
ইরানে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ব্যবহার করার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাচ্যের এমন অবস্থানে ব্রিটিশ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় সেই অনুমতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুর্থ স্যোশালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটি ভয়াবহ অস্থিতিশীল শাসনের অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিটি ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল। হয় বোঝাপড়ায় আসুন, নয়তো খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনব্যবস্থাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন:
১০ দিনের আল্টিমেটাম ট্রাম্পের, পাল্টা হুমকি ইরানের
ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র দেশের সামরিক অভিযানের দায়ভার ব্রিটেন তখনই নেয় যখন অভিযানের বিস্তারিত আগে থেকে জানানো হয়। কিন্তু এই ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আগাম তথ্য দিতে বাধ্য না থাকায় স্টারমার সরকার নিজেদের অজান্তে কোনো যুদ্ধে জড়াতে রাজি হয়নি।
এরআগে বৃহস্পতিবার ইরান নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছার এই ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে’ বিশ্ব দেখতে পাবে কী ঘটছে।
ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বোর্ড অব পিসের উদ্বেধনী বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছতে আমাদের কিছু কাজ করা বাকি আছে। তাছাড়া, আমাদেরকে এটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে হতে পারে।’
এদিকে মার্কিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সীমিত পরিসরে হামলা চালাতে পারে। এতে সরকারি ভবন ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যাতে তেহরানকে পরমাণু চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ সৃষ্টি করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক হামলার পরও যদি ওয়াশিংটনের শর্তে সমঝোতা না হয়, তাহলে বৃহত্তর সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটানো।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

























