প্রতীকী ছবি
জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির নামে প্রতারণাকারী ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন।
জানা গেছে, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি ও কণ্ঠস্বর নকলের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার ভিডিও ও কণ্ঠ ক্লোন করে বিভিন্ন ওষুধি পণ্য ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সেবার বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া
গত ৭ এপ্রিল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মিজানুর রহমান আজহারী।
তিনি জানান, দুই মাস আগেও তিনি এই প্রতারক চক্রকে নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তখন কিছুদিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখন আবারও নতুন করে প্রতারণা শুরু হয়েছে। চক্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ছবি ও কণ্ঠ হুবহু নকল করে হাজার হাজার ভুয়া প্রোমোশন ও বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে সংশ্লিষ্ট পেজ ও কনটেন্ট অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতারকদের সতর্ক করে আজহারী বলেছিলেন, ‘দেশ বা বিদেশের যেখানেই থাকুন না কেন, আপনাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট শনাক্ত করার কাজ চলছে। কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘অনলাইনে কোনো বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার আগে আমাদের অফিসিয়াল সোর্স থেকে সত্যতা যাচাই করে নিন।’
তিনি স্পষ্ট জানান, তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কিংবা তার প্রতিষ্ঠিত হাসানাহ ফাউন্ডেশন থেকে কোনো ধরনের ওষুধি পণ্য বা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের প্রচারণা করা হয় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব বিজ্ঞাপনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।