-বোরো ধান ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে অকাল বন্যার আঘাতে ডুবে যায় কৃষকের স্বপ্ন
-প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪২৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা
-১৩টি নদী খননের পরিকল্পনা
-এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টন ধান রক্ষার সম্ভাবনা
-মোট ব্যয়ের ৮৭ শতাংশ নদী খননে বরাদ্দ
-স্বচ্ছতা ও সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ কিংবা মৌলভীবাজারসহ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর জনপদে এখন একটাই দৃশ্য; পানি আর আতঙ্ক। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে অকাল বন্যার আঘাতে ডুবে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। এই পুনরাবৃত্ত সংকটের মধ্যেই হাওরের কৃষিজমি রক্ষা ও আগাম বন্যার ঝুঁকি কমাতে ৩০৩ কিলোমিটার নদী খননের একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।
‘হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগকে ঘিরে হাওরাঞ্চলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে, আবার একই সঙ্গে বাস্তবায়ন সক্ষমতা, ব্যয় কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এই অঞ্চলটি প্রতিবছরই আগাম বন্যার কারণে ভয়াবহ ফসলহানির মুখে পড়ে, যা সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চলকে দেশের ‘ধানের ভাণ্ডার’ বলা হয়। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ এই অঞ্চল বোরো ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং পাহাড়ি ঢল থেকে আসা অতিরিক্ত পানির কারণে প্রতিবছরই ফসল ঝুঁকির মুখে পড়ে। মার্চ-এপ্রিল মাসে ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যাওয়া এই অঞ্চলের একটি পুনরাবৃত্ত সংকট।
প্রতিদিন কমছে কৃষিজমি, সংকটে কৃষক
এই বাস্তবতার মধ্যেই নতুন প্রকল্পটি সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটি ‘হাওর এলাকায় আগাম বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে বাস্তবায়িত হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জ জেলার ১০টি উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলা এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে।
দেশের খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হাওর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনার দ্বৈত চাপে ভুগছে। অতিভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতি বছরই বোরো মৌসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিভিন্ন কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানির নিচে চলে গেছে। মৌলভীবাজারে প্রায় ৮৯৭ হেক্টর, হবিগঞ্জে তিন হাজার তিনশ থেকে সাত হাজার হেক্টর পর্যন্ত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বড় একটি অংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সুনামগঞ্জে প্রায় ৬০০ হেক্টর পাকা ধান এবং নেত্রকোনায় পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে।

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার, শনির, নলুয়ার, মাটিয়ান, ওলিয়ার ও হাইল হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক কৃষক নৌকায় করে জীবন বাজি রেখে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই ক্ষতি শুধু কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি সরাসরি জাতীয় খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।
ফসলহানির অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে চালের সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম বাড়ে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। একই সঙ্গে কৃষকেরা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন, কিন্তু ফসল নষ্ট হওয়ায় তা পরিশোধ করতে না পেরে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যের চক্রে আটকে যান।
এই প্রেক্ষাপটে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘হাওর এলাকায় আগাম বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার ১৬টি উপজেলায় নদী ও খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে ১৩টি নদীর মোট ৩০৩ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার খনন করা হবে। পাশাপাশি ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য এই প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩০ হেক্টর কৃষিজমিকে আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত করা এবং প্রায় ১৫ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন রক্ষা করা সম্ভব হবে। হাওরের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে এই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হলে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সুফল পাওয়া যাবে। নদ-নদীর ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে আগাম বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে, ফলে বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।

তারা আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ ডুবন্ত বাঁধ সিসি ব্লক আর্মারিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হলে প্রতিবছরের ভাঙন ও মেরামতের চাপ কমবে। একই সঙ্গে ফ্লাড ফিউজ নির্মাণ ও খাল খননের ফলে হাওরের নৌচলাচল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশই নদী খনন কার্যক্রমে ব্যয় হবে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, ডুবন্ত বাঁধ শক্তিশালীকরণ, ফ্লাড ফিউজ নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায়ও উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধে সিসি ব্লক আর্মারিং করা হবে এবং ১২টি ফ্লাড ফিউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অংশ হলো নদী খনন। মোট ব্যয়ের প্রায় ৮৭ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নদীগুলোর ৩০৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে, যাতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায় এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। পাশাপাশি ৬৪ মিলিয়নের বেশি ঘনমিটার মাটি উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই খনন ব্যয়ের ইউনিট কস্ট নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি ঘনমিটার খননের ব্যয় অন্যান্য সমজাতীয় প্রকল্পের তুলনায় অনেক বেশি। এই পার্থক্য কেন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে খননকৃত মাটি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ও সুপারিশ উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষি উৎপাদন কতটা বাড়বে, কত হেক্টর জমি স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত হবে এবং কৃষকদের আয় কতটা বৃদ্ধি পাবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা। পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদনের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও পরে কতজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, খাল খননের পর রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে করা হবে, ড্রেজিং থেকে উত্তোলিত মাটি কোথায় এবং কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে—এসব বিষয়েও সভায় আলোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন আরও বলেছে, পূর্ববর্তী পিইসি সভায় প্রকল্পের মেয়াদ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত নির্ধারণের সিদ্ধান্ত থাকলেও পুনর্গঠিত প্রস্তাবে মেয়াদ পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এ পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনর্গঠিত ডিপিপি দাখিল না করার কারণও সভায় স্পষ্ট করতে হবে।

এছাড়া পূর্বের প্রস্তাবে সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলা থাকলেও নতুন প্রস্তাবে ১০টি উপজেলা উল্লেখ করে অতিরিক্তভাবে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলা যুক্ত করা হয়েছে। এ পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়েও আলোচনা হবে। প্রকল্পটি পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী ‘লাল’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় এটি বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের পানি সম্পদ ও সেচ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি যথাযথভাবে পুনর্গঠিত ডিপিপি প্রেরণের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় পুনরায় পিইসি সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র নদী খননই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। হাওর অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত বিষয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, হিজল-করচ বন সংরক্ষণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন একসঙ্গে না হলে আগাম বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি কমবে না। তারা বলছেন, প্রতিবছরই একই ধরনের ক্ষতির পুনরাবৃত্তি হওয়ায় শুধু অবকাঠামো নয়, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা প্রতিবারই ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। কেউ কেউ নৌকায় করে পানি ভেঙে ধান কাটার চেষ্টা করেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা ফসল রক্ষা করতে সক্ষম হন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি হয় যে তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নদী খনন প্রকল্পকে কৃষকেরা সম্ভাবনার একটি নতুন দিক হিসেবে দেখছেন। যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে হাওরের কৃষি উৎপাদন অনেক বেশি স্থিতিশীল হতে পারে এবং প্রতিবছরের অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমে আসবে।

তবে একই সঙ্গে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে এই ধরনের বড় প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, হাওরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হাওরের কৃষিজমি রক্ষায় ৩০৩ কিলোমিটার নদী খননের প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি সফল হলে হাওরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিক মনিটরিংয়ের বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারলেই হাওরের কৃষি ভবিষ্যৎ সত্যিকার অর্থে নিরাপদ হতে পারে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি কাশ্মীর রেজা বলেছেন, নদী খনন ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, সাধারণত দেখা যায় বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার পরই এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং বন্যা মৌসুম শেষ হলে এর অগ্রাধিকার কমে যায়। দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি, যা উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের আহ্বান জানান এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।