০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক

  • আপডেট সময়: ০৪:১৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • 4

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছে।

বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাবকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

এতে মামলার সময়সীমা, মুলতবি, সাক্ষ্য-অভিযুক্তের তথ্য, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল প্রতিবেদন, দণ্ড, খালাসের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় জর্জরিত।

একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে সময় লাগছে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস, অর্থাৎ ১ হাজার ৩৭০ দিন। এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার করে তারিখ পড়ছে, যা বিচার বিলম্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

মামলার ফলাফল বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, এসব মামলায় সাজার হার অত্যন্ত কম মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

এ ছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘন ঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক

আপডেট সময়: ০৪:১৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রাপ্তির চিত্র উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছে।

বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাবকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণাটি দেশের ৩২টি জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে নিষ্পত্তি হওয়া ৪ হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

এতে মামলার সময়সীমা, মুলতবি, সাক্ষ্য-অভিযুক্তের তথ্য, ফরেনসিক ও মেডিক্যাল প্রতিবেদন, দণ্ড, খালাসের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় জর্জরিত।

একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে সময় লাগছে প্রায় ৩ বছর ৭ মাস, অর্থাৎ ১ হাজার ৩৭০ দিন। এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার করে তারিখ পড়ছে, যা বিচার বিলম্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

মামলার ফলাফল বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, এসব মামলায় সাজার হার অত্যন্ত কম মাত্র ৩ শতাংশ। বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন।

এ ছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

গবেষণায় বিচার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘন ঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা, ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দেরি এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।