
২৮ ডিসেম্বর মায়ানমারের ইয়াঙ্গুনে মায়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা করছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। ছবি: রয়টার্স
মায়ানমারের ক্ষমতাসীন সেনাবাহিনী-সমর্থিত প্রধান দল প্রথম ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক জয় দাবি করেছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন এক শীর্ষ দলীয় কর্মকর্তা। এ নির্বাচনের বিষয়ে গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকদের সতর্কতা ছিল, এটি সামরিক শাসনকেই আরো পোক্ত করবে।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছিল, তবে রবিবার তারা এক মাসব্যাপী ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু করেছে, যা জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) এক শীর্ষ সদস্য বলেন, ‘যেসব টাউনশিপে গণনা শেষ হয়েছে, সেখানে আমরা নিম্নকক্ষের ১০২টির মধ্যে ৮২টি আসনে জিতেছি।’
এটি ইঙ্গিত করে, বিশ্লেষকদের কাছে যেটি অনেকাংশে সামরিক বাহিনীর বেসামরিক প্রক্সি হিসেবে বিবেচিত—সেই দলটি রবিবার ভোটে ওঠা নিম্নকক্ষের আসনের ৮০ শতাংশের বেশি দখল করেছে।
তিনি আরো জানান, রাজধানী নেপিডোর আটটি টাউনশিপেই তারা জয় পেয়েছে। তবে ফল প্রকাশের অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।
২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কাছে বিশাল পরাজয় দেখেছিল ইউএসডিপি।
নোবেলজয়ী সু চি অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক রয়েছেন, যা একটি গৃহযুদ্ধ উসকে দেয়।
অভিযানকর্মী, পশ্চিমা কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বিরোধীদের ওপর কঠোর দমনপীড়ন এবং প্রার্থী তালিকায় শাসকপক্ষের মিত্রদের আধিক্যের কথা তুলে ধরে ভোটের সমালোচনা করেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক মরগান মাইকেলস বলেন, ‘ইউএসডিপির আধিপত্য করা যুক্তিযুক্ত মনে হয়।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তারা আগেই ফাঁদ পেতে রাখে—বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করে, নিশ্চিত করে যে কিছু মানুষ ভোট দিতে না আসে, অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্দিষ্টভাবে ভোট দিতে বাধ্য করে।’
মায়ানমারের ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি। আরো দুটি ধাপ ১১ ও ২৫ জানুয়ারির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দা মিন খান্ট সোমবার বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমার মত পরিষ্কার : আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না।’
২৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা একনায়কতন্ত্রের অধীনে বেঁচে আছি।
তারা যদি নির্বাচন করেও, আমি মনে করি না ভালো কিছু হবে—কারণ তারা সবসময় মিথ্যা বলে।’
ভোট দেওয়ার পর রবিবার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ওপরই বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভরসা করা যায়।
তিনি নেপিদোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একটি মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করি। এটি সেনাবাহিনীর আয়োজন—আমরা আমাদের নাম কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না।’
অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থী কর্মীরা গেরিলা ইউনিট গঠন করে, বহুদিন ধরে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়ে আসা জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
রবিবারের নির্বাচন দেশটির ৩৩০টির মধ্যে ১০২টি টাউনশিপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল—যা তিন ধাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাপ।
তবে চলমান যুদ্ধে, নিম্নকক্ষের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসনে নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছে সেনাবাহিনী।

























