
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে অনেক সময় মাঠের বাইরের আবহটাই যেন বেশি ভারী হয়ে ওঠে। কলম্বোতে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা আক্রমণাত্মক নন, বরং কিছুটা ভাবুক ছিলেন। কৌশল নয়, তিনি বললেন ক্রিকেটকে ঘিরে সেই সহজ সময়ের কথা যখন গ্যালারির গর্জন কেবল খেলাকে ঘিরেই থাকত, ভূরাজনীতিকে নয়।
সালমান চান, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরে যাক তার শুদ্ধ রূপে- রাজনৈতিক চাপমুক্ত, কেবল ক্রিকেটীয় উত্তাপে ভরপুর। অতীতেও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না, তবু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল খেলাই। এখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ প্রায় বন্ধ। ফলে আইসিসি টুর্নামেন্টে এই বিরল সাক্ষাৎগুলোই বাড়তি চাপ আর প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়।
“খেলাটা যেভাবে শুরু হয়েছিল, সেই চেতনায়ই খেলা উচিত,” ঐতিহ্য ও স্পিরিট বজায় রাখার আহ্বান ছিল পাকিস্তান অধিনায়কের কণ্ঠে। সংবাদ সম্মেলনে এক পর্যায়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির পক্ষ থেকে প্রশ্ন আসে, ভারতীয় খেলোয়াড়রা এগিয়ে এলে করমর্দনে রাজি হবেন কি না? প্রশ্নটি ছিল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতেই আঘাত করা। সালমান সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলেননি। বরং হালকা হাসি দিয়ে বলেন, “কাল দেখা যাবে।” কূটনৈতিক, কিন্তু সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখলেন।
ভারতের বিপক্ষে বিশ্ব আসরে অতীত পরিসংখ্যান পাকিস্তানের পক্ষে নয়, তবে সে প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিলেন তিনি। “অতীতের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ নয়। নতুন দিন হবে। ইতিহাস বদলানো যায় না, কিন্তু এবার ভালো খেলে জেতার চেষ্টা তো করা যায়,” বললেন তিনি।
শেষে প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। কলম্বোর কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দল কঠোর পরিশ্রম করেছে বলে জানান তিনি। “আমরা ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছি। উইকেট সম্পর্কে ধারণা আছে। এটা যদি আমাদের সাহায্য করে, আপত্তি নেই। ৪০ ওভার ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে”, আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে যোগ করেন সালমান।
























