউনূসের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের বিষয়েও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা জারনাজ রহমান গুলশানের বাসার উদ্দেশে বিমানবন্দর ছাড়েন। এর ঠিক ২১ মিনিট পরে ১২টা ৪১ মিনিটে তারেক রহমান ভিআইপি টার্মিনাল থেকে বের হন। তিনি বাইরে পা রেখে হঠাৎ করে ফুলের বাগানে ঘাসের ওপর গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে তিনি জুতা খুলে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটির স্পর্শ নেন। এ সময় জন্মভূমির এক টুকরো মাটি হাতে তুলে নেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আগেই প্রস্তুত ছিল লাল-সবুজ রঙের বাস, যে বাসের সামনে-পেছনে লেখা আছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। এরপর তিনি বাসে করে রাজধানীর কুড়িলসংলগ্ন পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে আয়োজিত গণ-অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা হন। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

গত বুধবার থেকেই ৩০০ ফিট এলাকা ঘিরে অবস্থান নেয় কয়েক লাখ মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখে সারা রাত ও দিনভর। অনেকেই রাত কাটিয়েছে ফুটপাতে, মাঠে। সকাল হতেই ৩০০ ফিটের সেই জনসমুদ্র ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। হাতে হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অপেক্ষা করতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। শুধু ওই এলাকা নয়, বিমানবন্দর-কুড়িল ছাড়িয়ে জনসমুদ্রের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে উত্তরা, কুর্মিটোলা, বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা, পূর্বাচল এলাকায়ও।

লাখ লাখ মানুষের জনসমাগমে এদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না ওই এলাকায়। জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা আর অভ্যর্থনায় বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের পাঁচ মিনিটের পথ তারেক রহমানের পাড়ি দিতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টারও বেশি। জনতার উত্তাল ঢেউয়ে এর পরও তাঁকে বহনকারী বাসটি মঞ্চের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে বাস থেকে নেমে হেঁটে মঞ্চে পৌঁছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। অভ্যর্থনা মঞ্চে উঠেই তাঁর জন্য অপেক্ষমাণ লাখ লাখ মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান। মঞ্চে রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে বসেন সাধারণ কাঠের চেয়ারে। এরপর দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কৃতজ্ঞতা জানান সবাইকে, তুলে ধরেন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় সহযোগিতা চান দেশবাসীর কাছে।

এদিন সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ব্যানারসহ ফুল হাতে নিয়ে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা-স্বাগতম’, ‘বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। তারেক রহমানও বাসের সামনের সিটে বসে নেতাকর্মীসহ জনসাধারণকে সালাম দেন, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমানের বাস বিমানবন্দর ছাড়লে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের সদস্যরা। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ সদস্যরাও দায়িত্বে ছিলেন। তারেক রহমানকে বহনকারী বাস চারদিক দিয়ে দুই থেকে তিন স্তরে ঘিরে রাখেন সব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। অভ্যর্থনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা ঘিরে রেখে বাসের সঙ্গে হাঁটতে থাকেন। খুবই ধীরগতিতে চলতে থাকে বাস। নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকে প্রধান সড়কে চলে আসার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে দেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর ফটক থেকে রাজধানীর কুড়িল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

লাখ লাখ মানুষের ভিড় ঠেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর সভামঞ্চের কাছাকাছি যায়। গাড়ি আর সামনে অগ্রসর হতে না পারায় ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি হেঁটে সভামঞ্চে ওঠেন।

বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে : অভ্যর্থনা জানাতে আয়োজিত গণ-অভ্যর্থনা মঞ্চে উঠে তারেক রহমান উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে অভ্যর্থনার জবাব দেন। পরে মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা ছাড়াও শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর বসার জন্য গণ-অভ্যর্থনা মঞ্চে বিশেষ চেয়ারের ব্যবস্থা করে অভ্যর্থনা কমিটি। তবে তারেক রহমান মঞ্চে উঠে সেই বিশেষ চেয়ার সরিয়ে একটি সাধারণ চেয়ার টেনে সেখানে বসেন।

এরপর উপস্থিত লাখ লাখ জনতার উদ্দেশে ভাষণে তিনি তাঁকে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, ‘প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারো, লাখো-কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই—রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে। আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য।’

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে অভ্যর্থনাস্থল থেকে তারেক রহমান চলে যান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছেন, যেখানে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশানের বাসভবন থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। পরে তাঁরা সেখানে একত্রে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে কিছু সময় কাটান। তারেক রহমান চিকিৎসকদের সঙ্গে বেগম জিয়ার চিকিৎসা, স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখান থেকে রওনা দিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবনে পৌঁছেন।

রাজধানীতে অভূতপূর্ব জমায়েত : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিএনপি তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারা দেশের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে ৫০ লাখ লোকের জমায়েতের প্রত্যাশা করা হলেও এদিন কার্যত রাজধানীজুড়েই ছিল তারেক রহমানের অভ্যর্থনার রেশ।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গত ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর থেকেই সারা দেশ থেকে রাজধানীতে আসতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। গতকালও সকাল থেকেই রাজধানীতে মিছিল নিয়ে তাদের প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে আগের দিন রাত থেকেই ৩০০ ফিটে লাখ লাখ মানুষের অবস্থান নেওয়া এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করায় গতকাল যাঁরা ৩০০ ফিট অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, জনসমুদ্রের কারণে তাঁদের থমকে যেতে হয়েছে উত্তরা, বনানী, গুলশান, বাড্ডা কিংবা পূর্বাচলে। ফলে অভ্যর্থনা এলাকা থেকে বিমানবন্দর ছাড়িয়ে এদিন জনতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার অন্যান্য সড়ক ও প্রধান প্রবেশপথগুলোতে। এর পরও সকাল থেকে দেখা যায় দলে দলে, খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে তারা ছোটার চেষ্টা করছে ৩০০ ফিট অভিমুখে।

কঠোর নিরাপত্তা, সতর্ক প্রশাসন : সম্ভাব্য জনসমাগম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীতে ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কড়া অবস্থান। বিমানবন্দর, কাকলী, বনানী, ফার্মগেট, শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। যদিও কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শুক্র ও শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা : আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন তিনি। কাল শনিবার ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে যাবেন নির্বাচন ভবনে এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন পঙ্গু হাসপাতালে। এদিন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতেও যাবেন তারেক রহমান।

দেশবাসীকে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতাদীর্ঘ  ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশে ফেরার পথে অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সংবর্ধনা দেওয়ায় দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার রাতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তার এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লন্ডন থেকে তারেক রহমানের ফেরা উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট মহাসড়ক পর্যন্ত যে বিশাল জনসমাগম হয়েছে, তাতে ঢাকা মহানগরী এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পাশাপাশি, অভ্যর্থনা জানাতে আসা ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদেরও ধন্যবাদ

অভ্যর্থনা কার্যক্রমটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দিনভর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও মায়ের সাথে সাক্ষাতের ব্যস্ততম দিন শেষে তিনি এখন গুলশানের বাসভবনে অবস্থান করছেন।