০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানি কবি সাবির হাকার কবিতা

  • আপডেট সময়: ০১:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • 4

মূল ফার্সি থেকে অনুবাদ: খোবাইব হামদান

সাবির হাকা ইরানের কারমানশায় ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। থাকেন তেহরানে। পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক। কবিতার বই বেরিয়েছে দুটি। ২০১৩ সালে তিনি ইরানের শ্রমিক কবি হিসেবে পুরস্কৃত হোন।

এক সাক্ষাৎকার সাবির বলেছিলেন, ‘আমি ক্লান্ত। আমার জন্মের আগে থেকেই ক্লান্ত আমি। আমার মা আমাকে গর্ভে লালন করার সময় মজদুরি করতেন। সেই সময় থেকে মজদুর আমি, তাঁর ক্লান্তি এখনো আমার শরীরে লেগে আছে।’

যাত্রা

ছুটির দিনে দুপুর বেলায়,

অর্ধেক পথ

আমরা পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছিলাম

আমি ও মৃত্যু –

ও শহরের দিকে যাচ্ছিল

আমি গোরস্তানের দিকে!

স্বাধীনতা

অবশ্য কখনোই প্রস্তুত নই

হয়তো নিহত বা আটক হবো স্বাধীনতার জন্য

স্বাধীনতা ধ্বংসাত্মক সবসময়ই

সীমাবদ্ধতা – কিছু স্তরে চেহারা উজ্জ্বল করে

বোঝে না কেউ

অনুধাবন করে

কিছু সময় স্বাধীনতার মুখাপেক্ষী হই

অতটুকু

যতটুকুতে তোমাকে ভালোবাসি!

মাতৃবিয়োগ

উফ! আমি যদি বড় না হতাম

এবং কিছুই না বুঝতাম!

পিতা আমাকে মিথ্যা বলেছিলেন –

‘যা কিছু মাটিতে রুয়ে দেওয়া হয় তা সবুজ হয়ে জন্মে’

এবং এটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা

বাকিদের বোধগম্য নয়;

আমি অনেক বছর অপেক্ষা করেছি

কিন্তু,

আমার মা আর সবুজ হয়ে জন্মেনি!

ভয়

একদিন যদি মরে যাই

আমার পছন্দের বইগুলি

নিয়ে যাবো সঙ্গে,

ভালোবাসি যাদের

তাদের ছবিতে সাজাবো কবরের দেয়াল!

এখন আনন্দিত, ভবিষ্যতের ভয় নেই

নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ি

এবং –

সিগারেট জ্বালাই!

সেই মেয়েদের

আনন্দে যাদের জড়িয়ে রাখতে চেয়েছি –

তাদের কথা ভেবে কাঁদব

আনন্দ : যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে ভয়!

অশ্লীল ভয়, ভয় যে,

ভোরবেলা কেউ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলবে

‘সাবির ওঠ্ – কাজে যেতে হবে!’

পিতা

আমার পিতা ছিলেন একজন শ্রমিক

নিষ্ঠাবান বিশ্বাসী মানুষ

তিনি যখন প্রতিবার নামাজ পড়তেন

ঈশ্বর

হাতদুটো দেখে লজ্জা পেতেন!

কৃপণ

যদি আমাকে ছেড়ে যাও

আমি হবো কৃপণ

সেই শ্রমিকের মতো যাকে কর্মচ্যুত করা হয়েছে!

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

ইরানি কবি সাবির হাকার কবিতা

আপডেট সময়: ০১:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মূল ফার্সি থেকে অনুবাদ: খোবাইব হামদান

সাবির হাকা ইরানের কারমানশায় ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। থাকেন তেহরানে। পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক। কবিতার বই বেরিয়েছে দুটি। ২০১৩ সালে তিনি ইরানের শ্রমিক কবি হিসেবে পুরস্কৃত হোন।

এক সাক্ষাৎকার সাবির বলেছিলেন, ‘আমি ক্লান্ত। আমার জন্মের আগে থেকেই ক্লান্ত আমি। আমার মা আমাকে গর্ভে লালন করার সময় মজদুরি করতেন। সেই সময় থেকে মজদুর আমি, তাঁর ক্লান্তি এখনো আমার শরীরে লেগে আছে।’

যাত্রা

ছুটির দিনে দুপুর বেলায়,

অর্ধেক পথ

আমরা পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছিলাম

আমি ও মৃত্যু –

ও শহরের দিকে যাচ্ছিল

আমি গোরস্তানের দিকে!

স্বাধীনতা

অবশ্য কখনোই প্রস্তুত নই

হয়তো নিহত বা আটক হবো স্বাধীনতার জন্য

স্বাধীনতা ধ্বংসাত্মক সবসময়ই

সীমাবদ্ধতা – কিছু স্তরে চেহারা উজ্জ্বল করে

বোঝে না কেউ

অনুধাবন করে

কিছু সময় স্বাধীনতার মুখাপেক্ষী হই

অতটুকু

যতটুকুতে তোমাকে ভালোবাসি!

মাতৃবিয়োগ

উফ! আমি যদি বড় না হতাম

এবং কিছুই না বুঝতাম!

পিতা আমাকে মিথ্যা বলেছিলেন –

‘যা কিছু মাটিতে রুয়ে দেওয়া হয় তা সবুজ হয়ে জন্মে’

এবং এটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা

বাকিদের বোধগম্য নয়;

আমি অনেক বছর অপেক্ষা করেছি

কিন্তু,

আমার মা আর সবুজ হয়ে জন্মেনি!

ভয়

একদিন যদি মরে যাই

আমার পছন্দের বইগুলি

নিয়ে যাবো সঙ্গে,

ভালোবাসি যাদের

তাদের ছবিতে সাজাবো কবরের দেয়াল!

এখন আনন্দিত, ভবিষ্যতের ভয় নেই

নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ি

এবং –

সিগারেট জ্বালাই!

সেই মেয়েদের

আনন্দে যাদের জড়িয়ে রাখতে চেয়েছি –

তাদের কথা ভেবে কাঁদব

আনন্দ : যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে ভয়!

অশ্লীল ভয়, ভয় যে,

ভোরবেলা কেউ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলবে

‘সাবির ওঠ্ – কাজে যেতে হবে!’

পিতা

আমার পিতা ছিলেন একজন শ্রমিক

নিষ্ঠাবান বিশ্বাসী মানুষ

তিনি যখন প্রতিবার নামাজ পড়তেন

ঈশ্বর

হাতদুটো দেখে লজ্জা পেতেন!

কৃপণ

যদি আমাকে ছেড়ে যাও

আমি হবো কৃপণ

সেই শ্রমিকের মতো যাকে কর্মচ্যুত করা হয়েছে!