০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে আরেকটি মার্কিন রণতরী

  • আপডেট সময়: ০২:১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • 4

ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’, যা এই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ৮০টিরও বেশি বিমান বহনে সক্ষম রণতরীতি মধ্যপ্রাচ্যের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় মোতায়েন করা হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে বলেন, রণতরীটি এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ চলতি মাসের শুরুতে মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং এখন তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যোগ দিতে পারে। এছাড়াও দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ডোনাল্ড কুক এবং ইউএসএস ম্যাসন—এই সপ্তাহে ইরানে চলমান মার্কিন অভিযানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় আরেকটি ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস রস, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, যদিও এর গন্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এরআগে ইরান যুদ্ধে বিশ্বের এবং নিজেদের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু গত ১২ মার্চ ইউএসএস ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন দু’জন সেনা এবং সেনাদের অন্তত ১০০টি বিছানা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়। এতে এই যুদ্ধে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের ভূমিকাকে থামিয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও গুরুতর সংকট দেখা দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে ত্রুটি থাকার কারণে টয়লেট উপচে বর্জ্য ওপরে উঠে আসায় জাহাজটির অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।


আরো পড়ুন

এবার ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামল আরেক দেশ

https://dhakamail.com/international/294683


ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের প্রকৌশলী টিম জানিয়েছে, এই ত্রুটি সারাতে হলে জাহাজ ডক-ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে হবে। মাঝ-সাগরে জাহাজটির মেরামত সম্ভব নয়। ফলে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্থগিত রেখে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির পথে রওনা হয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড। আগামী ১৪ মাসের জন্য সেখানেই বিশ্রামে থাকবে বিশাল এই যুদ্ধ জাহাজটি।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন আরেকটির বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এখনো লড়াই চালিয়েছে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে যত হামলা ও বিমান অভিযান হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড থেকে।

সূত্র: বিবিসি

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে আরেকটি মার্কিন রণতরী

আপডেট সময়: ০২:১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’, যা এই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ৮০টিরও বেশি বিমান বহনে সক্ষম রণতরীতি মধ্যপ্রাচ্যের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় মোতায়েন করা হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে বলেন, রণতরীটি এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ চলতি মাসের শুরুতে মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং এখন তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যোগ দিতে পারে। এছাড়াও দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ডোনাল্ড কুক এবং ইউএসএস ম্যাসন—এই সপ্তাহে ইরানে চলমান মার্কিন অভিযানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় আরেকটি ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস রস, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, যদিও এর গন্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এরআগে ইরান যুদ্ধে বিশ্বের এবং নিজেদের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু গত ১২ মার্চ ইউএসএস ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন দু’জন সেনা এবং সেনাদের অন্তত ১০০টি বিছানা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়। এতে এই যুদ্ধে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের ভূমিকাকে থামিয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও গুরুতর সংকট দেখা দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে ত্রুটি থাকার কারণে টয়লেট উপচে বর্জ্য ওপরে উঠে আসায় জাহাজটির অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।


আরো পড়ুন

এবার ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামল আরেক দেশ

https://dhakamail.com/international/294683


ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের প্রকৌশলী টিম জানিয়েছে, এই ত্রুটি সারাতে হলে জাহাজ ডক-ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে হবে। মাঝ-সাগরে জাহাজটির মেরামত সম্ভব নয়। ফলে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্থগিত রেখে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির পথে রওনা হয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড। আগামী ১৪ মাসের জন্য সেখানেই বিশ্রামে থাকবে বিশাল এই যুদ্ধ জাহাজটি।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন আরেকটির বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এখনো লড়াই চালিয়েছে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে যত হামলা ও বিমান অভিযান হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড থেকে।

সূত্র: বিবিসি