
সংগৃহীত ছবি
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানো হলেও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট এখনো প্রবল। তেহরানের একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই প্রস্তাবটি দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। দীর্ঘদিনের সংঘাত আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের অবিশ্বাস এখন চরমে।
ইরানি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরান মূলত দুটি প্রধান শর্তের ওপর ভিত্তি করে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী।
প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করে দেবে।
তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো দেশের জাহাজ চলাচল হতে হবে সম্পূর্ণ নিঃশর্ত। ইরানের নতুন প্রস্তাবে এই শর্তহীন চলাচলের বিষয়টি কতটুকু গুরুত্ব পেয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু আচরণে বেশ ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত। বিশেষ করে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত গত দফার আলোচনা থেকে কেন যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ সরে দাঁড়িয়েছিল, তা ইরানের কাছে এখনো অস্পষ্ট। সূত্রটি বলছে, মার্কিন প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে তেহরানের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান চায় কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতি হয়নি।
একদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে সমুদ্রপথে মার্কিন নৌ-অবরোধ—এই দুই মেরুর অবস্থানে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউস কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
সূত্র: সিএনএন













