
হাসান জাহিদ
কিছু কিছু শেয়াল আছে, যেগুলো সিজনড। চুরি করতে করতে এমন কায়দা রপ্ত করে যে, কামড়ে গৃহস্থের মুরগির টুঁটি চেপে ধরে পগার পার হয়ে যায়। মুরগি শব্দ করতে পারে না। গৃহস্থ টের পায় না। তেমন এক শেয়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরো এককাঠি সরেস ডোনাল্ড ট্রাম্প বা এপস্টেইন ট্রাম্প। তিনি এমন এক পলিসি গ্রহণ করেছেন, যেখানে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না। আর কথায় কথায় মিথ্যে বলা ও অন্যকে সরাসরি আঘাত করেন কথায় ও কূটচালে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন! এটা কোনো সভ্যতা ও শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।
তেলআবিবের আকাশে অজস্র কাক উড়েছিল। বোধহয় সেই শহরে শকুন নেই, থাকলে তারাও আসত মড়ার গন্ধ পেয়ে।
অনেক মানুষ মরেছে সেখানে, সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে ইসরায়েল ও ম্যাড ট্রাম্প বাহিনির, যা ইসরায়েল বা পেন্টাগন ও পশ্চিমা পত্রিকা/চ্যানেলগুলো প্রকাশ করছে না।
সভ্যতার উন্মেষের সাথে সাথে তথ্য-প্রযুক্তির অকল্পনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। আর এখন তো এআই দিয়ে সত্যকে মিথ্যে, আর মিথ্যেকে সত্য বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। তেমনটিই প্রতিফলিত হচ্ছে পশ্চিমা প্রভাবশালী পত্রিকা, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্বখ্যাত চ্যানেলগুলোতে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেলআবিব, হাইফা, বেরসেবাসহ প্রায় গোটা ইসরায়েল তছনছ। তাতে নাকি কেউ সামান্য আহত হয়েছে, অনেকে হাসপাতালে আর দুয়েকজন পটল তুলেছে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
ইসরায়েলের বিধ্বস্ত চেহারা দেখলে মনে হয়, অসংখ্য সৈন্য ও মানুষ প্র্রাণ হারিয়েছে। বাংকারে বসে নেতানিয়াহু হুমকির পর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। লেবাননকে আক্ষরিক অর্থেই পরমাণু-বিধ্বস্ত এলাকাতে পরিণত করেছেন আধুনিক যুদ্ধ বিমান থেকে শত-সহস্র বোমা ফেলে।
সত্য কি লুকনো যায়? অতীতের কোনো একটি যুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র জিততে পারেনি। ভিয়েতনামে মার খেয়েছে। কোরিয়া যুদ্ধে পিছু হটেছে। আফগানিস্তানে যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ ফেলে পিছুটান দিয়েছিল। এমনকি ইরাক যুদ্ধেও তারা হেরেছে। ইরাকের বায়োলজিকেল ওয়ারফেয়ার ও মাস ডেস্ট্রাকশন কর্মসূচির অজুহাত দিয়ে বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলোকে নিয়ে আমেরিকা ইরাক ধ্বংস করেছিল। প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে তড়িঘড়ি করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরেছিল। পরবর্তীতে পশ্চিমা মিডিয়া ও সংবাদপত্রগুলোই স্বীকার করেছিল ইরাক আক্রমণ ভুল ছিল। যে অভিযোগে তারা ইরাক আক্রমণ করেছিল তা ডাহা মিথ্যা। প্রকৃত অর্থে জাপানের কাছেও তারা হেরেছিল। জাপান পার্ল হারবার ধ্বংস করে দেয়। এর রিটেলিয়েশন বা প্রতি আক্রমণ আণবিক বোমা ফেলে নেয়ার কথা নয়। সভ্যজগতে আমেরিকাই একমাত্র রাষ্ট্র যে অন্য রাষ্ট্রের ওপর পৃথিবীর ইতিহাসে অ্যাটম বোম্ব ফেলেছিল।
তারা নাকি সভ্য। ইরানকে নাকি প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেবে। এই তারাই পাইলট উদ্ধারের নামে ইউরেনিয়াম চুরি করতে গিয়েছিল। পাইলট উদ্ধার হয়েছে ফিল্মি কায়দায়। অথচ উদ্ধারকৃত কোনো পাইলটের ফুটেজ বা ছবি প্রকাশ করেনি তারা। তারা নাকি প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য নিজেদের দুটি বিমান নিজেরাই ভস্ম করে দেয়। সত্যটা হলো, ইরান ধ্বংস করেছিল বিমান দুটিকে।
ইরানের কাছে মার খেয়ে ন্যাটো দেশগুলোর সহায়তা চাইলেন জনাব এপস্টেইন। না। ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, ব্রিটেনের কাছ থেকে সরাসরি না-সূচক পদক্ষেপ। স্পেন তো কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিল। অস্ট্রিয়া, স্পেন, ইটালি মার্কিনী বিমানের জন্য তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিল।
ভেতরে বাইরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠল জনগণ, যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তারা। সিনেট বলল এই যুদ্ধে তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রে লাখো মানুষ নেমে এলো এই অযৌক্তিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে।
এদিকে যুদ্ধ বিরতি। পাঁচদিন, তারপর দশদিন–এরকম বহু প্রতিশ্রুতি। ইরান যেন শুনতেই পায়নি ট্রাম্পের ঘোষণা। এমনই অনড় ও নিরাসক্ত তারা। তারপর তিনি ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলেন। তাতেও কাজ হলো না। শেষে বেছে নিলেন পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী আলোচক হিসেবে। যুদ্ধ বিরতি হলো। কিন্তু বর্বর ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ করে ধ্বংসের প্রান্তসীমায় ঠেলে দিলো। মাত্র দুদিনে চারশত নিরীহ মানুষ মারা গেল। আহত হলো হাজারো মানুষ। ইরান কড়া প্রতিবাদ জানাল।
পাকিস্তান জানিয়ে দিল যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবে ইরানের দশ দফার মধ্যে লেবাননে আক্রমণ করা যাবে না–এই দফাটিও ছিল।
খুব ধূর্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে বেছে নেয় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে। কারণ, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি বিদ্যমান। সৌদি তো ইসরায়েল ও মার্কিনীদের দোসর। আর সেখানে মার্কিনীদের ঘাঁটি থাকায় ইরান সৌদিতেও আক্রমণ শানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য যুদ্ধের ভেতরে আরো একটি যুদ্ধ সৃষ্টি করা।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে ‘দালাল রাষ্ট্র’ বলেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে যুদ্ধ বিরতির জন্য পাকিস্তানকে আহ্বান জানান। এটি ছিল পাকিস্তানের ওপর গুরুভার। এতটাই যে, ইসরায়েল এই বিশ্বের মানচিত্রে একটি অবৈধ ভূখণ্ডে বসবাস করে বহুবছর ধরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের হত্যা করেছে। বাস্তুচ্যুত করেছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিদের। খাবার-পানি আর রিলিফ আটকে দিয়েছে।
পাকিস্তান আলোচনায় ইরানের দশ দফা জানিয়ে দেয় আমেরিকাকে। সেখানে লেবাননের কথা উল্লেখ আছে, যেন ইসরায়েল লেবানন আক্রমণ না করে। ৮ তারিখে যুদ্ধ বিরতির কিছু সময় পরই বর্বর ইসরায়েল লেবাননে ভয়াবহ আক্রমণ করে। এতে প্রায় তিনশ’ মানুষ নিহত হন। হাজার হাজার মানুষ আহত হন। সবচাইতে ভয়ংকর এই হামলায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল লেবাননের।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধ’ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে ‘সবাইকে ঢুকতে দেয়া হবে এবং বের হতে দেয়া হবে’–এমন অবস্থানে পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।
তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ ‘অবরোধ’ করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে মার্কিন বাহিনি।’
আরেক পোস্টে ট্রাম্প ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে শেষ করে দেয়ার হুমকি দেন।
ট্রাম্পের সামনে কঠিন তিন পথ
যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই কোনো চুক্তিতে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হতে পারেনি। আপাতদৃষ্টিতে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ খোলা আছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য মতে, প্রথমত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ আবার শুরু করা, যা ইতোমধ্যে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানিসংকট তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমরা আমাদের রেডলাইন স্পষ্ট করে দিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি আছি সেটাও বলেছি। তারা আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।’
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ভাষায়, ইরানের উচিত সহজভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ করা।
স্মর্তব্য যে, অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। ওবামা আমলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শেষ বড় চুক্তি হতে দুই বছর লেগেছিল। সেই চুক্তিতেও ইরানকে অল্প পরিমাণ পারমাণবিক মজুদ রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।
মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে। এ বিষয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে ইরান বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে নিজের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের অধিকার।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটাই প্রমাণ করে ইরান সব সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রাখতে চায়। ৪০ দিনের যুদ্ধ এই অবস্থানকে নরম করেনি, বরং আরো শক্ত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের প্রিয়জনদের ক্ষতি আমাদের জাতির স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার সংকল্পকে আগের চেয়ে আরো দৃঢ় করেছে।’
শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই মনে করছে, প্রথম দফায় তারা জিতেছে। সে কারণে কেউই এখন সমঝোতার মানসিকতায় নেই। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে ২১ এপ্রিল। তবে যুদ্ধ আবার শুরুর হুমকি ট্রাম্পের হাতে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরির হাতিয়ার। কিন্তু এই পথে রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। কারণ বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। যুদ্ধ আবারও শুরু হলে বাজার পড়বে, সংকট বাড়বে, মূল্যস্ফীতি আরো চাপে পড়বে, যা এখনই ৩.৩ শতাংশে আছে।
ট্রাম্প আসলে সময় নিচ্ছেন নতুন নতুন ফন্দি আঁটবার। তিনি এভাবে সাফল্যও লাভ করেছেন। একদিকে যুদ্ধ বিরতির কথা বলে অন্যদিকে ইসরায়েলকে দিয়ে লেবানন আক্রমণ করিয়েছেন। ছলাকলা করছেন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার।
ইসরায়েলে বাড়ছে হতাশা
যে জাতির নেতা এই যুগের ড্রাকুলা, সেই জাতির মধ্যে হতাশা, বিকৃতি ও মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রচুর অবকাশ রয়েছে।
লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক হাইম ব্রেশিথ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার কাছাকাছি নয়। তার মতে, যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা চললেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আসলে এখনো কার্যত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, কারণ ইসরায়েল এখনো লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্রেশিথের মতে, এই সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের অনিরাপদ ও চরম চাপের মধ্যে আছে মনে করছে। ফলে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনও কমে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো হ্রাস পেতে পারে।
তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরো সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এই পরিস্থিতির দায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপাতে পারে এবং এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ব্যর্থতার উদাহরণ হতে পারে।
সবশেষে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ থেকে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারুরই প্রকৃত লাভ নেই, সবাই ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছে।
হতাশ বিশ্বের দেশগুলো
বিশ্বের পরাশক্তি ও প্রভাবশালী দেশের নেতারা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়াতে। কারণ কেউ এই হঠকারিতামূলক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বে অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টিকে মেনে নিতে পারছেন না। সেইসাথে পরাশক্তিসহ বিভিন্ন দেশের নতুন মেরুকরণ ও ক্ষণে ক্ষণে অপ্রত্যাশিত বাঁক নেয়া পরিস্থিতির জন্য বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে।
ইরানের নতুন সমস্যা
ইরানের জন্য এখন একপ্রকার ফাঁদের মতোই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে তাদেরই পেতে রাখা মাইনের কারণে। একটা দেশ এতগুলো দেশের সাথে যুদ্ধ করে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু নামের দুই দুষ্ট লোকের নিন্দনীয় মারপ্যাঁচ ও বর্বর আক্রমণের ধাক্কা সামলে, পাল্টা আঘাত হেনে ইরানের এই দিকটায় ভাটা পড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে তাদের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ বড় বড় নেতা ও কমান্ডারগণ শহীদ হয়েছেন।
এই সমস্যা ইরানকে অনেকটাই ভাবিয়ে তুলেছে। ইরান কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করবে সময়ই তা বলে দেবে।
সামনে কী হবে, বলা যাচ্ছে না। ন্যাটো’র সাড়া না পেয়ে এক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র একঘরে হয়ে পড়েছে। নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার হুমকির মধ্যে আছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল ও অনেকটা অকেজো করে দিয়েছে ইরানের মিসাইল। আর ইরানকে কিন্তু বিশ্ববাসী দোষারোপ করছে না। ইরানের সাথে আছে ওমান, ইরানের প্রক্সি বাহিনি হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতিরা ও ইরাকের মিলিশিয়া । ইরানের পক্ষে নেপথ্যে আছে রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া। যুদ্ধের তীব্রতার সময় রাশিয়া ও চীন শত্রুর অবস্থান জানিয়ে স্যাটেলাইট ইমেজ, রিয়েলটিইম মনিটরিং করে, এবং তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। তারা হয়তো, বিশেষত চীন এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য খর্ব করতে ইরানকে সাহায্য করছে। যারা ইরানের পক্ষে কাজ করছে, হয়তো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতেই করছে। কিন্তু তাতে ইরানের উপকার হচ্ছে। তাদের মনোবল চাঙা হচ্ছে। সূত্রমতে, চীন থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা, বিমান ও লঞ্চার সরবরাহ করতে যাচ্ছে ইরানে। প্রসঙ্গত, প্রায় দুইদশক ধরে উত্তর কোরিয়া গোপনে ইরানকে মিসাইল বানাতে সাহায্য করেছে।
আর রাশিয়া তো জানিয়েই রেখেছে, প্রয়োজনে মার্কিন স্থল আক্রমণ ঠেকাতে তাদের দুর্ধর্ষ চেচেন গেরিলা ও কমান্ডো পাঠাবে। আর ইরানের নিজেদের দশ লাখ সৈন্য, ভারী ও হালকা অস্ত্র, আর্টিলারি এবং ট্যাংক প্রস্তুত আছে। সেইসাথে আছে ইরানের জনগণ।

























