১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সচিবালয় কর্মকর্তার ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ, গ্রেফতার ৪

  • আপডেট সময়: ০১:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে অপহরণের শিকার স্কুল ছাত্রকে উদ্ধারের ঘটনায় চার অপহরণকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া অপহরণকারীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদক ও নারীর ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে অর্থ আদায় করে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলো— তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম, ইশরাক ইয়ামিন লিখন, হাসান আল বান্না ওরফে হাসলাম ও মোস্তাফিজ রহমান পুঞ্জ।

মাসুদ আলম বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খন্দকার শামীমের একমাত্র ছেলে আরফান সাঈদ অপহরণের ঘটনায় জড়িত একটি অপহরণ চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উঠতি বয়সী  তরুণদের মাদক ও নারীদের ব্যবহার করে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে আসছে।

‎একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী সাঈদকে অপহরণ করে খিলগাঁও চামেলিবাগ এলাকায় নিয়ে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনায় হতবিহ্বল বাবা মন্ত্রণালয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে বিষয়টি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ছেলে অপহরণের ঘটনা শুনে রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলমকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

‎উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ডিসি মাসুদ বলেন, অপহরণকারীরা চামেলিবাগ এলাকায়  নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। পরে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করি। কিন্তু অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভুক্তভোগীকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আমরা ওই কিশোরকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।

‎প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে দ্রুত সময়ে বাচ্চাটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। ভুক্তভোগীর দেওয়া কিছু বর্ণনা শুনে আমরা জড়িতদের শনাক্ত করি। এরপর গতকাল (বুধবার) রাতে আমরা অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছি। ঘটনাস্থলে থাকা আরও একজনকে আমরা খুঁজছি।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ১০ থেকে ১২ জনের একটি দুর্ধর্ষ চক্র। এই চক্রটি উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে। এরপর তারা ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে টাকা আদায় করতে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন করে। আমরা গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু অপহরণের ভিডিও পেয়েছি। এই ঘটনায় রমনা থানায় নিয়মিত আইনে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ: সংসদে ৬ আসন পাওয়া এনসিপির পরবর্তী লক্ষ্য কী?

সচিবালয় কর্মকর্তার ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ, গ্রেফতার ৪

আপডেট সময়: ০১:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে অপহরণের শিকার স্কুল ছাত্রকে উদ্ধারের ঘটনায় চার অপহরণকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া অপহরণকারীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদক ও নারীর ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে অর্থ আদায় করে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলো— তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম, ইশরাক ইয়ামিন লিখন, হাসান আল বান্না ওরফে হাসলাম ও মোস্তাফিজ রহমান পুঞ্জ।

মাসুদ আলম বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খন্দকার শামীমের একমাত্র ছেলে আরফান সাঈদ অপহরণের ঘটনায় জড়িত একটি অপহরণ চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উঠতি বয়সী  তরুণদের মাদক ও নারীদের ব্যবহার করে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে আসছে।

‎একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী সাঈদকে অপহরণ করে খিলগাঁও চামেলিবাগ এলাকায় নিয়ে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনায় হতবিহ্বল বাবা মন্ত্রণালয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে বিষয়টি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ছেলে অপহরণের ঘটনা শুনে রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলমকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

‎উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ডিসি মাসুদ বলেন, অপহরণকারীরা চামেলিবাগ এলাকায়  নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। পরে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করি। কিন্তু অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভুক্তভোগীকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আমরা ওই কিশোরকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি।

‎প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে দ্রুত সময়ে বাচ্চাটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। ভুক্তভোগীর দেওয়া কিছু বর্ণনা শুনে আমরা জড়িতদের শনাক্ত করি। এরপর গতকাল (বুধবার) রাতে আমরা অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছি। ঘটনাস্থলে থাকা আরও একজনকে আমরা খুঁজছি।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ১০ থেকে ১২ জনের একটি দুর্ধর্ষ চক্র। এই চক্রটি উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে। এরপর তারা ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে টাকা আদায় করতে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন করে। আমরা গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু অপহরণের ভিডিও পেয়েছি। এই ঘটনায় রমনা থানায় নিয়মিত আইনে মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।