০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বজ্রপাতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

  • আপডেট সময়: ০৩:১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি


দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও নোয়াখালীতে এসব ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হন।

সুনামগঞ্জে তিনজন নিহত

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে জমির হোসেন (৪২) ও জমির উদ্দিন (৪৬) নামের দুই কৃষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় আবু সালেক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, বিকেলে আব্দুল্লাহপুর গ্রামে ধান কাটতে যান জমির উদ্দিন। এ সময় বজ্রপাতে আহত হলে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আরো পড়ুন: কৃষক-জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার


একই সময় গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালি গ্রামের জমির হোসেন বাড়ি থেকে হাওড়ে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মারা যান। এ ছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিনজন আহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জে দুই কৃষকের মৃত্যু

হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও এক কৃষক।

নিহতরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার আব্দুল সালাম (৬০)।

পুলিশ জানায়, মকসুদ মিয়া নিজ জমিতে ধান কাটছিলেন। বানিয়াচংয়ে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় আব্দুল সালামের। একই উপজেলার গড়পাড় গ্রামের সামরুজ মিয়া (৫০) নামের আরেক কৃষক আহত হয়েছেন।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, নিহত মকছুদ আলীর পরিবার দরিদ্র। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোণায় তিনজনের মৃত্যু

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক শিকারীর মৃত্যু হয়। সকালে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

একই দিনে সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। এ ছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।


আরো পড়ুন: ঢাবিতে বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থী আহত, ঢামেকে ভর্তি


খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতেই মৃত্যু বলে ধারণা করছে পুলিশ।

মায়ের সামনেই প্রাণ গেল যুবকের

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মায়ের চোখের সামনেই মৃত্যু হয়েছে মো. আরাফাত হোসেন (২০) নামের এক তরুণ ব্যবসায়ীর। দুপুর পৌনে তিনটার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত ওই গ্রামের মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন।


আরো পড়ুন: ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঝুমুল’, বন্যা-জলাবদ্ধতার শঙ্কা


স্থানীয় সূত্র জানায়, আরাফাত তার মা শায়েলা আক্তারের সঙ্গে বাড়ির পাশের খেত থেকে বাদাম সংগ্রহ করতে যান। বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আরাফাতের মৃত্যু হয়।

ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন বলেন, ‘মা সামনে ছিলেন, ছেলে পেছনে। হঠাৎ বজ্রপাতে মায়ের চোখের সামনেই ছেলেটি প্রাণ হারায়।’

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

বজ্রপাতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

আপডেট সময়: ০৩:১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি


দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও নোয়াখালীতে এসব ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হন।

সুনামগঞ্জে তিনজন নিহত

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে জমির হোসেন (৪২) ও জমির উদ্দিন (৪৬) নামের দুই কৃষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় আবু সালেক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, বিকেলে আব্দুল্লাহপুর গ্রামে ধান কাটতে যান জমির উদ্দিন। এ সময় বজ্রপাতে আহত হলে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আরো পড়ুন: কৃষক-জেলেদের সুরক্ষায় বজ্রপাত প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে সরকার


একই সময় গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালি গ্রামের জমির হোসেন বাড়ি থেকে হাওড়ে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মারা যান। এ ছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিনজন আহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জে দুই কৃষকের মৃত্যু

হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও এক কৃষক।

নিহতরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) এবং বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার আব্দুল সালাম (৬০)।

পুলিশ জানায়, মকসুদ মিয়া নিজ জমিতে ধান কাটছিলেন। বানিয়াচংয়ে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় আব্দুল সালামের। একই উপজেলার গড়পাড় গ্রামের সামরুজ মিয়া (৫০) নামের আরেক কৃষক আহত হয়েছেন।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, নিহত মকছুদ আলীর পরিবার দরিদ্র। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোণায় তিনজনের মৃত্যু

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক শিকারীর মৃত্যু হয়। সকালে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

একই দিনে সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক। এ ছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।


আরো পড়ুন: ঢাবিতে বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থী আহত, ঢামেকে ভর্তি


খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতেই মৃত্যু বলে ধারণা করছে পুলিশ।

মায়ের সামনেই প্রাণ গেল যুবকের

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মায়ের চোখের সামনেই মৃত্যু হয়েছে মো. আরাফাত হোসেন (২০) নামের এক তরুণ ব্যবসায়ীর। দুপুর পৌনে তিনটার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত ওই গ্রামের মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন।


আরো পড়ুন: ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঝুমুল’, বন্যা-জলাবদ্ধতার শঙ্কা


স্থানীয় সূত্র জানায়, আরাফাত তার মা শায়েলা আক্তারের সঙ্গে বাড়ির পাশের খেত থেকে বাদাম সংগ্রহ করতে যান। বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আরাফাতের মৃত্যু হয়।

ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন বলেন, ‘মা সামনে ছিলেন, ছেলে পেছনে। হঠাৎ বজ্রপাতে মায়ের চোখের সামনেই ছেলেটি প্রাণ হারায়।’

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।