০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্রিকবাজের প্রতিবেদন: বাংলাদেশ ও ভারতকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব পাকিস্তানের

  • আপডেট সময়: ০৩:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 2

আইসিসি ও পাকিস্তানের টানাপোড়েন যেন চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। ভারতের বিপক্ষে না খেলার যে প্রকাশ্য অবস্থান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার সম্ভাবনাই এখন জোরালো হয়ে উঠছে।

রোববার লাহোরে আইসিসি, পিসিবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের টেবিলে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। দিন শেষে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকের পর শরিফের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলতে পারে। আজকের মধ্যেই আইসিসি বা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নির্ধারিত ম্যাচটির আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। সিদ্ধান্ত ঘোষণায় আর দেরি হলে তা উল্টো সমস্যাই তৈরি করবে। সমর্থক ও সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্যও সময় প্রয়োজন।

ধারণা করা হচ্ছে, আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের দাবির পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই। সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (এমপিএ) এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সই করা সমঝোতা অনুযায়ী, হাইব্রিড মডেলেই তাদের খেলতে হবে। এই মডেল অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের কাঠামো আগেই নির্ধারিত হয়েছে।

গণমাধ্যমে যে দাবি উঠে এসেছে, তার কিছু অংশ সত্যও হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, পিসিবি শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালুর দাবি তুলেছে। পাশাপাশি ভারতকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পিসিবি ও বিসিবি।

তবে এই দাবিগুলোর কতটা মানা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষমতা আইসিসির নেই। সেটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের এখতিয়ার, যা আবার ভারত সরকারের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারত–বাংলাদেশ সিরিজ নির্ধারিত থাকলেও বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

চূড়ান্ত সমাধানে কিছু ‘দেওয়া–নেওয়া’ থাকবেই। তবে আইসিসি শুরু থেকেই রাজনীতির চেয়ে প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথেই এগিয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল থেকে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলেও, বাস্তবে আইসিসি সব পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে, বিশেষ করে বিসিবির সঙ্গেও।

আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মুবারশির উসমানিও অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আসল কাজের বড় অংশই হয়েছে পর্দার আড়ালে- দুবাই ও মুম্বাইয়ে, যেখানে আইসিসি কর্মকর্তারা বিশ্বকাপের চলমান আয়োজনের পাশাপাশি এই জটিল বিষয়টি নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট চলাকালে কয়েকটি বোর্ডের, বিশেষ করে পাকিস্তানের, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আয়োজনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টিকিট কাটা ও ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো সমর্থকও পড়ে আছেন অনিশ্চয়তায়।

 

 

 

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

ক্রিকবাজের প্রতিবেদন: বাংলাদেশ ও ভারতকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব পাকিস্তানের

আপডেট সময়: ০৩:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আইসিসি ও পাকিস্তানের টানাপোড়েন যেন চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। ভারতের বিপক্ষে না খেলার যে প্রকাশ্য অবস্থান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসার সম্ভাবনাই এখন জোরালো হয়ে উঠছে।

রোববার লাহোরে আইসিসি, পিসিবি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের টেবিলে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। দিন শেষে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকের পর শরিফের চূড়ান্ত অনুমোদন মিলতে পারে। আজকের মধ্যেই আইসিসি বা পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নির্ধারিত ম্যাচটির আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। সিদ্ধান্ত ঘোষণায় আর দেরি হলে তা উল্টো সমস্যাই তৈরি করবে। সমর্থক ও সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্যও সময় প্রয়োজন।

ধারণা করা হচ্ছে, আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের দাবির পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই। সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (এমপিএ) এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সই করা সমঝোতা অনুযায়ী, হাইব্রিড মডেলেই তাদের খেলতে হবে। এই মডেল অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের কাঠামো আগেই নির্ধারিত হয়েছে।

গণমাধ্যমে যে দাবি উঠে এসেছে, তার কিছু অংশ সত্যও হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, পিসিবি শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালুর দাবি তুলেছে। পাশাপাশি ভারতকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পিসিবি ও বিসিবি।

তবে এই দাবিগুলোর কতটা মানা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষমতা আইসিসির নেই। সেটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের এখতিয়ার, যা আবার ভারত সরকারের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারত–বাংলাদেশ সিরিজ নির্ধারিত থাকলেও বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

চূড়ান্ত সমাধানে কিছু ‘দেওয়া–নেওয়া’ থাকবেই। তবে আইসিসি শুরু থেকেই রাজনীতির চেয়ে প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং সংঘাতের চেয়ে আলোচনার পথেই এগিয়েছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল থেকে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলেও, বাস্তবে আইসিসি সব পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে, বিশেষ করে বিসিবির সঙ্গেও।

আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা লাহোরে উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মুবারশির উসমানিও অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। তবে আসল কাজের বড় অংশই হয়েছে পর্দার আড়ালে- দুবাই ও মুম্বাইয়ে, যেখানে আইসিসি কর্মকর্তারা বিশ্বকাপের চলমান আয়োজনের পাশাপাশি এই জটিল বিষয়টি নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট চলাকালে কয়েকটি বোর্ডের, বিশেষ করে পাকিস্তানের, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আয়োজনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টিকিট কাটা ও ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো সমর্থকও পড়ে আছেন অনিশ্চয়তায়।