নদী দখল। ফাইল ছবি
সারাদেশে নদ-নদীর ২১ হাজার ৯৮২ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের তালিকা চূড়ান্ত করে দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, নদ-নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের লক্ষ্যে সব জেলা প্রশাসকদের কাছে কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। অবিলম্বে উচ্ছেদযোগ্য তালিকা পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
এদিকে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নেই। তবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দেশি-বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন টার্মিনাল দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটর পরিচালনা করছে এবং লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক মার্কস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
অন্যদিকে ফেরি চলাচল বিষয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৪৭টি ফেরি চলাচল উপযোগী রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি রো-রো, ১৬টি মিডিয়াম, ৮টি ইমপ্রুভড মিডিয়াম এবং ১১টি ইউটিলিটি ফেরি।
এছাড়া বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ছয়টি নতুন ইউটিলিটি ফেরি নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে। পুরনো ফেরি প্রতিস্থাপনে আরও ১৫টি মিডিয়াম ও পাঁচটি ইউটিলিটি ফেরি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বন্দরটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী বছরের শুরুতে এটি সম্পূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।