০৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইয়েমেনে ফের সৌদি জোটের বিমান হামলা, নিহত ৭

  • আপডেট সময়: ০৪:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • 116

ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউথ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে আবারো বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এই হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এসটিসির একজন কর্মকর্তা।

ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ কিজান আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, শুক্রবার হাদরামাউত প্রদেশে সামরিক অবস্থান দখলের সময় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর পথে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অতর্কিত হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই বিমান হামলা চালানো হয়।

ওয়াদি হাদরামাউত এবং হাদরামাউত মরুভূমি অঞ্চলের এসটিসি প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক জানিয়েছেন, আল-খাসাহের একটি শিবিরে সাতটি বিমান হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের এক বাতায় বলেছেন, ‘ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ বন্ধ করতে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাদরামাউত ও আল-মাহরা ছেড়ে যাওয়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এসটিসিকে আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু এসটিসি প্রধান আইদারাস আল-জুবাইদির ক্রমাগত একগুঁয়েমির কারণে তাদের এই পরিস্থিতি মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

অন্যদিকে এসটিসির মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ ইয়েমেনে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ আগ্রাসনের একটি ঘটনা। এর অর্থ হল সৌদি-ইয়েমেন প্রেসিডেন্সিয়াল শেষ হয়ে গেছে এবং আরব জোটও শেষ হয়ে গেছে।’

এরআগে গত বুধবার হাদরামাউতের গভর্নরেটে মুকাল্লা বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাঠানো অস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ‘সীমিত’ বিমান হামলা চালায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

ওই হামলার বিয়য়ে সৌদি-ইয়েমেন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের জোট বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আগত দুটি জাহাজ ২৭-২৮ ডিসেম্বর জোটের যৌথ বাহিনী কমান্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই মুকাল্লা বন্দরে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, ‘দুটি জাহাজের ক্রুরা জাহাজগুলোর ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত এবং মাহরা প্রদেশে দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র এবং যুদ্ধযান নিয়ে আসে, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে। এটি যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার স্পষ্ট লঙ্ঘন, পাশাপাশি ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব (২২১৬)-এরও লঙ্ঘন।’

মূলত, গত ৯ ডিসেম্বর প্রধান আইদারাস আল-জুবাইদির হাদরামাউত এবং আল মাহরাহ প্রদেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মকাণ্ডকে ‘অযৌক্তিক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে নিন্দা করে এবং এসটিসিকে দুটি অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইয়েমেনের ক্ষমতায় থাকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান সমর্থক দেশ সৌদি আরব। ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত; যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও রয়েছেন। ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসছে শ্রীলঙ্কা নারী দল

ইয়েমেনে ফের সৌদি জোটের বিমান হামলা, নিহত ৭

আপডেট সময়: ০৪:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউথ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে আবারো বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। এই হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এসটিসির একজন কর্মকর্তা।

ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ কিজান আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, শুক্রবার হাদরামাউত প্রদেশে সামরিক অবস্থান দখলের সময় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর পথে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অতর্কিত হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই বিমান হামলা চালানো হয়।

ওয়াদি হাদরামাউত এবং হাদরামাউত মরুভূমি অঞ্চলের এসটিসি প্রধান মোহাম্মদ আব্দুলমালিক জানিয়েছেন, আল-খাসাহের একটি শিবিরে সাতটি বিমান হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের এক বাতায় বলেছেন, ‘ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ বন্ধ করতে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাদরামাউত ও আল-মাহরা ছেড়ে যাওয়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এসটিসিকে আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু এসটিসি প্রধান আইদারাস আল-জুবাইদির ক্রমাগত একগুঁয়েমির কারণে তাদের এই পরিস্থিতি মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

অন্যদিকে এসটিসির মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ ইয়েমেনে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ আগ্রাসনের একটি ঘটনা। এর অর্থ হল সৌদি-ইয়েমেন প্রেসিডেন্সিয়াল শেষ হয়ে গেছে এবং আরব জোটও শেষ হয়ে গেছে।’

এরআগে গত বুধবার হাদরামাউতের গভর্নরেটে মুকাল্লা বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাঠানো অস্ত্র এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে ‘সীমিত’ বিমান হামলা চালায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।

ওই হামলার বিয়য়ে সৌদি-ইয়েমেন প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের জোট বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আগত দুটি জাহাজ ২৭-২৮ ডিসেম্বর জোটের যৌথ বাহিনী কমান্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই মুকাল্লা বন্দরে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, ‘দুটি জাহাজের ক্রুরা জাহাজগুলোর ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত এবং মাহরা প্রদেশে দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র এবং যুদ্ধযান নিয়ে আসে, যা সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে। এটি যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার স্পষ্ট লঙ্ঘন, পাশাপাশি ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব (২২১৬)-এরও লঙ্ঘন।’

মূলত, গত ৯ ডিসেম্বর প্রধান আইদারাস আল-জুবাইদির হাদরামাউত এবং আল মাহরাহ প্রদেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মকাণ্ডকে ‘অযৌক্তিক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে নিন্দা করে এবং এসটিসিকে দুটি অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইয়েমেনের ক্ষমতায় থাকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান সমর্থক দেশ সৌদি আরব। ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত; যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও রয়েছেন। ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু