০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

গণভোট-জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময়: ০৩:১৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • 2

ছবি: কালের কণ্ঠ


রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এখন গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে এবং জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জান্নাতের ‘বায়বীয় টিকিট’ বিক্রিকারীরা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনগণের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরের অংশ হিসেবে উলাশী খালের পুনঃখনন কাজ এবং যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী করা হবে।’

বিকেলে জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ‘তারা জনগণের রায় মেনে নিতে না পেরে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

কিন্তু দেশের মানুষ এসব বুঝে গেছে। জনগণ বিএনপির সঙ্গেই আছে’, বলেন তিনি।

জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’


আরো পড়ুন

প্রবাসীর স্ত্রীর কোলে নবজাতক, মামলার আসামি শ্বশুর

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/04/27/1677388


সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো পুনরায় শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রায় দুই দশক আগে যশোর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। আমরা সেই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দিচ্ছি, যাতে এই অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়।’

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া গৃহস্থালির জ্বালানি সুবিধা সহজলভ্য করতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষি ঋণ মওকুফের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্ত করা হবে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

তারেক রহমান বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।


আরো পড়ুন

মার্কিনসহ দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি

https://www.kalerkantho.com/online/Politics/2026/04/27/1677385


খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়া হবে।

জনসভায় তিনি দেশ গঠনে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। আমরা একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

গণভোট-জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময়: ০৩:১৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ছবি: কালের কণ্ঠ


রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এখন গণভোটকে ভিন্ন পথে পরিচালিত এবং দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই কাজ করছে এবং জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জান্নাতের ‘বায়বীয় টিকিট’ বিক্রিকারীরা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জনগণের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরের অংশ হিসেবে উলাশী খালের পুনঃখনন কাজ এবং যশোর মেডিক্যাল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী করা হবে।’

বিকেলে জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ‘তারা জনগণের রায় মেনে নিতে না পেরে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

কিন্তু দেশের মানুষ এসব বুঝে গেছে। জনগণ বিএনপির সঙ্গেই আছে’, বলেন তিনি।

জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।’


আরো পড়ুন

প্রবাসীর স্ত্রীর কোলে নবজাতক, মামলার আসামি শ্বশুর

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2026/04/27/1677388


সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো পুনরায় শুরু করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া প্রায় দুই দশক আগে যশোর মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। আমরা সেই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দিচ্ছি, যাতে এই অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়।’

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া গৃহস্থালির জ্বালানি সুবিধা সহজলভ্য করতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মেয়েদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষি ঋণ মওকুফের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্ত করা হবে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

তারেক রহমান বলেন, দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।


আরো পড়ুন

মার্কিনসহ দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি

https://www.kalerkantho.com/online/Politics/2026/04/27/1677385


খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়া হবে।

জনসভায় তিনি দেশ গঠনে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। আমরা একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।