০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে গেল বৃহত্তম মার্কিন রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড

  • আপডেট সময়: ০১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • 2

ছবি: ইউএস নেভি


বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানের পর ক্রিটের একটি নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। সোমবার ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ফিরে এসেছে বলে  এএফপির এক আলোকচিত্রীর বরাতে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজটি গত ফেব্রুয়ারিতে একই ঘাঁটি থেকে খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিল। এরপর ১২ মার্চ জাহাজের লন্ড্রিরুমে আগুন লাগার খবর জানা যায়।

ওই ঘটনায় দুইজন নাবিক আহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে ফোর্ড এবং আরেকটি বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধির করে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিশাল বিমান অভিযান শুরু করে। এই দুটি জাহাজই ইরান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফোর্ডকে ফিরিয়ে নিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

পেন ওয়াশিংটনের গ্লোবাল পলিসি প্রগ্রামসের পরিচালক ড্যানিয়েল স্নাইডারম্যান বলেছেন, ‘উল্লেখযোগ্য সময়ের জন্য ফোর্ডকে সরিয়ে নিয়ে আসার অর্থ হলো, যুদ্ধপ্রচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন কমে যাওয়া।’ তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ফোর্ডের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।’ তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে ফোর্ডের সঙ্গে থাকা অন্যান্য প্রতিরক্ষা সক্ষম জাহাজগুলো যদি ওই অঞ্চলে অবস্থান করে, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।

যেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে।

ফোর্ড প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছে। এ সময় এটি ক্যারিবিয়ানে মার্কিন অভিযানেও অংশ নিয়েছে। সেখানে ওয়াশিংটনের বাহিনী কথিত মাদক পাচারকারী নৌকার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসারে, গত ১২ মার্চ বিমানবাহী রণতরিটির একটি লন্ড্রিরুমে আগুন লেগে দুজন নাবিক আহত হন এবং সেনাদের প্রায় ১০০টি ঘুমানোর জায়গার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সমুদ্রে থাকাকালীন রণতরিটির শৌচাগার ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জাহাজের শৌচাগারগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং দীর্ঘ লাইনের খবর জানিয়েছিল।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার জাহাজটির দীর্ঘায়িত মোতায়েনের জন্য ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকায় ফোর্ড এবং এর নাবিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে এবং তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া সামরিক সিদ্ধান্তের মূল্য পরিশোধ করছে।’

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে গেল বৃহত্তম মার্কিন রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে গেল বৃহত্তম মার্কিন রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড

আপডেট সময়: ০১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ছবি: ইউএস নেভি


বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানের পর ক্রিটের একটি নৌঘাঁটিতে ফিরে এসেছে। সোমবার ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ফিরে এসেছে বলে  এএফপির এক আলোকচিত্রীর বরাতে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজটি গত ফেব্রুয়ারিতে একই ঘাঁটি থেকে খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিল। এরপর ১২ মার্চ জাহাজের লন্ড্রিরুমে আগুন লাগার খবর জানা যায়।

ওই ঘটনায় দুইজন নাবিক আহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে ফোর্ড এবং আরেকটি বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক শক্তি বৃদ্ধির করে। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিশাল বিমান অভিযান শুরু করে। এই দুটি জাহাজই ইরান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফোর্ডকে ফিরিয়ে নিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

পেন ওয়াশিংটনের গ্লোবাল পলিসি প্রগ্রামসের পরিচালক ড্যানিয়েল স্নাইডারম্যান বলেছেন, ‘উল্লেখযোগ্য সময়ের জন্য ফোর্ডকে সরিয়ে নিয়ে আসার অর্থ হলো, যুদ্ধপ্রচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন কমে যাওয়া।’ তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ফোর্ডের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।’ তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে ফোর্ডের সঙ্গে থাকা অন্যান্য প্রতিরক্ষা সক্ষম জাহাজগুলো যদি ওই অঞ্চলে অবস্থান করে, তাহলে তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।

যেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে।

ফোর্ড প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছে। এ সময় এটি ক্যারিবিয়ানে মার্কিন অভিযানেও অংশ নিয়েছে। সেখানে ওয়াশিংটনের বাহিনী কথিত মাদক পাচারকারী নৌকার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসারে, গত ১২ মার্চ বিমানবাহী রণতরিটির একটি লন্ড্রিরুমে আগুন লেগে দুজন নাবিক আহত হন এবং সেনাদের প্রায় ১০০টি ঘুমানোর জায়গার ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সমুদ্রে থাকাকালীন রণতরিটির শৌচাগার ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জাহাজের শৌচাগারগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং দীর্ঘ লাইনের খবর জানিয়েছিল।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার জাহাজটির দীর্ঘায়িত মোতায়েনের জন্য ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকায় ফোর্ড এবং এর নাবিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে এবং তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া সামরিক সিদ্ধান্তের মূল্য পরিশোধ করছে।’