০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আদালতের অনুমতির পর ভারতে প্রথম ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ কার্যকর

  • আপডেট সময়: ০১:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 3

সংগৃহীত ছবি


ভারতের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ‘নিষ্কৃতি মৃত্যুর’ অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এইমস) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তিনি প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩১ বছর।

জানা যায়, ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে চণ্ডীগড়ে একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর হরিশ কোমায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে ভেজিটেটিভ অবস্থায় ছিলেন। তাকে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হতো এবং মাঝে মাঝে অক্সিজেন সাপোর্ট লাগত।

এভাবে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তার পরিবার তাকে দেখাশোনা করেছে। প্রতিদিন নিয়ম করে টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো, ঘা পরিষ্কার করা, ফিজিওথেরাপি দেওয়া এবং শরীর ঘুরিয়ে দেওয়া—সব কিছুই তারা করেছেন।

তার বাবা বলেন, ‘এটা ১৩ দিন বা মাস নয়… আমরা ১৩ বছর ধরে এভাবে তাকে দেখভাল করেছি।’

গত ১৪ মার্চ তাকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসে নেওয়া হয়।

তার তিন দিন আগে, ১১ মার্চ, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার লাইফ সাপোর্ট বন্ধ করার অনুমতি দেন। এক যুগান্তকারী রায়ে হরিশ রানাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেওয়া হয়।

ভারতে এটিই ছিল প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি। আদালত বলেন, ১৩ বছরেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যখন কোনো রোগীর ফিরে আসার আশা থাকে না, তখন তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকের ওপর থাকে না।

একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ নিয়ে সরকারকে দ্রুত আইন করারও আহ্বান জানান শীর্ষ আদালত।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধসহ যে ৫ শর্ত দিল ইরান

আদালতের অনুমতির পর ভারতে প্রথম ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ কার্যকর

আপডেট সময়: ০১:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি


ভারতের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ‘নিষ্কৃতি মৃত্যুর’ অনুমতি পাওয়া হরিশ রানা মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এইমস) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তিনি প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩১ বছর।

জানা যায়, ২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে চণ্ডীগড়ে একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর হরিশ কোমায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি প্রায় ১৩ বছর ধরে ভেজিটেটিভ অবস্থায় ছিলেন। তাকে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হতো এবং মাঝে মাঝে অক্সিজেন সাপোর্ট লাগত।

এভাবে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তার পরিবার তাকে দেখাশোনা করেছে। প্রতিদিন নিয়ম করে টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো, ঘা পরিষ্কার করা, ফিজিওথেরাপি দেওয়া এবং শরীর ঘুরিয়ে দেওয়া—সব কিছুই তারা করেছেন।

তার বাবা বলেন, ‘এটা ১৩ দিন বা মাস নয়… আমরা ১৩ বছর ধরে এভাবে তাকে দেখভাল করেছি।’

গত ১৪ মার্চ তাকে গাজিয়াবাদের বাড়ি থেকে এইমসে নেওয়া হয়।

তার তিন দিন আগে, ১১ মার্চ, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার লাইফ সাপোর্ট বন্ধ করার অনুমতি দেন। এক যুগান্তকারী রায়ে হরিশ রানাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেওয়া হয়।

ভারতে এটিই ছিল প্রথম ‘পরোক্ষ মৃত্যুর’ অনুমতি। আদালত বলেন, ১৩ বছরেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। যখন কোনো রোগীর ফিরে আসার আশা থাকে না, তখন তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা চিকিৎসকের ওপর থাকে না।

একই সঙ্গে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ নিয়ে সরকারকে দ্রুত আইন করারও আহ্বান জানান শীর্ষ আদালত।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস