মিরপুর কালসি রোডে ফ্লাইওভারের পশ্চিম দিকের শেষপ্রান্তে সাংবাদিক আবাসিক এলাকা ও ২২তলা ভবনের সামনে যে ফুটওভার ব্রিজটি রয়েছে, তা দক্ষিণে সাংবাদিক এলাকার সাথে উত্তরে মিরপুরের বাসিন্দাদের রাস্তা পারাপারের জন্য নির্মিত হয়েছিল ২০১৮ সালে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এই ব্রিজটি নির্মিত হয়। প্রথমে এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল কালসি স্কুলের কাছে। পরে পূর্ব-পশ্চিম প্রসারিত ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে এটিকে বর্তমান স্থানে স্থাপন করা হয়।

ব্রিজসংলগ্ন সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর গেইট
আগে এর নাম ছিল ঢাকা ১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইলিয়াস মোল্লার নামে। বর্তমানে ফ্লাইওভারের পশ্চিমদিকের শেষ মাথায় এটি অবস্থিত বলে নাম দেয়া হয়েছে ফ্লাইওভার।
ফুটওভার ব্রিজ স্থাপিত হলেও খুব কম পথচারীই ব্রিজটি ব্যবহার করতেন। এর দুইটি কারণ ছিল। তারা রোড ডিভাইডারের রেলিংবিহীন অংশ দিয়ে মেইন রাস্তা ব্যবহার করে রাস্তা পার হতেন। ফুটওভার ব্রিজটি মূলত ছিনতাইকারী, নেশাখোর ও উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-তরণীদের স্বর্গরাজ্য। বিশেষভাবে সন্ধ্যার পর ব্রিজটি এদের কারণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় কারণ, পথচারীরা শর্টকাট বেছে নিয়ে যানবাহন চলাচলের রাস্তা দিয়ে এপার-ওপার করেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

কালসি ২২তলা ভবনের কাছেই ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সিঁড়ি
বর্তমানে সাংবাদিক এলাকার সামনের পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত রোড ডিভাইডারটি কালসি রোডের এই অংশে সম্পূর্ণ রেলিং দিয়ে দেয়াতে রাস্তার উত্তর দক্ষিণের পথচারীরা ব্রিজ ব্যবহার করেন। কিন্তু রোদ-বৃষ্টি ও নিয়মিত নজরদারী ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজের স্টিলের পাটাতনে জায়গায় জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। পায়ে চলার এই স্টিলের পাতকে এখন মরণফাঁদ বলা যায়। এপারের সিঁড়ি থেকে ওপারের সিঁড়ি পর্যন্ত গোটা হাঁটার পথ বিবর্ণ ও স্থানে স্থানে জং পড়ে গর্ত হয়ে গেছে। ডিভাইডারের দুইপাশে প্রতিদিন অজস্র দ্রুতগামী যানবাহন চলাচল করে। অধিকন্তু এখন ডিভাইডারের রেলিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কেউ যানবাহন উজিয়ে ডিভাইডার পর্যন্ত গেলে তাকে বিপদে পড়তে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফাটলের কারণে তারা ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতে দুর্ঘটনায় পতিত হবার আশংকায় আছেন।

ফুটওভার ব্রিজের স্টিলের চলার পথ বিপজ্জনকভাবে ফুটো হয়ে গেছে
সাংবাদিক এলাকার অনেক বাসিন্দা ও কালসি রোডের অনেক বাসিন্দা ব্রিজের বেহাল দশায় উদ্বিগ্ন। সাংবাদিক আবাসিক এলাকার এক নম্বর গেইট সংলগ্ন বিসমিল্লাহ ফার্মেসির সত্ত্বাধিকারী জনাব মাহবুব ও আরো অনেকে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
কেউ কেউ মনে করেন, সাংবাদিক আবাসিক এলাকার এক নম্বর গেইট থেকে রান্তার ডিভাইডারের একটি অংশ খুলে দিয়ে মানুষ পারাপারের জন্য রাস্তার উত্তর অংশ পর্যন্ত জেব্রা ক্রসিং বসাতে, সেইসাথে ব্রিজের গোড়ার দিকের মেইন রাস্তার এপার-ওপার দুইদকেই যেন জিগ-জ্যাগ তৈরি করা হয়, যাতে দ্রুতগামী যানবাহনের গতি শ্লথ হয়।

স্টিলের চলার পথ যেন বিপদের হাতছানি
কেউ কেউ ব্রিজটি অনতিবিলম্বে সংস্কারের কথা বলছেন এবং ছিনতাইকারী ও নেশাখোরদের আনাগোনা বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে মানুষজন ব্রিজটি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

সাংবাদিক এলাকার গেইটের মুখোমুখি ওই পারের দৃশ্য। গেইট থেকে ওই পার পর্যন্ত জেব্রা ক্রসিং দেয়ার কথা বলছেন অনেকে
সরেজমিনে দেখা গেছে যে, ব্রিজটির স্থানে স্থানে মরিচা পড়ে চলাচলের পথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ব্রিজ পারাপারকারীদের সাথেও কথা বলে জানা গেছে, এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড়রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা উত্তরণে কার্যকারী পদক্ষেপ নেবেন।