০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ

  • আপডেট সময়: ০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • 7

বশির  আহমেদ


বিনোদন ডেস্ক: ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এ সর্বমোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত তালিকায় আট নম্বরে রয়েছে উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বশির আহমেদের (মরণোত্তর) নাম।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনোনীতদের এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখান থেকেই এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলা গানে যে’কজন শিল্পীর কণ্ঠে সীমাহীন মায়া খুঁজে পেয়েছে শ্রোতারা, তাদের মধ্যে অন্যতম বশির আহমেদ। অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন দেশের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনকে।

‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ সিনেমায় গানের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন বশির আহমেদ। সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকেও ভূষিত হন।

এছাড়াও পেয়েছেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার সম্মাননা।

প্রসঙ্গত, ষাট দশকে বাংলাদেশে আসার আগে বশির আহমেদ লাহোরে অনেক হিট উর্দু ও বাংলা গান গেয়ে লাখো মানুষের অন্তর জয় করেছিলেন। ওস্তাদজী বশির আহমেদ রহমান-শবনম জুটির বেশিরভাগ ছবিতেই তখন কন্ঠ দিয়েছেন।

সপরিবারে বশির আহমেদ

তাঁর গাওয়া অনেক উর্দু গান তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানিদের মন জয় করে। তেমনি একটি গান– ‘তুমহারে লিয়ে ইস দিলমে যিতনি মোহাব্বত হ্যায়।’ গানটি তিনি গেয়েছিলেন শবনম-রহমান অভিনীত ‘দর্শন’ ছবিতে। ‘কারোয়ান’ ছবিতে গেয়েছিলেন– ‘যব তুম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে।’ এছাড়া আরো কয়েকটি উর্দু ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি। তৎকালিন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে যে গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, সেটি ‘তালাশ’ ছবিতে গাওয়া ‘কিছু আপনি শোনান, কিছু আমার শুনে যান।’ এই ছবিটি উর্দুতেও নির্মিত হয়েছিল আর গানটি ছিল ‘কুছ আপনি কহিয়ে, কুছ মেরে শুনিয়ে।’

সিনেমায় একসময়ের জনপ্রিয় জুটি শবনম ও রহমান


তারপর তো তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। এখনের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে গান করেছেন।

এদেশের নাড়ির টান তিনি এমনভাবে আত্মস্থ করেছিলেন যে, তাঁর বাংলা আধুনিক ও ছায়াছবির গান কোটি মানুষের মন জয় করে নিলো। বাংলায় শুদ্ধ উচ্চারণ ও দরদ তিনি অতি দ্রুত আত্মস্থ করেন। বাংলাতে গানও লেখেন তিনি।

১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর বশির আহমেদের জন্ম কলকাতার খিদিরপুরের সওদাগর পরিবারে। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। উর্দু ছিল তার পরিবারের ভাষা।

গানের হাতেখড়ি ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন খানের কাছে। গানের জন্য চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সে পাড়ি জমান বোম্বে (মুম্বাই)।

১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে গীতা দত্ত, আশা ভোঁসলের সঙ্গে ডুয়েট গান গেয়েছিলেন বশির আহমেদ।  ওই সময়ে ওস্তাদ বড় গোলাম আলী খানের কাছ থেকেও তালিম নেয়ার সুযোগ পান তিনি। ১৯৬০ সালে তালাত মাহমুদের সঙ্গে ঢাকা আসেন গান গাওয়ার জন্যে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা একসঙ্গে স্টেজে গান করেন। তারপর ফিরে গেলেও গানের টানেই। কিছুদিন পরপর ঢাকা আসতেন বশির আহমেদ। এই আসা-যাওয়ার মধ্যে এখানে উর্দু চলচ্চিত্র ‘তালাশ’-এ (১৯৬৩) গান গাওয়ার সুযোগ পান।

১৯৬৪ সালে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন বশির আহমেদ। এদেশে তৎকালীন সময়ে উর্দু চলচ্চিত্র নির্মিত হতো নিয়মিত। আর উর্দু সিনেমার গানের প্রয়োজনেই কদর বাড়তে শুরু করলো বশির আহমেদের। তার কণ্ঠটিও ছিল উর্দু গানের। ‘তালাশ’ সিনেমাতে নায়ক রহমানের ঠোঁটের সবগুলো গান গেয়েছিলেন তিনি। একটি গান ছিল-‘কুছ আপনি কাহিয়ে, কুছ মেরি সুনিয়ে’। এরপর জহির রায়হানের উর্দু সিনেমায় ‘সঙ্গম’ (১৯৬৪)-এ গান করেন।

বশির আহমেদ উর্দুভাষার গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পীও। উর্দু চলচ্চিত্র ‘কারওয়াঁ’ (১৯৬৪)-তে তার নিজের লেখা ও সুরে ‘যব তুম আকেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ জনপ্রিয় হয়। অন্য আরও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজ করলেও ‘দরশন’ (১৯৬৭) তাকে নিয়ে যায় খ্যাতির শীর্ষে। এই চলচ্চিত্রের গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রেও সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তারপরেই।

‘ময়নামতি’ (১৯৬৯) চলচ্চিত্রে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘ডেকো না আমারে তুমি কাছে ডেকো না’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়’। ‘মধুমিলন’ (১৯৭০) চলচ্চিত্রে শহীদুল ইসলামের লেখা ও ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া ‘কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু/ছায়া হয়ে তবু পাশে  রইব’- গানগুলো সুরস্রষ্টা বশির আহমদের উচ্চমানতার নিদর্শন।

ষাটের দশকে রেডিওতে খান আতাউর রহমানের লেখা ও সুরে ‘যা রে যাবি যদি যা’ এবং ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’ -গান দুটি বশির আহমেদকে বাংলা গানে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়।

বশির আহমদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’, ‘যারে যাবি যদি যা/ পিঞ্জর খুলে দিয়েছি’, ‘ডেকো না আমাকে তুমি/ কাছে ডেকো না’।

বাবা কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ মা মিনা বশির এর বড় কন্যা হোমায়রা বশির ও ছোটো ছেলে রাজা বশির। সম্প্রতি তারা পাকিস্তান আইডল বিচারক হিসেবে ছিলেন। এবং তাদের বাবা-মায়ের গাওয়া সুপারহিট গান ‘ওগো প্রিয়তমা’ দ্বৈত কন্ঠে গেয়ে পাকিস্তানিদের মুগ্ধ করেন।


বশির আহমদের  স্ত্রী মিনা বশির আরেকজন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। তাদের এক মেয়ে এক ছেলে- হোমায়রা বশির ও রাজা বশির। তারাও গানের মানুষ। বাবার কাছেই তাদের হাতেখড়ি ও গান শেখা। মিনা বশির নেপালি। তিনি কলকাতার বাংলা সিনেমা ‘পৃথিবী আমারে চায়’-এর নায়িকা মালা সিনহার চাচাতো বোন। ১৯৬৮ সালে বিয়ের আগে তার নাম ছিল লিলি সিনহা। তিনি ছিলেন রবীন্দ্র ভারতীর ছাত্রী।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বশির আহমেদ। ওই বছরই ৭ আগস্ট মিনা বশিরও মৃত্যুবরণ করেন।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ

২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ

আপডেট সময়: ০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

বশির  আহমেদ


বিনোদন ডেস্ক: ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এ সর্বমোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত তালিকায় আট নম্বরে রয়েছে উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বশির আহমেদের (মরণোত্তর) নাম।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনোনীতদের এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখান থেকেই এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলা গানে যে’কজন শিল্পীর কণ্ঠে সীমাহীন মায়া খুঁজে পেয়েছে শ্রোতারা, তাদের মধ্যে অন্যতম বশির আহমেদ। অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন দেশের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনকে।

‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ সিনেমায় গানের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন বশির আহমেদ। সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকেও ভূষিত হন।

এছাড়াও পেয়েছেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার সম্মাননা।

প্রসঙ্গত, ষাট দশকে বাংলাদেশে আসার আগে বশির আহমেদ লাহোরে অনেক হিট উর্দু ও বাংলা গান গেয়ে লাখো মানুষের অন্তর জয় করেছিলেন। ওস্তাদজী বশির আহমেদ রহমান-শবনম জুটির বেশিরভাগ ছবিতেই তখন কন্ঠ দিয়েছেন।

সপরিবারে বশির আহমেদ

তাঁর গাওয়া অনেক উর্দু গান তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানিদের মন জয় করে। তেমনি একটি গান– ‘তুমহারে লিয়ে ইস দিলমে যিতনি মোহাব্বত হ্যায়।’ গানটি তিনি গেয়েছিলেন শবনম-রহমান অভিনীত ‘দর্শন’ ছবিতে। ‘কারোয়ান’ ছবিতে গেয়েছিলেন– ‘যব তুম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে।’ এছাড়া আরো কয়েকটি উর্দু ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি। তৎকালিন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে যে গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, সেটি ‘তালাশ’ ছবিতে গাওয়া ‘কিছু আপনি শোনান, কিছু আমার শুনে যান।’ এই ছবিটি উর্দুতেও নির্মিত হয়েছিল আর গানটি ছিল ‘কুছ আপনি কহিয়ে, কুছ মেরে শুনিয়ে।’

সিনেমায় একসময়ের জনপ্রিয় জুটি শবনম ও রহমান


তারপর তো তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। এখনের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে গান করেছেন।

এদেশের নাড়ির টান তিনি এমনভাবে আত্মস্থ করেছিলেন যে, তাঁর বাংলা আধুনিক ও ছায়াছবির গান কোটি মানুষের মন জয় করে নিলো। বাংলায় শুদ্ধ উচ্চারণ ও দরদ তিনি অতি দ্রুত আত্মস্থ করেন। বাংলাতে গানও লেখেন তিনি।

১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর বশির আহমেদের জন্ম কলকাতার খিদিরপুরের সওদাগর পরিবারে। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। উর্দু ছিল তার পরিবারের ভাষা।

গানের হাতেখড়ি ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন খানের কাছে। গানের জন্য চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সে পাড়ি জমান বোম্বে (মুম্বাই)।

১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে গীতা দত্ত, আশা ভোঁসলের সঙ্গে ডুয়েট গান গেয়েছিলেন বশির আহমেদ।  ওই সময়ে ওস্তাদ বড় গোলাম আলী খানের কাছ থেকেও তালিম নেয়ার সুযোগ পান তিনি। ১৯৬০ সালে তালাত মাহমুদের সঙ্গে ঢাকা আসেন গান গাওয়ার জন্যে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা একসঙ্গে স্টেজে গান করেন। তারপর ফিরে গেলেও গানের টানেই। কিছুদিন পরপর ঢাকা আসতেন বশির আহমেদ। এই আসা-যাওয়ার মধ্যে এখানে উর্দু চলচ্চিত্র ‘তালাশ’-এ (১৯৬৩) গান গাওয়ার সুযোগ পান।

১৯৬৪ সালে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন বশির আহমেদ। এদেশে তৎকালীন সময়ে উর্দু চলচ্চিত্র নির্মিত হতো নিয়মিত। আর উর্দু সিনেমার গানের প্রয়োজনেই কদর বাড়তে শুরু করলো বশির আহমেদের। তার কণ্ঠটিও ছিল উর্দু গানের। ‘তালাশ’ সিনেমাতে নায়ক রহমানের ঠোঁটের সবগুলো গান গেয়েছিলেন তিনি। একটি গান ছিল-‘কুছ আপনি কাহিয়ে, কুছ মেরি সুনিয়ে’। এরপর জহির রায়হানের উর্দু সিনেমায় ‘সঙ্গম’ (১৯৬৪)-এ গান করেন।

বশির আহমেদ উর্দুভাষার গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পীও। উর্দু চলচ্চিত্র ‘কারওয়াঁ’ (১৯৬৪)-তে তার নিজের লেখা ও সুরে ‘যব তুম আকেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ জনপ্রিয় হয়। অন্য আরও উর্দু চলচ্চিত্রে কাজ করলেও ‘দরশন’ (১৯৬৭) তাকে নিয়ে যায় খ্যাতির শীর্ষে। এই চলচ্চিত্রের গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রেও সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তারপরেই।

‘ময়নামতি’ (১৯৬৯) চলচ্চিত্রে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘ডেকো না আমারে তুমি কাছে ডেকো না’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়’। ‘মধুমিলন’ (১৯৭০) চলচ্চিত্রে শহীদুল ইসলামের লেখা ও ফেরদৌসী রহমানের গাওয়া ‘কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু/ছায়া হয়ে তবু পাশে  রইব’- গানগুলো সুরস্রষ্টা বশির আহমদের উচ্চমানতার নিদর্শন।

ষাটের দশকে রেডিওতে খান আতাউর রহমানের লেখা ও সুরে ‘যা রে যাবি যদি যা’ এবং ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’ -গান দুটি বশির আহমেদকে বাংলা গানে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়।

বশির আহমদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’, ‘যারে যাবি যদি যা/ পিঞ্জর খুলে দিয়েছি’, ‘ডেকো না আমাকে তুমি/ কাছে ডেকো না’।

বাবা কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ মা মিনা বশির এর বড় কন্যা হোমায়রা বশির ও ছোটো ছেলে রাজা বশির। সম্প্রতি তারা পাকিস্তান আইডল বিচারক হিসেবে ছিলেন। এবং তাদের বাবা-মায়ের গাওয়া সুপারহিট গান ‘ওগো প্রিয়তমা’ দ্বৈত কন্ঠে গেয়ে পাকিস্তানিদের মুগ্ধ করেন।


বশির আহমদের  স্ত্রী মিনা বশির আরেকজন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। তাদের এক মেয়ে এক ছেলে- হোমায়রা বশির ও রাজা বশির। তারাও গানের মানুষ। বাবার কাছেই তাদের হাতেখড়ি ও গান শেখা। মিনা বশির নেপালি। তিনি কলকাতার বাংলা সিনেমা ‘পৃথিবী আমারে চায়’-এর নায়িকা মালা সিনহার চাচাতো বোন। ১৯৬৮ সালে বিয়ের আগে তার নাম ছিল লিলি সিনহা। তিনি ছিলেন রবীন্দ্র ভারতীর ছাত্রী।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বশির আহমেদ। ওই বছরই ৭ আগস্ট মিনা বশিরও মৃত্যুবরণ করেন।