হাসান জাহিদ
আজ ১৯ এপ্রিল। ২০১৪ সালের এই দিনে কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ লক্ষ শ্রোতা-ভক্ত ও স্বজনদের কাঁদিয়ে চলে যান চিরতরে।
দেশের সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ। তাকে মরণোত্তর সম্মাননা দিয়েছে সরকার। পুরস্কারটি নিয়েছেন সংগীতশিল্পী বশির আহমেদের পক্ষে তার মেয়ে হুমায়রা বশির।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে প্রয়াত বাবা’র পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করছেন হোমায়রা বশির
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিতে গেল বৃহস্পতিবার বিকালে এ বছরের মনোনীতদের পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
পুরস্কার নিতে বশির আহমেদের ছেলে রাজা বশির ও মেয়ে হুমায়রা সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন অনুষ্ঠানে।
পুরস্কার গ্রহণের আগে হোমায়রা বলেন, ‘আমরা দুই ভাইবোন পাপার পক্ষ থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেছি। পাপা, আম্মি বেঁচে থাকলে উনাদের বলতাম আপনাদের সন্তান হতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। পাপাকে নিয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত।'
‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘আমার খাতার প্রতি পাতায়’, ‘যারে যাবি যদি যা’, ‘ওগো প্রিয়তমা’, ‘ডেকো না আমারে তুমি’, সহ বহু কালজয়ী গানের শিল্পী ও সুরকার বশির আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার ও হৃদরোগে ভোগার পর ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল ৭৪ বছর বয়সে মারা যান।
তাঁর স্ত্রী প্রয়াত মিনা বশির ছিলেন সংগীতের আরেক দিকপাল। তাঁদের সন্তান বড় কন্যা হোমায়রা বশির ও ছোটো ছেলে রাজা বশির বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের জন্য ২০০৫ সালে একুশে পদক পান তিনি।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে।
তার মধ্যে ছিল প্রখর সেন্স অব হিউমার। একইসাথে গাম্ভীর্যে ভরা এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। তার ভেতরটা যারা দেখতে পেয়েছেন, তারা জানেন, তার মধ্যে ছিল পাহাড়সমান উদারতা।
অনেককেই তিনি নিজকে উজাড় করে দিয়ে শিল্পী বানিয়ে গেছেন। তার অহংকার ছিল না; ছিল অহংবোধ, যেটা তার থাকা দরকার ছিল। একইসাথে দরাজ, রোম্যান্টিক, দরদী গলা ও অনন্য গায়কী, তার সাথে মিশেল ছিল গান, রাগ-রাগিণী ও ক্লাসিক্যালে তার অতুলনীয় জ্ঞান। প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী তিমির নন্দী এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন কবে থেকে তিনি গান করেন। তিনি বলেছিলেন, যখন থেকে তার সেন্স হয় তখন থেকে। আর তার এই সেন্স থেকে গান করা শুরু হয় মায়ের ঘুমপাড়ানি গান শুনে শুনে।
আমি ওস্তাদজীর নগণ্য একজন ছাত্র ছিলাম। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন, যত্ন করে শেখাতেন। তার ঋণ কোনোদিন শোধ করার নয়। শুধু আমি কেন, অনেককেই ঋণী করে গেছেন তিনি।