০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বশির আহমেদের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা

  • আপডেট সময়: ০৬:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • 129

ছবি: সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক: কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ (১৯ নভেম্বর ১৯৩৯-১৯ এপ্রিল ২০১৪)এর আজ ৮৬তম জন্মবার্ষিকী।

একজন বাঙালী সংগীতশিল্পী। বাংলাদেশি এই সঙ্গীতশিল্পী পাকিস্তান আমলে আহমেদ রুশদি বলে পরিচিত ছিলেন। তিনি মালেকা ই তারান্নুম নূরজাহানের সঙ্গে উর্দূ গান গেয়েছেন। কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। দিল্লির এক সম্ভ্রান্ত  পরিবারের সন্তান বশির আহমেদ কলকাতায় ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সংগীত শেখার পর মুম্বাইয়ে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ’র কাছে তালিম নেন।

১৯৬৪ সালে সপরিবারে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন বশির আহমেদ। চলচ্চিত্রে ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ গানটি পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তালাশ চলচ্চিত্রে বিখ্যাত শিল্পী তালাত মাহমুদের সঙ্গে কাজ করেন।

বশির আহমেদ গান গেয়েছেন, গানে সুর করেছেন, গান লিখেছেন; শুধু তাই নয়–তার অগণিত ছাত্রছাত্রীকে তিনি গান শিখিয়েছেন। নিজের গান তাদের তুলে দিয়েছেন। পরিপূর্ণ সংগীত-ব্যক্তিত্ব বলতে যা বোঝায়, বশির আহমেদ ছিলেন তাই। নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি গান ছাড়া অন্য কিছু করেননি। গান ছিল তার নির্ভর আশ্রয়।

সপরিবারে বশির আহমেদ

বাংলা গানকে তিনি মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন। মাতৃভাষা উর্দু হলেও বাংলাতেও গান লিখেছেন অনেক। বাংলা গানের প্রতি তার ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ তার গান গ্রহণ করে। আমৃত্যু তিনি আমাদের গানের ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁর মেধা দিয়ে, তাঁর প্রতিভা দিয়ে।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি ঢাকায় পরলোকগমন করেন।

আমাদের দেশে শুধু সংগীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা খুব কঠিন। সেই কঠিন কাজটিকেই জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বশির আহমেদ। শত প্রতিকূলতার মুখেও বিশুদ্ধ সংগীতকে কখনো বিসর্জন দেননি। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেছেন সংগীত শিল্পের সাধক হয়ে। তাঁর জীবন তাঁর সংগীত আমাদের উত্তর-প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাবে, আলো দেখাবে।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল, শনিবার মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় তিনি মারা যান। তিনি কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি ছবিতে গানের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ২০০৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। উত্তরাধুনিক টিম-এর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

রিজওয়ানার থাবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বশির আহমেদের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা

আপডেট সময়: ০৬:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক: কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ (১৯ নভেম্বর ১৯৩৯-১৯ এপ্রিল ২০১৪)এর আজ ৮৬তম জন্মবার্ষিকী।

একজন বাঙালী সংগীতশিল্পী। বাংলাদেশি এই সঙ্গীতশিল্পী পাকিস্তান আমলে আহমেদ রুশদি বলে পরিচিত ছিলেন। তিনি মালেকা ই তারান্নুম নূরজাহানের সঙ্গে উর্দূ গান গেয়েছেন। কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। দিল্লির এক সম্ভ্রান্ত  পরিবারের সন্তান বশির আহমেদ কলকাতায় ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সংগীত শেখার পর মুম্বাইয়ে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ’র কাছে তালিম নেন।

১৯৬৪ সালে সপরিবারে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন বশির আহমেদ। চলচ্চিত্রে ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ গানটি পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তালাশ চলচ্চিত্রে বিখ্যাত শিল্পী তালাত মাহমুদের সঙ্গে কাজ করেন।

বশির আহমেদ গান গেয়েছেন, গানে সুর করেছেন, গান লিখেছেন; শুধু তাই নয়–তার অগণিত ছাত্রছাত্রীকে তিনি গান শিখিয়েছেন। নিজের গান তাদের তুলে দিয়েছেন। পরিপূর্ণ সংগীত-ব্যক্তিত্ব বলতে যা বোঝায়, বশির আহমেদ ছিলেন তাই। নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি গান ছাড়া অন্য কিছু করেননি। গান ছিল তার নির্ভর আশ্রয়।

সপরিবারে বশির আহমেদ

বাংলা গানকে তিনি মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন। মাতৃভাষা উর্দু হলেও বাংলাতেও গান লিখেছেন অনেক। বাংলা গানের প্রতি তার ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ তার গান গ্রহণ করে। আমৃত্যু তিনি আমাদের গানের ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁর মেধা দিয়ে, তাঁর প্রতিভা দিয়ে।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি ঢাকায় পরলোকগমন করেন।

আমাদের দেশে শুধু সংগীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা খুব কঠিন। সেই কঠিন কাজটিকেই জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বশির আহমেদ। শত প্রতিকূলতার মুখেও বিশুদ্ধ সংগীতকে কখনো বিসর্জন দেননি। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেছেন সংগীত শিল্পের সাধক হয়ে। তাঁর জীবন তাঁর সংগীত আমাদের উত্তর-প্রজন্মকে প্রেরণা যোগাবে, আলো দেখাবে।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল, শনিবার মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় তিনি মারা যান। তিনি কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি ছবিতে গানের জন্য ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ২০০৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। উত্তরাধুনিক টিম-এর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।