০৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

দুবাইয়ের আলোচিত সেই রাজকন্যা এখন কী করছেন?

  • আপডেট সময়: ০১:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • 172

দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা তিনি। শেখা মাহরা তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। তিনি বরাবরই তার জীবনযাপন নিয়ে মানুষকে জানাতে পছন্দ করেন। তবে রাজপরিবারের রক্ষণশীলতার তোয়াক্কা না করে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন রাজকন্যা মাহরা।

২০২৩ সালের মে মাসে একই রাজপরিবারের সদস্য শেখ মানার বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ বিন মানা আল মাকতুমের সঙ্গে বিয়ে হয় শেখা মাহরার। তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। তবে মেয়ের বয়স দুই মাস না পেরোতেই স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে তাকে তালাক দেন মাহরা।

এক ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে শেখা মাহরা লিখেছিলেন ‘প্রিয় স্বামী, আপনি যখন অন্য সঙ্গীদের নিয়ে ব্যস্ত, আমি আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘোষণা করছি। আমি আপনাকে তালাক দিচ্ছি, আমি আপনাকে তালাক দিচ্ছি এবং আমি আপনাকে তালাক দিচ্ছি। সাবধান থাকবেন। তোমার সাবেক স্ত্রী।’

দুবাইয়ের রাজকুমারীর বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল তুলেছে। রাজকুমারীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। বর্তমানে তিনি কী করছেন তা জানতে উদগ্রীব নেটিজেনরা।

অনেক আগে থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাইয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেন রাজকন্যা মাহরা। প্রদর্শনী, ফ্যাশন শো এবং পুরস্কার অনুষ্ঠানসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ইভেন্টে তাকে দেখা যায়। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসে, তিনি ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছিলেন।

ফ্যাশন শিল্পের প্রতি মাহরার ভালোবাসা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পর তার এই ভালোবাসা আরও বেড়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের মাত্র দুই মাসের মাথায় নিজের ব্র্যান্ড ‘Mahra M1’ নিয়ে হাজির হন শেখা মাহরা। আর এই ব্যান্ডের প্রথম পণ্য হিসেবে ‘DIVORCE’ (বিবাহবিচ্ছেদ) নামে এটি পারফিউম বাজারে ছাড়েন তিনি। পারফিউমটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৭২ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৩ হাজার টাকারও বেশি)।

বিবাহবিচ্ছেদের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নতুন পারফিউমের ঘোষণা করেন মাহরা। যেখানে কোনো ব্যাখ্যা বা উপমার ব্যবহারই করেননি তিনি। বরং কালো বোতলের ওপর সাদা অক্ষরে ‘DIVORCE’ লেখাটি নজর কাড়ে সবার, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন রাজকন্যার ভক্তরা।

জানা গেছে, দুবাইয়ে প্রাইভেট স্কুলে পড়ালেখা করেছেন মাহরা। এরপর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ডিগ্রি রয়েছে তার। ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাহরা সামাজিক ও মানবিক কাজের জন্যও বেশ প্রশংসিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

এদিকে ঘোড়া ও গাড়িপ্রীতি রয়েছে এই রাজকন্যার। পৃথিবীতেই বিলাসী জীবনের স্বর্গ বানিয়েছেন তিনি। তার বাবাও ঘোড়া খুব পছন্দ করেন। ঘোড়ায় চড়া মাহরার অন্যতম শখের একটি। জানা যায়, তার ব্যয়বহুল অনেক ঘোড়া রয়েছে। যেগুলোর পেছনে বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন তিনি। এছাড়া তার বাড়িতে রয়েছে দুইটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারও। এছাড়া উট ও বাজপাখির সঙ্গেও দেখা গেছে তাকে।

বর্তমান সময়ে দুবাইয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিল্ডিং প্রিন্সেস টাওয়ারের নিচতলায় তার জন্য স্পেশাল কমপ্লেক্স করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। ল্যাম্বরগিনি, ফেরারি, বিএমডব্লিউসহ বিশ্বের নামিদামি গাড়ি তার গ্যারেজে রয়েছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস, অ্যারাবিয়ান বিজনেস

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

দুবাইয়ের আলোচিত সেই রাজকন্যা এখন কী করছেন?

আপডেট সময়: ০১:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা তিনি। শেখা মাহরা তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। তিনি বরাবরই তার জীবনযাপন নিয়ে মানুষকে জানাতে পছন্দ করেন। তবে রাজপরিবারের রক্ষণশীলতার তোয়াক্কা না করে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন রাজকন্যা মাহরা।

২০২৩ সালের মে মাসে একই রাজপরিবারের সদস্য শেখ মানার বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ বিন মানা আল মাকতুমের সঙ্গে বিয়ে হয় শেখা মাহরার। তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। তবে মেয়ের বয়স দুই মাস না পেরোতেই স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে তাকে তালাক দেন মাহরা।

এক ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে শেখা মাহরা লিখেছিলেন ‘প্রিয় স্বামী, আপনি যখন অন্য সঙ্গীদের নিয়ে ব্যস্ত, আমি আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘোষণা করছি। আমি আপনাকে তালাক দিচ্ছি, আমি আপনাকে তালাক দিচ্ছি এবং আমি আপনাকে তালাক দিচ্ছি। সাবধান থাকবেন। তোমার সাবেক স্ত্রী।’

দুবাইয়ের রাজকুমারীর বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল তুলেছে। রাজকুমারীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। বর্তমানে তিনি কী করছেন তা জানতে উদগ্রীব নেটিজেনরা।

অনেক আগে থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাইয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেন রাজকন্যা মাহরা। প্রদর্শনী, ফ্যাশন শো এবং পুরস্কার অনুষ্ঠানসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ইভেন্টে তাকে দেখা যায়। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসে, তিনি ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছিলেন।

ফ্যাশন শিল্পের প্রতি মাহরার ভালোবাসা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পর তার এই ভালোবাসা আরও বেড়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের মাত্র দুই মাসের মাথায় নিজের ব্র্যান্ড ‘Mahra M1’ নিয়ে হাজির হন শেখা মাহরা। আর এই ব্যান্ডের প্রথম পণ্য হিসেবে ‘DIVORCE’ (বিবাহবিচ্ছেদ) নামে এটি পারফিউম বাজারে ছাড়েন তিনি। পারফিউমটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৭২ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৩ হাজার টাকারও বেশি)।

বিবাহবিচ্ছেদের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নতুন পারফিউমের ঘোষণা করেন মাহরা। যেখানে কোনো ব্যাখ্যা বা উপমার ব্যবহারই করেননি তিনি। বরং কালো বোতলের ওপর সাদা অক্ষরে ‘DIVORCE’ লেখাটি নজর কাড়ে সবার, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন রাজকন্যার ভক্তরা।

জানা গেছে, দুবাইয়ে প্রাইভেট স্কুলে পড়ালেখা করেছেন মাহরা। এরপর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ডিগ্রি রয়েছে তার। ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাহরা সামাজিক ও মানবিক কাজের জন্যও বেশ প্রশংসিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

এদিকে ঘোড়া ও গাড়িপ্রীতি রয়েছে এই রাজকন্যার। পৃথিবীতেই বিলাসী জীবনের স্বর্গ বানিয়েছেন তিনি। তার বাবাও ঘোড়া খুব পছন্দ করেন। ঘোড়ায় চড়া মাহরার অন্যতম শখের একটি। জানা যায়, তার ব্যয়বহুল অনেক ঘোড়া রয়েছে। যেগুলোর পেছনে বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন তিনি। এছাড়া তার বাড়িতে রয়েছে দুইটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারও। এছাড়া উট ও বাজপাখির সঙ্গেও দেখা গেছে তাকে।

বর্তমান সময়ে দুবাইয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিল্ডিং প্রিন্সেস টাওয়ারের নিচতলায় তার জন্য স্পেশাল কমপ্লেক্স করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। ল্যাম্বরগিনি, ফেরারি, বিএমডব্লিউসহ বিশ্বের নামিদামি গাড়ি তার গ্যারেজে রয়েছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস, অ্যারাবিয়ান বিজনেস