০৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ: ছুটি কাটাতে ঢাকার কাছেই ঐতিহ্যে-প্রকৃতিতে

  • আপডেট সময়: ০৩:১৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • 2

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত


ঈদের আনন্দ মানেই পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে যানজট আর দূরত্বের ঝক্কি এড়িয়ে যারা একদিনের মধ্যে ঘুরতে চান, তাদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে নারায়ণগঞ্জ।

রাজধানীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাস, প্রকৃতি আর আধুনিক বিনোদনের চমৎকার মিশেল। ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের সেরা কিছু দর্শনীয় স্থান হতে পারে বিনোদনের চমৎকার গন্তব্যস্থল।

সবুজের স্বর্গরাজ্য : জিন্দা পার্ক ও জলসিঁড়ি
প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ হতে পারে জেলার রূপগঞ্জের জিন্দা পার্ক। প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গাছ আর পাঁচটি বিশাল জলাধার। এখানকার নান্দনিক গ্রন্থাগার আর শান্ত পরিবেশ আপনাকে দেবে অন্যরকম প্রশান্তি। ঢাকা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে কাঞ্চন ব্রিজ দিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায়।

জিন্দা পার্কে প্রবেশ মূল্য ১৫০ টাকা (ছুটির দিনে)। 

অন্যদিকে, আধুনিক বিনোদনের জন্য জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। স্পিডবোট, থ্রিডি থিয়েটার আর কৃত্রিম জলপ্রপাত এই পার্কের প্রধান আকর্ষণ। তবে, শুক্রবার এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে।

ইতিহাসের হাতছানি: পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘর
বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ের পানাম নগর এক জীবন্ত ইতিহাস। সারিবদ্ধ পুরনো ভবনগুলোর মাঝ দিয়ে হাঁটলে কয়েক শ বছরের পেছনের ইতিহাস হাতছানি দেয়। ২০ টাকার টিকিটেই উপভোগ করা যায় এই হারানো নগরীর সৌন্দর্য।

পানাম নগরের ঠিক পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। এখানকার বিশাল লেক আর বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

মুঘল আভিজাত্য: হাজীগঞ্জ দুর্গ ও আজম শাহের সমাধি
ইতিহাসের সন্ধানে যারা ঘুরতে ভালোবাসে, তাদের জন্য বন্দর উপজেলার হাজীগঞ্জ দুর্গ এক চমৎকার স্থান। শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত মুঘল আমলের এই দুর্গটি মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন সামরিক কৌশলের কথা। এছাড়া সোনারগাঁয়ের সাচিলপুর গ্রামে অবস্থিত সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি দেশের অন্যতম বিরল স্থাপত্য নিদর্শন, যা দেখতে কোনো টিকিট লাগে না।

সুবর্ণগ্রাম ও বাংলার তাজমহল
পারিবারিক বিনোদনের জন্য রূপগঞ্জের সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট হতে পারে সেরা পছন্দ। ওয়াটার পার্ক, ট্রেন রাইড আর আধুনিক রাইডে ঠাসা এই পার্কটি ছোট-বড় সবার মন ভরায়। পাশাপাশি পেরাব গ্রামে অবস্থিত বাংলার তাজমহল ও পিরামিড পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। মাত্র ১৫০ টাকার টিকিটে আগ্রার তাজমহলের আদলে গড়া এই স্থাপনাটি দেখে নেওয়া সম্ভব।

সাবদি ফুলের গ্রাম ও মায়াদ্বীপ
যান্ত্রিকতা ছেড়ে গ্রামীণ স্নিগ্ধতার জন্য চলে যেতে হবে বন্দর উপজেলার সাবদি গ্রামে। দিগন্তজোড়া ফুলের মাঠ চোখ জুড়িয়ে দেয়। আর একটু রোমাঞ্চ চাইলে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা মায়াদ্বীপ থেকে ঘুরে আসা যায়। নৌকা ভাড়া করে বন্ধুদের নিয়ে মাঝনদীতে সময় কাটানো হবে এক দারুণ স্মৃতি।

ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এসব স্পট একদিনেই ঘুরে আসা সম্ভব হলেও এক একটি স্পটেই সারাদিন কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব। যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি বা লোকাল বাস- উভয় সুবিধাই রয়েছে। তবে ঈদের ভিড় এড়াতে সকাল সকাল রওনা হওয়াই উচিত।

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জ: ছুটি কাটাতে ঢাকার কাছেই ঐতিহ্যে-প্রকৃতিতে

আপডেট সময়: ০৩:১৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত


ঈদের আনন্দ মানেই পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে যানজট আর দূরত্বের ঝক্কি এড়িয়ে যারা একদিনের মধ্যে ঘুরতে চান, তাদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে নারায়ণগঞ্জ।

রাজধানীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাস, প্রকৃতি আর আধুনিক বিনোদনের চমৎকার মিশেল। ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের সেরা কিছু দর্শনীয় স্থান হতে পারে বিনোদনের চমৎকার গন্তব্যস্থল।

সবুজের স্বর্গরাজ্য : জিন্দা পার্ক ও জলসিঁড়ি
প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ হতে পারে জেলার রূপগঞ্জের জিন্দা পার্ক। প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গাছ আর পাঁচটি বিশাল জলাধার। এখানকার নান্দনিক গ্রন্থাগার আর শান্ত পরিবেশ আপনাকে দেবে অন্যরকম প্রশান্তি। ঢাকা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে কাঞ্চন ব্রিজ দিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায়।

জিন্দা পার্কে প্রবেশ মূল্য ১৫০ টাকা (ছুটির দিনে)। 

অন্যদিকে, আধুনিক বিনোদনের জন্য জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্ক বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। স্পিডবোট, থ্রিডি থিয়েটার আর কৃত্রিম জলপ্রপাত এই পার্কের প্রধান আকর্ষণ। তবে, শুক্রবার এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকে।

ইতিহাসের হাতছানি: পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘর
বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ের পানাম নগর এক জীবন্ত ইতিহাস। সারিবদ্ধ পুরনো ভবনগুলোর মাঝ দিয়ে হাঁটলে কয়েক শ বছরের পেছনের ইতিহাস হাতছানি দেয়। ২০ টাকার টিকিটেই উপভোগ করা যায় এই হারানো নগরীর সৌন্দর্য।

পানাম নগরের ঠিক পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। এখানকার বিশাল লেক আর বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

মুঘল আভিজাত্য: হাজীগঞ্জ দুর্গ ও আজম শাহের সমাধি
ইতিহাসের সন্ধানে যারা ঘুরতে ভালোবাসে, তাদের জন্য বন্দর উপজেলার হাজীগঞ্জ দুর্গ এক চমৎকার স্থান। শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত মুঘল আমলের এই দুর্গটি মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন সামরিক কৌশলের কথা। এছাড়া সোনারগাঁয়ের সাচিলপুর গ্রামে অবস্থিত সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি দেশের অন্যতম বিরল স্থাপত্য নিদর্শন, যা দেখতে কোনো টিকিট লাগে না।

সুবর্ণগ্রাম ও বাংলার তাজমহল
পারিবারিক বিনোদনের জন্য রূপগঞ্জের সুবর্ণগ্রাম অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট হতে পারে সেরা পছন্দ। ওয়াটার পার্ক, ট্রেন রাইড আর আধুনিক রাইডে ঠাসা এই পার্কটি ছোট-বড় সবার মন ভরায়। পাশাপাশি পেরাব গ্রামে অবস্থিত বাংলার তাজমহল ও পিরামিড পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। মাত্র ১৫০ টাকার টিকিটে আগ্রার তাজমহলের আদলে গড়া এই স্থাপনাটি দেখে নেওয়া সম্ভব।

সাবদি ফুলের গ্রাম ও মায়াদ্বীপ
যান্ত্রিকতা ছেড়ে গ্রামীণ স্নিগ্ধতার জন্য চলে যেতে হবে বন্দর উপজেলার সাবদি গ্রামে। দিগন্তজোড়া ফুলের মাঠ চোখ জুড়িয়ে দেয়। আর একটু রোমাঞ্চ চাইলে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা মায়াদ্বীপ থেকে ঘুরে আসা যায়। নৌকা ভাড়া করে বন্ধুদের নিয়ে মাঝনদীতে সময় কাটানো হবে এক দারুণ স্মৃতি।

ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এসব স্পট একদিনেই ঘুরে আসা সম্ভব হলেও এক একটি স্পটেই সারাদিন কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব। যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি বা লোকাল বাস- উভয় সুবিধাই রয়েছে। তবে ঈদের ভিড় এড়াতে সকাল সকাল রওনা হওয়াই উচিত।