উত্তরাধুনিক ডেস্ক: জাতিসংঘের স্থায়ি প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা ১২বছরের চাকরি ছেড়ে দেন। তিনি মনে করছেন, জাতিসংঘ ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা হতে পারে–এরকম আশংকা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে জাতিসংঘে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।
ইরান যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও ইরানের অস্তিত্ব নির্ভর করছে মাত্র একটা সিদ্ধান্তের ওপর। ইসরায়েল-আমেরিকা যদি সিদ্ধান্ত নেয় ইরানে পারমাণবিক আঘাত হানবে, তাহলে ইরানের কিছু করার থাকবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে শান্তি আলোচনার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছেন। তিনি যদি কাপরুষ না হন, তাহলে নিউক আক্রমণ চালাবেন না। যাদও এটা শতভাগ নিশ্চিত নয়। কারণ একেকসময় তিনি একেক কথা বলছেন। নিউক হামলা চালানো হয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ওপর। তাঁর কাউন্টারপার্ট ইরান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ নয়। তবে তিনি ১০০০০ সেনা সদস্য পাঠিয়েছেন ইরানে গ্রাউন্ড ইনভেশনের জন্য। বিপরীতে ইরানের পক্ষে প্রস্তুত আছে দশলক্ষ সেনা। একজন পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ বলছেন, ইরানের দশলক্ষ সৈন্য মোকাবেলায় আমেরিকা-ইসরায়েলেরও দশলক্ষ সেনা প্রয়োজন পড়বে।
ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান দুর্গম। তারা প্ল্যানমাফিক চলে। তাদের আছে ডিসেন্ট্রালাইজড ওয়ার স্ট্র্যটেজি। তাদের রিজিম একটা চেইন অব কমান্ড। একজন নেতা শহীদ হলে আরেকজন হাল ধরেন। ট্রাম্প বিবেক-বুদ্ধি সব হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি মনে করিয়ে দিয়েছেন হিরোশিমা-নাগাসাকিতে অ্যাটম বোমা নিক্ষেপের কথা! জাপানের দোষ ছিল তারা আমেরিকার পার্ল হারবার ধ্বংস করে দিয়েছিল। জাপানের পারমাণবিক বোমা থাকলে প্রতিশোধ হিসেবে তারাও অ্যাটম ফেলত আমেরিকায়।
যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত কোন যুদ্ধটি জিতেছে? ভিয়েতনামে তারা হেরেছে। কোরীয় যুদ্ধে মার খেয়েছে। আফাগনিাস্তান থেকে পিছু হটেছিল। ২০০৩ সালে ইরাক বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার ও উয়িপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন বানাচ্ছে অজুহাতে বহুজাতিক বাহিনি বানিয়ে ইরাককে ধ্বংস করে। সেখানেও আমেরিকার পরাজয় ঘটে। সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়। পরে পুরো বিশ্বে ঢি ঢি পড়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে। যে অজুহাতে বুশ আক্রমণ করে তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়। সেই অর্থে ইরাকেও তাদের নৈতিক পরাজয় হয়।
কেউ যদি ইসরায়েল ও আমেরিকাকে ঠেকাতে না পারে, তাহলে আমেরিকা-ইসরায়েলের জনরোষে দমবন্ধ হয়ে মারা যাবে এই দুই রক্ত-পিপাসু শিশু হত্যাকারী পিশাচ।