
ইশতেহার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়, এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ক্ষমতায় গেলে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থ হলে এবার নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সুজন সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রায় সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারেই ভালো কথার ফুলঝুড়ি রয়েছে। জনগণ যা শুনতে চায়, দলগুলো তার সবই ইশতেহারে যুক্ত করেছে। এমনকি নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কোটা রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অথচ বাস্তবে একটি দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি, আরেকটি দল দিয়েছে ৫ শতাংশেরও কম। এতে স্পষ্ট, তারা শুরুতেই নিজেদের ইশতেহার ভঙ্গ করেছে।
তিনি আরো বলেন, ক্ষমতায় আসার পর দলগুলো তাদের ইশতেহার কতটা বাস্তবায়ন করছে তা পর্যবেক্ষণ করবে সুজন। ৬০ থেকে ১০০ দিন পরপর মূল্যায়ন করে সরকার কী পালন করেছে এবং কী করেনি তা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান সুজন সম্পাদক।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কে কোন পক্ষে আছে তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, সেসব বাস্তবায়নের অর্থ কোথা থেকে আসবে সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিএনপি ও জামায়াত দুটি আলাদা জোটের নেতৃত্ব দিলেও তারা এখনো কোনো যৌথ বা জোটবদ্ধ ইশতেহার ঘোষণা করেনি। একই সঙ্গে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে দলগুলোর অবস্থান তুলে ধরে সুজন।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জুলাই সনদের ক্ষেত্রে বিএনপি সব বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কথা না বললেও জামায়াত, এনসিপিসহ অন্য দল সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গণভোট প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল হলেও জামায়াত ও এনসিপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আর জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যেই ‘না’ ভোটের পক্ষে রয়েছে।
তবে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, মৌলিক গণতান্ত্রিক বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায় সুজন।

























