
ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে পাকিস্তানে গেছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং স্টিভ উইটকফের ইসলামাবাদে আগমন এই যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাপ্তির আশা জাগিয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নাটকীয়ভাবে সরে আসার পর এই ঘটনা ঘটল। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য ইরানিদের দেওয়া সময়সীমা যখন শেষ হয়ে আসছিল, তখন ট্রাম্প হঠাৎ দাবি করেন, ‘তেহরান আর কোনো যুদ্ধ নয়, আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয় এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে সম্মত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে সম্মানিত একজন নেতার সঙ্গে আলোচনা হওয়ার পর ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। তবে তিনি ওই নেতার নাম প্রকাশ করেননি।’ কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরানের কর্মকর্তারা এ দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দেন।
তারা বলেন, এটি আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার জন্য ছড়ানো ‘কাল্পনিক আলোচনা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি।
এদিকে পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যে ফোনালাপের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সেই সঙ্গে উইটকফ এবং কুশনারের এই সপ্তাহে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। হোয়াইট হাউস মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই যুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ট্রাম্পের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর হুমকির জবাবে ইরান বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের অবকাঠামোতে আঘাত হানবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চরম বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল





















