চলমান আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- ২০২৬ এ সুপার এইট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পাকিস্তান দলের সম্ভাব্য টপ অর্ডার নতুনভাবে সাজিয়েছেন দেশটির সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির ও ব্যাটার আহমেদ শেহজাদ। শনিবার পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচকে সামনে রেখে তারা দলের কৌশল নিয়ে মতামত দিয়েছেন।
জিও নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠান হারনা মানা হ্যায়–এ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে দলগত কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আমির ও শেহজাদ। সেখানে জাতীয় দলের সম্ভাব্য একাদশ ও ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তারা। বাঁহাতি পেসার আমির ব্যাটিং ও বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন এবং দলে ভারসাম্য ও নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তবে সাবেক এই দুই ক্রিকেটারই একটি বিষুয়ে এক্মত হয়েছেন। আর তা হলো বাবর আজমকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে না রাখা।
আমিরের মতে, টপ অর্ডারে থাকতে পারেন সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান, সালমান আলি আগা এবং খাজা নাফি। উইকেটকিপার হওয়ায় উসমান খানও দলে থাকবেন। এরপর অলরাউন্ডার শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। যদি সাইম বাইরে থাকে, তাহলে তার জায়গায় খেলতে পারেন আবরার আহমেদ। সে ক্ষেত্রে বাবরের জায়গায় নাফি ব্যাট করতে পারেন, এরপর থাকবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহ।
আমির বলেন, ‘সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান, সালমান আলি আগা এবং খাজা নাফিকে নিয়ে টপঅর্ডার হবে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে বাইরে রাখার সুযোগ নেই উসমান খানকে। এরপর আসবে শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজ। যদি সাইম বাইরে থাকলে, আবরার তার জায়গায় ঢুকবে। এ ছাড়া বাবরের পরিবর্তে নাফি এবং এরপর শাহিন, নাসিম শাহ।’
অন্যদিকে শেহজাদ দল ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের পরামর্শ দেন। তার মতে, বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অলৌকিক কিছু প্রত্যাশা না করে দলের বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড়দেরই কাজে লাগানো উচিত। শেহজাদ বলেন, বিশেষজ্ঞদের নিয়েই খেলতে হবে। আগামী ম্যাচে দলকে অর্ধেক–অর্ধেক ভাগ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার কাছে যে তথ্য ও প্রস্তুতি আছে, তার ভিত্তিতেই ব্যাটার ও বোলার নির্বাচন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বেঞ্চে ডন ব্র্যাডম্যানের মতো কেউ বসে নেই যে তাকে নামিয়ে সব বদলে দেওয়া যাবে। তাই ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে। শাদাবের জায়গায় আবরারকে নেওয়া যেতে পারে এবং বাবরের জায়গায় নাফিকে খেলানো যেতে পারে। এতে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই ভারসাম্য থাকবে।
বর্তমানে গ্রুপ–২–এর পয়েন্ট তালিকায় পাকিস্তান দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নিউজিল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে পাকিস্তানকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। নিউজিল্যান্ডের নেট রান রেট ১.৩৯০ হওয়ায় পাকিস্তানকে প্রায় ৬৫ রানে জিততে হবে, অথবা লক্ষ্য তাড়া করলে ১৩ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করতে হবে। বর্তমানে পাকিস্তানের নেট রান রেট মাইনাস ০.৪৬১।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ডের হার পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রেখেছে। তবে ক্যান্ডিতে সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের ওপরই এখন তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে। প্রয়োজনীয় ব্যবধানে জিততে না পারলে গ্রুপ–২ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে নিউজিল্যান্ড।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের সামান্য এগিয়ে থাকা দেখা যায়। দুই দল এখন পর্যন্ত ২৪টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান জিতেছে ১৪টি এবং শ্রীলঙ্কা ১০টি। তবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াই সমান সমান। আসরের আগের চারটি দেখায় দুই দলই দুটি করে ম্যাচ জিতেছে। ফলে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা থাকাটাই স্বাভাবিক।