১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে আইসিসি

  • আপডেট সময়: ০২:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

২০৩১ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটের বড় দুইটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা রয়েছে ভারতের। সূচিতে রয়েছে ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আইসিসি, বিসিসিআই এবং পিসিবি-র মধ্যে স্বাক্ষরিত হাইব্রিড মডেল চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে ম্যাচ আয়োজন করবে না; নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে, যেখানে পিসিবি ছিল আনুষ্ঠানিক আয়োজক, সেখানে ভারতের সব ম্যাচ হয়েছিল দুবাইয়ে। আর চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিসিসিআই আয়োজক থাকলেও শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক করা হয়।

তবে দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি আসর আয়োজনের অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে ভারত। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, টুর্নামেন্ট পরিকল্পনায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিকল্প আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করছে আইসিসি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরুতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই আইপিএলের তালিকা থেকে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় আইসিসির কাছে, তবে সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি। সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করা হয়, যা পাকিস্তানের অসন্তোষের জন্ম দেয় এবং বয়কটের হুমকি তৈরি হয়।

বয়কটের এই হুমকিতে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পর্দার আড়ালে ব্যাপক আলোচনার পর গত রোববার কলম্বোতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ৬১ রানের জয় পায়।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, এই বিশৃঙ্খলার জেরে ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক আসরে এমন পরিস্থিতি এড়াতে জ্যেষ্ঠ ক্রিকেট প্রশাসকদের মধ্যে বিকল্প আয়োজক দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ম্যাচ আয়োজন করবে না। একই ধরনের সমঝোতা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো হয়নি।

সূচি নির্ধারণ ও সম্প্রচার চুক্তিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ (যা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত) অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া এর আগেও ভারত-পাকিস্তান হাইপ্রোফাইল ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ৪১ হাজার ৫৮৭ দর্শক। আর ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দলের লড়াই দেখতে উপস্থিত হন রেকর্ড ৯০ হাজার ২৯৩ দর্শক। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল উপমহাদেশের টেলিভিশন বাজারের জন্যও অনুকূল বলে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে প্রাইম টাইম ম্যাচের ক্ষেত্রে।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

ভারত থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে আইসিসি

আপডেট সময়: ০২:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০৩১ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটের বড় দুইটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা রয়েছে ভারতের। সূচিতে রয়েছে ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আইসিসি, বিসিসিআই এবং পিসিবি-র মধ্যে স্বাক্ষরিত হাইব্রিড মডেল চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে ম্যাচ আয়োজন করবে না; নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে, যেখানে পিসিবি ছিল আনুষ্ঠানিক আয়োজক, সেখানে ভারতের সব ম্যাচ হয়েছিল দুবাইয়ে। আর চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিসিসিআই আয়োজক থাকলেও শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক করা হয়।

তবে দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি আসর আয়োজনের অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে ভারত। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, টুর্নামেন্ট পরিকল্পনায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিকল্প আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করছে আইসিসি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারির শুরুতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই আইপিএলের তালিকা থেকে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় আইসিসির কাছে, তবে সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি। সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করা হয়, যা পাকিস্তানের অসন্তোষের জন্ম দেয় এবং বয়কটের হুমকি তৈরি হয়।

বয়কটের এই হুমকিতে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পর্দার আড়ালে ব্যাপক আলোচনার পর গত রোববার কলম্বোতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ৬১ রানের জয় পায়।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, এই বিশৃঙ্খলার জেরে ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক আসরে এমন পরিস্থিতি এড়াতে জ্যেষ্ঠ ক্রিকেট প্রশাসকদের মধ্যে বিকল্প আয়োজক দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ম্যাচ আয়োজন করবে না। একই ধরনের সমঝোতা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো হয়নি।

সূচি নির্ধারণ ও সম্প্রচার চুক্তিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ (যা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত) অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া এর আগেও ভারত-পাকিস্তান হাইপ্রোফাইল ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ৪১ হাজার ৫৮৭ দর্শক। আর ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দলের লড়াই দেখতে উপস্থিত হন রেকর্ড ৯০ হাজার ২৯৩ দর্শক। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল উপমহাদেশের টেলিভিশন বাজারের জন্যও অনুকূল বলে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে প্রাইম টাইম ম্যাচের ক্ষেত্রে।