মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার নতুন হুমকি ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে এক মতামত কলামে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, ‘২০২৫ সালের জুনে ইরান যে সংযম দেখিয়েছিল, এবার সেরকম হবে না। যদি আমরা নতুন হামলার শিকার হই তাহলে আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী সর্বস্ব দিয়ে পাল্টা হামলা চালাবে। তাদের মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এটি কোনো নিছক হুমকি নয় বরং বাস্তব সত্য। একটি সর্বাত্মক সংঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং তা ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের আনুমানিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে। এই যুদ্ধ অবশ্যই পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে।’
আরাগচির এই কড়া বার্তা মূলত ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এসেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে ‘কেটি প্যাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকলে দেশটিকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’।
তিনি বলেন, ‘তাদের (ইরানের) এমনটা করা উচিত নয়। তবে আমি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানি জেনারেল আবুলফজল শেকারচিকে বলেছেন, ট্রাম্পের জানা উচিৎ যেকোনো পরিস্থিতিতে তেহরান পিছু হটবে না।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প জানেন যে যদি আমাদের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) দিকে আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হয়, তাহলে আমরা কেবল সেই হাতটিই ছিন্ন করব না বরং আমরা তাদের বিশ্বে আগুন ধরিয়ে দেব এবং এই অঞ্চলে তাদের কোনও নিরাপদ আশ্রয়স্থল রাখব না। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়।’
এদিকে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তুতি বাদ দিতে বললেও এখন আবার নতুন পরিকল্পনা দিতে বলছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানে হামলার ব্যাপারে আলোচনার সময় এটিকে তিনি কয়েকবার চূড়ান্ত হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার নির্দেশনার পর হোয়াইট হাউজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ‘অপশন’ দিয়েছেন। যারমধ্যে ইরানের সরকার পতনের পরিকল্পনাও আছে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করেছে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই রণতরী মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবে ভারত মহাসাগরে এর উপস্থিতি তেহরানের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শীপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রণতরীটি এখন ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে মাত্র ২-৩ দিন সময় লাগবে।
এরআগে বুধবার একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ওই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। ফলে ইরান এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ঠেকাতে চেষ্টা করার অনুরোধও জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স