০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

  • আপডেট সময়: ০১:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার


কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুই দেশের পুরো আলোচনাই হয়েছে পরোক্ষভাবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক দফায় বৈঠক এবং বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


আরো পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে ৩ শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র


এই আলোচনাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আগে এটিই সর্বশেষ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে,। এরপর হয়ত মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প যদিও বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।

যদিও আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন এবং ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আমেরিকা বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন কেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান ‘কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না’ — এ বিষয়ে তারা পরিষ্কার। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।

গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে, ট্রাম্পের মনোযোগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে চলে যায়, যা পশ্চিমাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।

কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলেছে, তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যদিও দেশটি একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র যারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব এমন স্তরের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।


আরো পড়ুন 

ইরানে হামলার প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজন এফ-২২ স্টিলথ ইসরায়েলে


গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত এবং অস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন ট্রাম্প, সেখানে সম্ভাব্য হামলার কারণ নিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি তিনি। বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছে, যা ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

গত বছরের হামলার পর ইরান ‘পুনরায় নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করার’ চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প এবং বলেন যে তিনি ‘বিশ্ব সন্ত্রাসের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষককে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার’ অনুমতি দিতে পারেন না।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: সংসদে ৬ আসন পাওয়া এনসিপির পরবর্তী লক্ষ্য কী?

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

আপডেট সময়: ০১:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার


কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুই দেশের পুরো আলোচনাই হয়েছে পরোক্ষভাবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক দফায় বৈঠক এবং বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


আরো পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে ৩ শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র


এই আলোচনাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আগে এটিই সর্বশেষ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে,। এরপর হয়ত মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প যদিও বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।

যদিও আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন এবং ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আমেরিকা বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন কেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান ‘কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না’ — এ বিষয়ে তারা পরিষ্কার। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।

গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে, ট্রাম্পের মনোযোগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে চলে যায়, যা পশ্চিমাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।

কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলেছে, তাদের কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যদিও দেশটি একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র যারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব এমন স্তরের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে।


আরো পড়ুন 

ইরানে হামলার প্রস্তুতি: যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজন এফ-২২ স্টিলথ ইসরায়েলে


গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত এবং অস্পষ্টভাবে কথা বলেছেন ট্রাম্প, সেখানে সম্ভাব্য হামলার কারণ নিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি তিনি। বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছে, যা ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

গত বছরের হামলার পর ইরান ‘পুনরায় নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করার’ চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প এবং বলেন যে তিনি ‘বিশ্ব সন্ত্রাসের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষককে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার’ অনুমতি দিতে পারেন না।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি