
সংগৃহীত ছবি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন বলেছেন, ‘জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করার কাজ করব আমি।’ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনীতে শপথ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা এলাকায় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয় ফেলানী খাতুনকে। এ ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর ফেলানীর ছোট ভাই বিজিবিতে নিয়োগ পেলেন।
বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী ‘বীর-উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ এবং কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে আরফান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১১ সালে আমার বয়স তখন ৬-৭ বছর হবে। তখন আমার বড় বোন ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর পর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন এই বাহিনীতে যোগদান করতে পারি এবং দেশের জন্য কাজ করতে পারি।
সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি নিজেকে গড়ে তুলি এবং বিজিবিতে আসি।’
আরো পড়ুন
সাগর সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষায় সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিডার এমওইউ সই
https://www.kalerkantho.com/online/national/2026/01/14/1633455
আরফান জানান, তারা তিন ভাই, দুই বোন। ২০২২ সালে তিনি স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০২৪ সালে স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
গত বছর বিজিবির সার্কুলার হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে গত চার মাস প্রশিক্ষণ নেন। কঠোর পরিশ্রমের পর আজ তাদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, আমি এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সৈনিক হয়েছি। আমি চাইব না, আমার বোনের মতো আরো কারো মা-বাবা তার সন্তান হারাক, কিংবা ভাই বা, বোন হারাক।
আমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন কোনো বোন বা মা-বাবার সন্তানকে এভাবে হত্যা না করা হয়। দেশের সীমান্ত রক্ষার্থে আমার জীবন বিপন্ন হলেও চেষ্টা করব কোনো বোন বা মা-বাবার সন্তান যেন আমার বোনের মতো গুলি খেয়ে হত্যার শিকার না হয়।’
এদিকে কুচকাওয়াজ শেষে প্যারেড মাঠেই আরফানের খোঁজ নেন বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দকী। এ সময় আরফানের মা-বাবার খোঁজখবর নেন বিজিবির ডিজি।


























