০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বইমেলা: সরল স্বীকারোক্তি

  • আপডেট সময়: ১২:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • 3

এবারের বইমেলায় এখনও যাইনি। শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক পীড়ার কারণে। ২০২৫এর মাঝামাঝি সময় থেকেই একটা প্রকাশনী জলবায়ু বিষয়ে পাণ্ডুলিপি চেয়ে ফোন করেছিল। আমি না করে দিই। কারণ জলবায়ু নিয়ে অনেক লিখেছি। অনেক বই প্রকাশ করেছি। সাম্প্রতিককালে এই বিষয়টি নিয়ে লিখতে ক্লান্ত বোধ করছি। ক্লান্ত হওয়ার একটিই কারণ। কী হবে লিখে? জাতিসংঘের অসংখ্য জলবায়ু কনফারেন্স (কপ বা কনফারেন্স অব পার্টিজ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল কি একই নয়? প্রতি কপেই  কার্বন নিঃস্বরণ কমানোর বা তাপমাত্রা কমানোর বিষয়ে শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলো টালবাহানা করে আসছে। প্রতি কপেই বিতর্ক হয়। ফলে জোর দেয়া হয় জলবায়ু মোকাবেলায় ফান্ড সৃষ্টি বা সৃষ্ট ফান্ডের অংক বাড়াতে। তাতে কি অনুন্নত বিপন্ন দেশগুলো পশ্চিমাদের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে এর থাবা থেকে বাঁচতে পারবে সামান্য ফান্ড নিয়ে? উন্নত দেশগুলো গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালছে। ১৯৭২ সালে সুইডেনের রাজধানি স্টকহলমে মানব-পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনের ৫৩ বছর পর পরিবেশের, বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের পরিবেশ স্বাস্থ্যের কি কোনো উন্নতি হয়েছে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলন ও এর রেশ ধরে বড় বড় চুক্তি, প্রটোকল কোনোটাই কি বাস্তবায়িত হয়েছ? বরং বাংলাদেশ ধুঁকছে ভারসাম্যহীনতায় আর জলবায়ু উদ্বাস্তুর চাপে।

একটা জাদুবাস্তবীয় আদলের উপন্যাস লিখেছি ভারতীয় উপমহাদেশে দেশবিভাগ-পূর্ব ও বিভাগোত্তর সময়ের একজন ভয়ংকর জলদস্যুর সত্য ঘটনা নিয়ে।  তিনি একইসাথে ছিলেন মানবিক ও স্বদেশি। তাঁর জীবনকাল, চরিত্র, অ্যাকশন ও সাহসী ও জাদুবাস্তবীয় বীরগাথায় মুগ্ধ হয়ে তরতর করে উপন্যাসটি এগিয়ে নিয়ে যাই। এই উপন্যাস তৈরি ফরমায়েশকৃত। ওই জাদুবাস্তীয় জলদস্যুর নাতি, যিনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক, তাঁর পুত্র এই উপন্যাসটি রচনা করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন।

প্রায় একবছর পর তিনি জানান, তিনি আমার পাণ্ডুলিপিটি তার বাবাকে দিয়ে পড়িয়ে নিতে চমৎকারভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ‍এখন তার বাবা যদি না-ই পড়েন, তাহলে গ্রণ্থ প্রকাশিত হলে আমার লেখা উৎকৃষ্ট হলেও তিনি তাঁর জ্ঞানের পরিধিতে নানান জাতের মন্তব্য বা ‘ভুল’ তথ্য বের করার প্রয়াস নিতে পারেন। যদিও এরকম কোনো ভুল আমি করিনি সজ্ঞানে; বরং অমানুষিক পরিশ্রম করে, রাত জেগে আমার মনের মতো সাজিয়েছি আমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আরেকটি সৃষ্টি। এদিকে অমার প্রকাশক শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিলেন।

আসলে আমি সবসময়ই মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকি। আমার কোনো আপসোস নেই। নির্বুদ্ধিতা আছে। আমার উচিত ছিল আমার নতুন ও অপ্রকাশিত কিছু গল্প নিয়ে, বা অনেকদিন ধরে পরে থাকা আমার আরেকটি প্রিয় ও আরাধ্য  উপন্যাস ঘষা-মাজা করে পাণ্ডুলিপি তৈরি করে সময়ের সদ্ব্যবহার করা। অনেককেই দেখেছি, একসাথে অনেকগুলো বই প্রকাশ করে ফেলে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। আমি সেই দলে ছিলাম না, নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকব না। একটা নির্দিষ্ট সময় কাঠামোতে একটি বই লেখা যায়। সরস ও পাঠযোগ্য। সেই একইসময়ে অনেকগুলো বই লিখলে সেসবের গুণগত মান থাকার কথা নয়।


আরো পড়ুন

https://www.rokomari.com/book/184242/preyosee-o-golaper-kata


মেলা থেকে ফোন পেয়েছি লাইভ আলোচনার জন্য। দুয়েকজন আমাকে মেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু আমি অনেকদিন ধরেই নানান শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। মাঝখানে ক’দিন শরীরের তাপমাত্রা ১০২-১০৩এ ওঠানামা করেছে। বর্তমানে জ্বর ততটা না থাকলেও নানা কিসিমের শারীরিক জটিলতা ও দাওয়াই সেবনের মধ্য দিয়ে সময় পার করছি।

এবারের বইমেলাকে মিস করব।

-হাসান জাহিদ, কথাশিল্পী

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

বইমেলা: সরল স্বীকারোক্তি

আপডেট সময়: ১২:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

এবারের বইমেলায় এখনও যাইনি। শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক পীড়ার কারণে। ২০২৫এর মাঝামাঝি সময় থেকেই একটা প্রকাশনী জলবায়ু বিষয়ে পাণ্ডুলিপি চেয়ে ফোন করেছিল। আমি না করে দিই। কারণ জলবায়ু নিয়ে অনেক লিখেছি। অনেক বই প্রকাশ করেছি। সাম্প্রতিককালে এই বিষয়টি নিয়ে লিখতে ক্লান্ত বোধ করছি। ক্লান্ত হওয়ার একটিই কারণ। কী হবে লিখে? জাতিসংঘের অসংখ্য জলবায়ু কনফারেন্স (কপ বা কনফারেন্স অব পার্টিজ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল কি একই নয়? প্রতি কপেই  কার্বন নিঃস্বরণ কমানোর বা তাপমাত্রা কমানোর বিষয়ে শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলো টালবাহানা করে আসছে। প্রতি কপেই বিতর্ক হয়। ফলে জোর দেয়া হয় জলবায়ু মোকাবেলায় ফান্ড সৃষ্টি বা সৃষ্ট ফান্ডের অংক বাড়াতে। তাতে কি অনুন্নত বিপন্ন দেশগুলো পশ্চিমাদের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়ে এর থাবা থেকে বাঁচতে পারবে সামান্য ফান্ড নিয়ে? উন্নত দেশগুলো গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালছে। ১৯৭২ সালে সুইডেনের রাজধানি স্টকহলমে মানব-পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলনের ৫৩ বছর পর পরিবেশের, বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের পরিবেশ স্বাস্থ্যের কি কোনো উন্নতি হয়েছে। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলন ও এর রেশ ধরে বড় বড় চুক্তি, প্রটোকল কোনোটাই কি বাস্তবায়িত হয়েছ? বরং বাংলাদেশ ধুঁকছে ভারসাম্যহীনতায় আর জলবায়ু উদ্বাস্তুর চাপে।

একটা জাদুবাস্তবীয় আদলের উপন্যাস লিখেছি ভারতীয় উপমহাদেশে দেশবিভাগ-পূর্ব ও বিভাগোত্তর সময়ের একজন ভয়ংকর জলদস্যুর সত্য ঘটনা নিয়ে।  তিনি একইসাথে ছিলেন মানবিক ও স্বদেশি। তাঁর জীবনকাল, চরিত্র, অ্যাকশন ও সাহসী ও জাদুবাস্তবীয় বীরগাথায় মুগ্ধ হয়ে তরতর করে উপন্যাসটি এগিয়ে নিয়ে যাই। এই উপন্যাস তৈরি ফরমায়েশকৃত। ওই জাদুবাস্তীয় জলদস্যুর নাতি, যিনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক, তাঁর পুত্র এই উপন্যাসটি রচনা করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন।

প্রায় একবছর পর তিনি জানান, তিনি আমার পাণ্ডুলিপিটি তার বাবাকে দিয়ে পড়িয়ে নিতে চমৎকারভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ‍এখন তার বাবা যদি না-ই পড়েন, তাহলে গ্রণ্থ প্রকাশিত হলে আমার লেখা উৎকৃষ্ট হলেও তিনি তাঁর জ্ঞানের পরিধিতে নানান জাতের মন্তব্য বা ‘ভুল’ তথ্য বের করার প্রয়াস নিতে পারেন। যদিও এরকম কোনো ভুল আমি করিনি সজ্ঞানে; বরং অমানুষিক পরিশ্রম করে, রাত জেগে আমার মনের মতো সাজিয়েছি আমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আরেকটি সৃষ্টি। এদিকে অমার প্রকাশক শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিলেন।

আসলে আমি সবসময়ই মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকি। আমার কোনো আপসোস নেই। নির্বুদ্ধিতা আছে। আমার উচিত ছিল আমার নতুন ও অপ্রকাশিত কিছু গল্প নিয়ে, বা অনেকদিন ধরে পরে থাকা আমার আরেকটি প্রিয় ও আরাধ্য  উপন্যাস ঘষা-মাজা করে পাণ্ডুলিপি তৈরি করে সময়ের সদ্ব্যবহার করা। অনেককেই দেখেছি, একসাথে অনেকগুলো বই প্রকাশ করে ফেলে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। আমি সেই দলে ছিলাম না, নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকব না। একটা নির্দিষ্ট সময় কাঠামোতে একটি বই লেখা যায়। সরস ও পাঠযোগ্য। সেই একইসময়ে অনেকগুলো বই লিখলে সেসবের গুণগত মান থাকার কথা নয়।


আরো পড়ুন

https://www.rokomari.com/book/184242/preyosee-o-golaper-kata


মেলা থেকে ফোন পেয়েছি লাইভ আলোচনার জন্য। দুয়েকজন আমাকে মেলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু আমি অনেকদিন ধরেই নানান শারীরিক জটিলতায় ভুগছি। মাঝখানে ক’দিন শরীরের তাপমাত্রা ১০২-১০৩এ ওঠানামা করেছে। বর্তমানে জ্বর ততটা না থাকলেও নানা কিসিমের শারীরিক জটিলতা ও দাওয়াই সেবনের মধ্য দিয়ে সময় পার করছি।

এবারের বইমেলাকে মিস করব।

-হাসান জাহিদ, কথাশিল্পী