০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বয়কট করে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঠিক কাজই করেছে: সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক

  • আপডেট সময়: ০২:২১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 1

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্ব ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া এবং পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় চাপে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন।

এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও, পরে বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) রহস্যজনকভাবে সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, তারা ভারত সফরে যাবে না। এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়।

আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে একপাক্ষিক বলে আখ্যা দিয়েছেন নাসের হুসেইন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইসিসি কি ভারতের ক্ষেত্রেও এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারত? যদি ভারত সরকার টুর্নামেন্টের এক মাস আগে বলত তারা নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলবে না, তখন কি আইসিসি তাদের বাদ দেওয়ার সাহস দেখাত?”

নাসের মতে, সবাই শুধু স্বচ্ছতা ও সমতা চায়। তিনি বলেন, “অনেকে বলতে পারে ভারতের টাকা আছে, তাই তারা শক্তিশালী। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। বারবার যদি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে কোণঠাসা করা হয়, তাহলে তাদের ক্রিকেট দুর্বল হয়ে পড়বে। ভারত-বাংলাদেশ বা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ একপাক্ষিক হওয়ার এটাও একটা বড় কারণ।”

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থানের প্রশংসাও করেছেন নাসের হুসেইন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড় মুস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমার ভালো লেগেছে। পাকিস্তান যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ইতিবাচক। কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে, অনেক হয়েছে, এবার রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলতে দিন।”

এরই মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। যদিও বিসিসিআই দাবি করছে, ভারত ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কা যেতে প্রস্তুত, কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দেশটির সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতির জন্য বিসিসিআই-এর দাদাগিরিকেই দায়ী করেছেন সাবেক পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠি। তার অভিযোগ, ভারত সবসময় অন্য বোর্ডগুলোকে চাপ দিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়।

সব মিলিয়ে, মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন মাঠের বাইরের রাজনীতি ও কূটনীতি বেশি আলোচনায়। ২০ দলের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এমন অচলাবস্থা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন নাসের হুসেইন।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে ধোঁয়াশা

বয়কট করে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঠিক কাজই করেছে: সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক

আপডেট সময়: ০২:২১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্ব ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অস্থিরতা। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া এবং পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় চাপে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন।

এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও, পরে বিসিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) রহস্যজনকভাবে সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, তারা ভারত সফরে যাবে না। এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়।

আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে একপাক্ষিক বলে আখ্যা দিয়েছেন নাসের হুসেইন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইসিসি কি ভারতের ক্ষেত্রেও এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারত? যদি ভারত সরকার টুর্নামেন্টের এক মাস আগে বলত তারা নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলবে না, তখন কি আইসিসি তাদের বাদ দেওয়ার সাহস দেখাত?”

নাসের মতে, সবাই শুধু স্বচ্ছতা ও সমতা চায়। তিনি বলেন, “অনেকে বলতে পারে ভারতের টাকা আছে, তাই তারা শক্তিশালী। কিন্তু ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। বারবার যদি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে কোণঠাসা করা হয়, তাহলে তাদের ক্রিকেট দুর্বল হয়ে পড়বে। ভারত-বাংলাদেশ বা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ একপাক্ষিক হওয়ার এটাও একটা বড় কারণ।”

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থানের প্রশংসাও করেছেন নাসের হুসেইন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড় মুস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা আমার ভালো লেগেছে। পাকিস্তান যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ইতিবাচক। কাউকে না কাউকে তো বলতে হবে, অনেক হয়েছে, এবার রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্রিকেট খেলতে দিন।”

এরই মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। যদিও বিসিসিআই দাবি করছে, ভারত ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কা যেতে প্রস্তুত, কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দেশটির সিদ্ধান্তে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতির জন্য বিসিসিআই-এর দাদাগিরিকেই দায়ী করেছেন সাবেক পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠি। তার অভিযোগ, ভারত সবসময় অন্য বোর্ডগুলোকে চাপ দিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেয়।

সব মিলিয়ে, মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন মাঠের বাইরের রাজনীতি ও কূটনীতি বেশি আলোচনায়। ২০ দলের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এমন অচলাবস্থা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন নাসের হুসেইন।