০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে কেন বাংলাদেশি জাহাজ আটকে দিলো ইরান?

  • আপডেট সময়: ০৩:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • 3

জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আটকে দিয়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। তবে প্রায় ৪০ ঘণ্টা জাহাজ চালিয়ে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলেও ইরান জাহাজটিকে পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে জাহাজটি ঘুরিয়ে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। তবে যুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি ইরান জানায়, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না তারা। এই খবরে জ্বালানির তীব্র সংকটের মধ্যে দেশে কিছুটা স্বস্তি দেখা দেয়। গত বুধবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হওয়ার পর সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যেই বাংলাদেশি জাহাজ আটকে দেওয়ার খবরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলার পরও ইরান জাহাজটি কেন আটকে দিলো সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ঠিক কী কারণে জাহাজটি আটকে দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল কেউ এ ব্যাপারে কিছু জানাননি।


হরমুজে অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, ফিরে যাচ্ছে শারজা বন্দরে


তবে জাহাজ আটকে দেওয়ার খবর নিশ্চিত করে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত। ‘জয়যাত্রা’ এখনো হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

তবে ইরান কারণ না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক করছে না ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ একদমই কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ এ পথ পার হতে পেরেছে। সম্ভবত এই কারণেই বাংলাদেশের জাহাজ বাধার মুখে পড়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) লারাক দ্বীপের চারপাশের ইরানি জলসীমা ব্যবহার করে যাতায়াত করতে বলেছে। তাদের দাবি, সাধারণ পথে নৌ-মাইন থাকার ঝুঁকি এড়াতে এই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে।

আইআরজিসি-র নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হতে হবে।

তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যামব্রে’ সতর্ক করেছে যে, ইরান অনুমোদিত নয় এমন জাহাজ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোকেও মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কারণেই বাংলাদেশি জাহাজ বাধার মুখে পড়েছে।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

লাসলো ক্রাসনাহোরকাই: বিশ্বনন্দিত কথাসাহিত্যিকের নোবেল অর্জন

হরমুজ প্রণালিতে কেন বাংলাদেশি জাহাজ আটকে দিলো ইরান?

আপডেট সময়: ০৩:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আটকে দিয়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ৪০ দিন ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। তবে প্রায় ৪০ ঘণ্টা জাহাজ চালিয়ে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলেও ইরান জাহাজটিকে পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে জাহাজটি ঘুরিয়ে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলার শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। তবে যুদ্ধের মধ্যেই সম্প্রতি ইরান জানায়, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না তারা। এই খবরে জ্বালানির তীব্র সংকটের মধ্যে দেশে কিছুটা স্বস্তি দেখা দেয়। গত বুধবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হওয়ার পর সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যেই বাংলাদেশি জাহাজ আটকে দেওয়ার খবরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলার পরও ইরান জাহাজটি কেন আটকে দিলো সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ঠিক কী কারণে জাহাজটি আটকে দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল কেউ এ ব্যাপারে কিছু জানাননি।


হরমুজে অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, ফিরে যাচ্ছে শারজা বন্দরে


তবে জাহাজ আটকে দেওয়ার খবর নিশ্চিত করে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত। ‘জয়যাত্রা’ এখনো হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

তবে ইরান কারণ না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক করছে না ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ একদমই কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ এ পথ পার হতে পেরেছে। সম্ভবত এই কারণেই বাংলাদেশের জাহাজ বাধার মুখে পড়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) লারাক দ্বীপের চারপাশের ইরানি জলসীমা ব্যবহার করে যাতায়াত করতে বলেছে। তাদের দাবি, সাধারণ পথে নৌ-মাইন থাকার ঝুঁকি এড়াতে এই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে।

আইআরজিসি-র নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হতে হবে।

তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যামব্রে’ সতর্ক করেছে যে, ইরান অনুমোদিত নয় এমন জাহাজ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোকেও মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কারণেই বাংলাদেশি জাহাজ বাধার মুখে পড়েছে।