
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ–চীন পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্পনেতারা। সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আজ শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়াতেও স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহ-সভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্পবিষয়ক সহ-সভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বৈদেশিক বাজারবিষয়ক মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।
বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের মতবিনিময় হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে চীন সেই ধারণা অনুসরণ করে নিজস্ব কর্মসূচি চালু করেছে। গত বছরের মার্চে চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রেসিডেন্ট তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর বই পড়েছেন এবং সেখানকার নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন।
শিগগির নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও দুই দেশের মধ্যকার চলমান কাজ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাতকে অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পাশাপাশি ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল—এটি লজ্জাজনক। এ সময় তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান, যেখানে এক হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ সব স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এক জায়গায় থাকবে। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও উপকৃত হতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।























