১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প

  • আপডেট সময়: ০২:০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • 3

বরাবরই উদ্ভট দাবি করার জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি দাবি করেছেন, ইরানের জনগণ তাকে তাদের সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চায়, কিন্তু তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কথা স্পষ্ট শুনেছি। তারা বলছে, আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা করতে চাই। আমি বলেছি, ধন্যবাদ। আমি এটা চাই না।’

তিনি তিনি আরও দাবি করেছেন, তেহরানের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছেন, কিন্তু দেশে বিদ্রোহের আশঙ্কায় তা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (তেহরানের কর্মকর্তারা) আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে মরিয়া। কিন্তু তারা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করছে, জানাজানি হলে নিজেদের জনগণের হাতেই তারা মারা পড়বে। আবার তারা আমাদের হাতে মারা পড়ার ভয়েও তটস্থ।’

এদিকে হোয়াইট হাউসও জোর দিয়ে বলেছে যে ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা চলছে, যদিও তেহরান প্রকাশ্যে মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ববাজারে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই সংঘাতের অবসানের জন্য নিজস্ব নতুন শর্ত দিয়েছে।

এছাড়াও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিওবার্তায় ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল- আনবিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম যোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাত্রা কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছেন?’

তিনি বলেন, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা তোমাদের নোংরা মন থেকে পুরোপুরি মুছে গেলেই আলোচনার পথ তৈরি হবে। প্রথম দিন থেকেই আমাদের প্রথম ও শেষ কথা ছিল, আছে এবং থাকবে: আমাদের মতো কেউ তোমাদের মতো কারো সাথে সমঝোতায় যাবে না। এখনও না, কখনওই না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন।

মার্কিন সবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনায় ইরানকে তার তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে এবং ইরানের মাটিতে যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এতে তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করতে, প্রক্সিদের প্রতি সমর্থন কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খুলে দিতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা করবে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইসলামাবাদ উভয়পক্ষ রাজি হলে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।

সূত্র: আরটি, এনডিটিভি

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প

ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প

আপডেট সময়: ০২:০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বরাবরই উদ্ভট দাবি করার জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি দাবি করেছেন, ইরানের জনগণ তাকে তাদের সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চায়, কিন্তু তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের কথা স্পষ্ট শুনেছি। তারা বলছে, আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা করতে চাই। আমি বলেছি, ধন্যবাদ। আমি এটা চাই না।’

তিনি তিনি আরও দাবি করেছেন, তেহরানের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছেন, কিন্তু দেশে বিদ্রোহের আশঙ্কায় তা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (তেহরানের কর্মকর্তারা) আলোচনা করছে এবং চুক্তি করতে মরিয়া। কিন্তু তারা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করছে, জানাজানি হলে নিজেদের জনগণের হাতেই তারা মারা পড়বে। আবার তারা আমাদের হাতে মারা পড়ার ভয়েও তটস্থ।’

এদিকে হোয়াইট হাউসও জোর দিয়ে বলেছে যে ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা চলছে, যদিও তেহরান প্রকাশ্যে মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ববাজারে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই সংঘাতের অবসানের জন্য নিজস্ব নতুন শর্ত দিয়েছে।

এছাড়াও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিওবার্তায় ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল- আনবিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম যোলফাকারি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাত্রা কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছেন?’

তিনি বলেন, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা তোমাদের নোংরা মন থেকে পুরোপুরি মুছে গেলেই আলোচনার পথ তৈরি হবে। প্রথম দিন থেকেই আমাদের প্রথম ও শেষ কথা ছিল, আছে এবং থাকবে: আমাদের মতো কেউ তোমাদের মতো কারো সাথে সমঝোতায় যাবে না। এখনও না, কখনওই না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন।

মার্কিন সবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনায় ইরানকে তার তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে এবং ইরানের মাটিতে যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এতে তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করতে, প্রক্সিদের প্রতি সমর্থন কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খুলে দিতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা করবে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইসলামাবাদ উভয়পক্ষ রাজি হলে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে।

সূত্র: আরটি, এনডিটিভি