
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গোষ্ঠীটির মহাসচিব নাঈম কাসেম।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, তাবতাবাইকে হত্যা ‘স্পষ্ট আগ্রাসন ও নৃশংস অপরাধ’। এই হত্যার জবাব দেওয়ার অধিকার হিজবুল্লাহর রয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর লেবাননের বৈরুতের ইসরায়েলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফ হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত হন। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ দুই পক্ষই তাবাতাবাই হত্যার খবর নিশ্চিত করেছে।
হিজবুল্লাহপ্রধান বলেন, ‘আমরা এই হত্যার জবাব দেব, কখন জবাব দেওয়া হবে সময় আমরাই নির্ধারণ করব। ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে— এ সম্ভাবনা আছে, আবার নাও থাকতে পারে।’
নতুন যুদ্ধে হিজবুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে নাঈম কাসেম সরাসরি কিছু বলেননি, তবে লেবাননকে ইসরায়েলের মোকাবিলায় ‘নিজের সেনাবাহিনী ও জনগণের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পোপ লিওর আসন্ন লেবানন সফর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে ভূমিকা রাখবে।
হিজবুল্লাহ নেতা দাবি করেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে হিজবুল্লাহ, অন্যদিকে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে লেবানন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, তাবতাবাই চারজন সহযোগীকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছিলেন— এ সময় তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এদিকে হিজবুল্লাহ মহাসচিবের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র আভিচায় আড্রেয়ি বলেন, ‘লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অস্ত্র জব্দে লেবানন সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা ‘অপর্যাপ্ত’। ‘হিজবুল্লাহ এখনও গোপনে অস্ত্র মজুত করছে এবং সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করছে।’
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে হামলা চালানো এবং দক্ষিণের পাঁচটি স্থানে সেনা মোতায়েন রাখার কারণে সংগঠনটি কোনোভাবেই নিরস্ত্র হতে রাজি নয়।
ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈরুতেও আঘাত হেনেছে। তবে তাবতাবাইকে হত্যার আগ পর্যন্ত রাজধানীতে দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের হামলা হয়নি।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আল জাজিরা















