সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
শনিবার( ২৮ মার্চ) ইরানের আধা সরকারি সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড- খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি বলেন, ‘আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, (ইরানের) সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত হামলা এবং এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার কারণে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ঘাঁটি থেকে পালিয়ে বাইরে লুকিয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় তাদের দুটি গোপন আস্তানা শনাক্ত করা হয়েছে। দুবাইতে অবস্থিত প্রথম আস্তানাতে ৪০০ জনেরও বেশি এবং দ্বিতীয়টিতে ১০০ জনেরও বেশি সদস্য ছিল। ইরানের ইসলামিক বিপ্লাবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনীর নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে উভয় আস্তানাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার ফলে তাদের ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।’
মুখপাত্রের আরও দাবি করেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে মৃত ও আহত মার্কিন কমান্ডার এবং সৈন্যদের পরিবহনে ব্যস্ত রয়েছে’।
জোলফাগারি সতর্ক করে বলেন, ‘ট্রাম্প এবং মার্কিন কমান্ডারদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, এই অঞ্চলটি মার্কিন সৈন্যদের জন্য একটি কবরস্থানে পরিণত হবে এবং ইরানের বীর জনগণ ও সাহসী যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’
এরআগে শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি) পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, যে-সব এলাকায় মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, সেই অঞ্চল থেকে যেন নাগরিকরা সরে যান। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হয়নি ওই হুঁশিয়ারিতে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে যৌথভাব ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে এসব দেশের সরকারি ভবন ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান।
সূত্র: তাসনিম নিউজ