০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মা ও সৎ ভাইকে হত্যার পর কানাডার সেই স্কুলে হামলা চালায় ১৮ বছর বয়সী তরুণী

  • আপডেট সময়: ১১:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

ছবিসূত্র: রয়টার্স


পশ্চিম কানাডার একটি স্কুলে বন্দুক হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে ১৮ বছর বয়সী এক নারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই নারী হামলার আগে তার মা ও সৎ ভাইকে হত্যা করেন।

বুধবার পুলিশ এ তথ্য জানালেও তদন্তকারীরা কানাডার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ গণহত্যার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রিজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, হামলার পর জেসি ভ্যান রুটসেলার নামের ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ১০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে পরে সংশোধিত তথ্যে বলা হয়, হামলাকারী ভ্যান রুটসেলারসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন।

কয়েক ঘণ্টা পর হাউস অব কমন্সে আইনপ্রণেতারা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সেখানে গম্ভীর কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড দেশকে স্তম্ভিত ও শোকাহত করেছে। টাম্বলার রিজের মেয়র ড্যারিল ক্রাকোওকা বুধবার গভীর রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ জনপদটি একটি বড় পরিবারের মতো।’ আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘কারো প্রয়োজন হলে তার কথা শুনুন।

কারো কাঁধ প্রয়োজন হলে তাকে কাঁধ দিন। কাউকে জড়িয়ে ধরুন।’

ডেপুটি কমিশনার ম্যাকডোনাল্ড জানান, ভ্যান রুটসেলার প্রথমে নিজ বাড়িতে তার ৩৯ বছর বয়সী মা এবং ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকে হত্যা করেন। ভ্যান রুটসেলার জন্মসূত্রে পুরুষ ছিলেন কিন্তু ছয় বছর আগে নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

মা ও ভাইকে হত্যার পরে তিনি স্কুলে যান, যেখানে তিনি ৩৯ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক, ১২ বছর বয়সী তিন ছাত্রী এবং দুই ছাত্রকে (একজন ১২ ও একজন ১৩ বছর বয়সী) গুলি করেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি লম্বা বন্দুক ও পরিবর্তিত একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ডজনখানেক মানুষ আহত হন এবং গুরুতর আহত দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের একজন ১২ বছর বয়সী মেয়ে মায়া। তার মাথা ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে বলে তার মা সিয়া এডমন্ডস ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ফোনকল পাওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হন, তাদের দিকেও গুলি ছোড়া হয়। পরে তারা ভ্যান রুটসেলারকে আত্মহত্যাজনিত গুলিতে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, তিনি একসময় ওই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন, তবে চার বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

ম্যাকডোনাল্ড সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস সন্দেহভাজন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে… উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কিছু বলা খুব তাড়াতাড়ি হবে।’ তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লস বলেছেন, তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।’

বুধবার নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। একটি বেদনাদায়ক ফেসবুক পোস্টে আবেল মওয়ানসা বলেছেন, তার ১২ বছর বয়সী ছেলে (যার নামও আবেল) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আবেল স্কুলে যেতে খুব ভালোবাসতেন বলে তার বাবা লিখেছেন।

আরেক নারী শ্যানন ডাইক বলেছেন, তার ১২ বছর বয়সী ভাগ্নী কাইলি মে স্মিথ নিহতদের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, অন্যান্য পরিবার যারা তাদের সন্তান হারিয়েছে বা খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করছে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। শুধু টাম্বলার রিজের জন্য প্রার্থনা করুন।

কানাডার বন্দুক আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কঠোর, কিন্তু কানাডিয়ানরা লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারে। ভ্যান রুটসেলারের আগে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কানাডিয়ানরা আগ্নেয়াস্ত্র সুরক্ষা কোর্স এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে একজন নাবালকের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স পেতে পারেন।

কানাডার ইতিহাসে এই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি সবচেয়ে মারাত্মক। এর আঘে ২০২০ সালের এপ্রিলে পুলিশের পোশাক পরে এবং একটি নকল পুলিশ গাড়ি চালিয়ে আটলান্টিক প্রদেশের নোভা স্কটিয়াতে ১৩ ঘন্টার তাণ্ডবে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলি করে ২২ জনকে হত্যা করে। এরপর পুলিশ তাকে একটি গ্যাস স্টেশনে হত্যা করে।

১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে কুইবেকের মন্ট্রিলের ইকোল পলিটেকনিকে একজন বন্দুকধারী ১৪ জন ছাত্রীকে হত্যা করে এবং ১৩ জনকে আহত করে, তারপর নিজে আত্মহত্যা করেন।

সূত্র: রয়টার্স

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

মা ও সৎ ভাইকে হত্যার পর কানাডার সেই স্কুলে হামলা চালায় ১৮ বছর বয়সী তরুণী

আপডেট সময়: ১১:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছবিসূত্র: রয়টার্স


পশ্চিম কানাডার একটি স্কুলে বন্দুক হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে ১৮ বছর বয়সী এক নারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই নারী হামলার আগে তার মা ও সৎ ভাইকে হত্যা করেন।

বুধবার পুলিশ এ তথ্য জানালেও তদন্তকারীরা কানাডার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ গণহত্যার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রিজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, হামলার পর জেসি ভ্যান রুটসেলার নামের ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ১০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে পরে সংশোধিত তথ্যে বলা হয়, হামলাকারী ভ্যান রুটসেলারসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন।

কয়েক ঘণ্টা পর হাউস অব কমন্সে আইনপ্রণেতারা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সেখানে গম্ভীর কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড দেশকে স্তম্ভিত ও শোকাহত করেছে। টাম্বলার রিজের মেয়র ড্যারিল ক্রাকোওকা বুধবার গভীর রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ জনপদটি একটি বড় পরিবারের মতো।’ আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘কারো প্রয়োজন হলে তার কথা শুনুন।

কারো কাঁধ প্রয়োজন হলে তাকে কাঁধ দিন। কাউকে জড়িয়ে ধরুন।’

ডেপুটি কমিশনার ম্যাকডোনাল্ড জানান, ভ্যান রুটসেলার প্রথমে নিজ বাড়িতে তার ৩৯ বছর বয়সী মা এবং ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকে হত্যা করেন। ভ্যান রুটসেলার জন্মসূত্রে পুরুষ ছিলেন কিন্তু ছয় বছর আগে নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

মা ও ভাইকে হত্যার পরে তিনি স্কুলে যান, যেখানে তিনি ৩৯ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক, ১২ বছর বয়সী তিন ছাত্রী এবং দুই ছাত্রকে (একজন ১২ ও একজন ১৩ বছর বয়সী) গুলি করেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি লম্বা বন্দুক ও পরিবর্তিত একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ডজনখানেক মানুষ আহত হন এবং গুরুতর আহত দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের একজন ১২ বছর বয়সী মেয়ে মায়া। তার মাথা ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে বলে তার মা সিয়া এডমন্ডস ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ফোনকল পাওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হন, তাদের দিকেও গুলি ছোড়া হয়। পরে তারা ভ্যান রুটসেলারকে আত্মহত্যাজনিত গুলিতে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। পুলিশ জানায়, তিনি একসময় ওই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন, তবে চার বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।

ম্যাকডোনাল্ড সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস সন্দেহভাজন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে… উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কিছু বলা খুব তাড়াতাড়ি হবে।’ তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লস বলেছেন, তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।’

বুধবার নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। একটি বেদনাদায়ক ফেসবুক পোস্টে আবেল মওয়ানসা বলেছেন, তার ১২ বছর বয়সী ছেলে (যার নামও আবেল) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আবেল স্কুলে যেতে খুব ভালোবাসতেন বলে তার বাবা লিখেছেন।

আরেক নারী শ্যানন ডাইক বলেছেন, তার ১২ বছর বয়সী ভাগ্নী কাইলি মে স্মিথ নিহতদের মধ্যে ছিলেন। তিনি বলেন, অন্যান্য পরিবার যারা তাদের সন্তান হারিয়েছে বা খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করছে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। শুধু টাম্বলার রিজের জন্য প্রার্থনা করুন।

কানাডার বন্দুক আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কঠোর, কিন্তু কানাডিয়ানরা লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারে। ভ্যান রুটসেলারের আগে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কানাডিয়ানরা আগ্নেয়াস্ত্র সুরক্ষা কোর্স এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে একজন নাবালকের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স পেতে পারেন।

কানাডার ইতিহাসে এই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি সবচেয়ে মারাত্মক। এর আঘে ২০২০ সালের এপ্রিলে পুলিশের পোশাক পরে এবং একটি নকল পুলিশ গাড়ি চালিয়ে আটলান্টিক প্রদেশের নোভা স্কটিয়াতে ১৩ ঘন্টার তাণ্ডবে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুলি করে ২২ জনকে হত্যা করে। এরপর পুলিশ তাকে একটি গ্যাস স্টেশনে হত্যা করে।

১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে কুইবেকের মন্ট্রিলের ইকোল পলিটেকনিকে একজন বন্দুকধারী ১৪ জন ছাত্রীকে হত্যা করে এবং ১৩ জনকে আহত করে, তারপর নিজে আত্মহত্যা করেন।

সূত্র: রয়টার্স