
বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। জাভেদের প্রয়াণে সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে তার সহধর্মিণী ও এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীর জীবনে। তাদের এই দীর্ঘ পথচলার শুরুটা ছিল সিনেমার গল্পের মতো। শুটিং সেটে প্রেম, এরপর পরিণয়।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ইবনে মিজান নির্মাণ করছিলেন ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’। এই ছবির সেটেই প্রথম কাছাকাছি আসেন নায়ক জাভেদ এবং নায়িকা ডলি চৌধুরী। রুপালি পর্দায় তাদের রসায়ন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকরা। সিনেমার অ্যাকশন, নাচ আর রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে একে অপরের মনে জায়গা করে নেন। সেই ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে ১৯৮৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর ডলি চৌধুরী অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে জাভেদের ছায়াসঙ্গী হয়ে পাশে থেকেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন অভিনেতা। এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে ছিলেন। আজ সকালে জাভেদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে তারকা জুটির ৪২ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটেছে।
আফগানিস্তানে জন্ম, নায়ক হওয়ার নেশায় এই দেশে আসেন জাভেদ
জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে ক্যারিয়ারের খাতা খুলেছিলেন। পরে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে।
১৯৬৮ সালে জাভেদ অভিনীত প্রথম উর্দু সিনেমা ‘পায়েল’ সিনেমা মুক্তি পায়। এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক তার। পরিচালক মুস্তাফিজ তার নাম দেন জাভেদ।
জাভেদ অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল, রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা,রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ উল্লেখযোগ্য।



























