০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কোলাঞ্জাইটিস: কতটা ভয়াবহ লিভারের এই সমস্যা?

  • আপডেট সময়: ১২:০০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

লিভার নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। কী করলে, কী খেলে শরীরের এই অঙ্গটি ভালো থাকবে তার উপায় খোঁজেন সবাই। কারণ ইদানীং ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো ঘরে ঘরে। তবে লিভারের সমস্যা মানেই ফ্যাটি লিভার এমনটা ঠিক নয়। এই অঙ্গটি আরেকটি রোগ নীরবে বাসা বাঁধতে পারে। এটি হলো কোলাঞ্জাইটিস।

ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বমি, মাথাব্যথার মতো সমস্যাগুলো হতে পারে কোলাঞ্জাইটিসের লক্ষণ। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

 

কোলাঞ্জাইটিস কী? 

কোলাঞ্জাইটিস রোগটির নানা ধরন আছে। মূলত এটি পিত্তথলির প্রদাহ বা সংক্রমণজনিত রোগ। ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিসের চেয়েও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে এই সমস্যাটি। এর উপসর্গ এমন যে অনেকে একে সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সঠিক সময়ে কোলাঞ্জাইটিসের চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্রে কোলাঞ্জাইটিস রোগটি নিয়ে সচেতন করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিত্তথলিতে পাথর জমা বা পিত্তনালির সংক্রমণ হওয়ার নেপথ্যে আছে এই রোগটি।

কোলাঞ্জাইটিস কীভাবে হয়? 

লিভার থেকে পিত্তরস পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তথলিতে এসে পৌঁছয়। সেখান থেকে যায় অন্ত্রে। কোনো কারণে যদি এই প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হয় বা জীবাণু ঘটিত কারণে পিত্তনালিতে সংক্রমণ হয়, তখন মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটিই হলো কোলাঞ্জাইটিস। এর দু’টি ধরন আছে। প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস এবং অ্যাকিউট কোলাঞ্জাইটিস।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

যাদের পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে বা অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের ভয় বেশি। যদি পিত্তরসের চলাচল বাধা পায় তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে সংক্রমণ হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কমে গেলে বা অটোইমিউন রোগ থাকলেও কোলাঞ্জাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যালকোহলের নেশা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছালে এবং অ্যালকোহলিক-ফ্যাটি লিভার থাকলেও এই রোগটি হতে পারে। পিত্তনালিতে যদি টিউমার হয়, তাহলে পিত্তনালির পথ সঙ্কুচিত হয়ে কোলাঞ্জাইটিস হতে পারে।

ই কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণেও রোগটি হতে পারে। চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যদি আগে থেকেই লিভারের রোগ থাকে, তাহলে সতর্ক হতে হবে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন 

কোলাঞ্জাইটিসের প্রাথমিক উপসর্গ হলো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। এরপর হাত, পায়ের পাতায় হলদেটে ছোপ দেখা দেবে। জন্ডিস ধরা পড়তে পারে অথবা পিত্তথলিতে পাথর জমতে পারে।

পেটের ডানদিকের ওপরের অংশে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হবে। সেই সঙ্গে গ্যাস্ট্রিক, বমি ভাব থাকবে। খাবার খেলেই বমি হয়ে যাবে। প্রস্রাবে সমস্যা হবে, রং খুব গাঢ় হয়ে যাবে। ত্বকে মারাত্মক চুলকানি হবে, র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

কোলাঞ্জাইটিস সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে লিভারে পুঁজ জমে সেখানে সেপসিস হতে পারে। লিভার বিকল হয়ে যেতে পারে। তখন লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকবে না। লিভার সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা আর সুস্থ জীবনযাপন শুরু করা উচিত।

 

 

 

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

কোলাঞ্জাইটিস: কতটা ভয়াবহ লিভারের এই সমস্যা?

আপডেট সময়: ১২:০০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লিভার নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। কী করলে, কী খেলে শরীরের এই অঙ্গটি ভালো থাকবে তার উপায় খোঁজেন সবাই। কারণ ইদানীং ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো ঘরে ঘরে। তবে লিভারের সমস্যা মানেই ফ্যাটি লিভার এমনটা ঠিক নয়। এই অঙ্গটি আরেকটি রোগ নীরবে বাসা বাঁধতে পারে। এটি হলো কোলাঞ্জাইটিস।

ঘন ঘন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বমি, মাথাব্যথার মতো সমস্যাগুলো হতে পারে কোলাঞ্জাইটিসের লক্ষণ। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

 

কোলাঞ্জাইটিস কী? 

কোলাঞ্জাইটিস রোগটির নানা ধরন আছে। মূলত এটি পিত্তথলির প্রদাহ বা সংক্রমণজনিত রোগ। ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিসের চেয়েও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে এই সমস্যাটি। এর উপসর্গ এমন যে অনেকে একে সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সঠিক সময়ে কোলাঞ্জাইটিসের চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ থেকে প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্রে কোলাঞ্জাইটিস রোগটি নিয়ে সচেতন করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিত্তথলিতে পাথর জমা বা পিত্তনালির সংক্রমণ হওয়ার নেপথ্যে আছে এই রোগটি।

কোলাঞ্জাইটিস কীভাবে হয়? 

লিভার থেকে পিত্তরস পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তথলিতে এসে পৌঁছয়। সেখান থেকে যায় অন্ত্রে। কোনো কারণে যদি এই প্রক্রিয়াটি বাধাপ্রাপ্ত হয় বা জীবাণু ঘটিত কারণে পিত্তনালিতে সংক্রমণ হয়, তখন মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটিই হলো কোলাঞ্জাইটিস। এর দু’টি ধরন আছে। প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস এবং অ্যাকিউট কোলাঞ্জাইটিস।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

যাদের পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে বা অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের ভয় বেশি। যদি পিত্তরসের চলাচল বাধা পায় তাহলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে সংক্রমণ হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কমে গেলে বা অটোইমিউন রোগ থাকলেও কোলাঞ্জাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যালকোহলের নেশা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছালে এবং অ্যালকোহলিক-ফ্যাটি লিভার থাকলেও এই রোগটি হতে পারে। পিত্তনালিতে যদি টিউমার হয়, তাহলে পিত্তনালির পথ সঙ্কুচিত হয়ে কোলাঞ্জাইটিস হতে পারে।

ই কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণেও রোগটি হতে পারে। চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যদি আগে থেকেই লিভারের রোগ থাকে, তাহলে সতর্ক হতে হবে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন 

কোলাঞ্জাইটিসের প্রাথমিক উপসর্গ হলো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে। এরপর হাত, পায়ের পাতায় হলদেটে ছোপ দেখা দেবে। জন্ডিস ধরা পড়তে পারে অথবা পিত্তথলিতে পাথর জমতে পারে।

পেটের ডানদিকের ওপরের অংশে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হবে। সেই সঙ্গে গ্যাস্ট্রিক, বমি ভাব থাকবে। খাবার খেলেই বমি হয়ে যাবে। প্রস্রাবে সমস্যা হবে, রং খুব গাঢ় হয়ে যাবে। ত্বকে মারাত্মক চুলকানি হবে, র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

কোলাঞ্জাইটিস সঠিক সময়ে ধরা না পড়লে লিভারে পুঁজ জমে সেখানে সেপসিস হতে পারে। লিভার বিকল হয়ে যেতে পারে। তখন লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকবে না। লিভার সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা আর সুস্থ জীবনযাপন শুরু করা উচিত।