১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করল পাকিস্তান

  • আপডেট সময়: ০৫:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • 2

মিরপুর টেস্টে শনিবার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অল আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে ওপেনার আজান আওয়াইস তার অভিষেক ম্যাচেই ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন যা সফরকারীদের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯ রান এবং তারা এখনও ২৩৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে; আজান আওয়াইস ৮৫ রানে এবং আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন।

ইমাম-উল-হক এবং আজান আওয়াইস ইতিবাচকভাবে ইনিংস শুরু করেন এবং বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের চাপ সামলে একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলেন। চা-বিরতির সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৫০ রান, যেখানে ইমাম ২৮ এবং আওয়াইস ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ সেশনে এই জুটি বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত রান তুলতে থাকে।

এই সময়েই আজান আওয়াইস তার প্রথম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং ইমামের সাথে ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটি পূর্ণ করেন। অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজ এই জুটি ভাঙেন এবং ইমাম-উল-হককে ৪৫ রানে বিদায় করেন, যার ফলে ১০৬ রানে পাকিস্তান তাদের প্রথম উইকেট হারায়। এরপর আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল মাঠে এসে বিচক্ষণতার সাথে ব্যাটিং করেন এবং আওয়াইসের সাথে ইনিংস মেরামত করে দলের সংগ্রহ ১৫০ পার করেন। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে মিরাজই একমাত্র উইকেট নিতে পেরেছেন।

এর আগে, দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মোহাম্মদ আব্বাসের পাঁচ উইকেটের কল্যাণে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। দিনের শুরুতে লিটন দাস ৩৩ রানে আব্বাসের বলে আউট হন। মুশফিকুর রহিম ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে নিজের ২৯তম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে এবং আব্বাস একে একে মেহেদী মিরাজ (১০) ও তাইজুল ইসলামকে (১৭) বিদায় করেন।

লাঞ্চের পর শাহীন আফ্রিদি মুশফিকুর রহিমকে ৭১ রানে বোল্ড করে তার প্রতিরোধের অবসান ঘটান। আব্বাস এবাদত হোসেনকে শূন্য রানে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এবং বাংলাদেশের স্কোর তখন দাঁড়ায় ৩৮৪-৯। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা কিছু দরকারী রান যোগ করেন, যার মধ্যে তাসকিনের ২৮ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ৪০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে। শাহীন আফ্রিদি তাসকিনকে আউট করে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এবং ৯২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন আব্বাস। শাহীন ৩টি এবং হাসান আলী ও নোমান আলী একটি করে উইকেট নেন।

প্রথম দিনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ এবং মুমিনুল হকের ৯১ রানের জুটিতে ভর করে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়েছিল। শান্তর আউট হওয়ার পর মুশফিক ও লিটন অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষ করেছিলেন এবং প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩০১ রান।

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist
জনপ্রিয়

২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করল পাকিস্তান

২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শেষ করল পাকিস্তান

আপডেট সময়: ০৫:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

মিরপুর টেস্টে শনিবার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ ৪১৩ রানে অল আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে ওপেনার আজান আওয়াইস তার অভিষেক ম্যাচেই ৮৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন যা সফরকারীদের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯ রান এবং তারা এখনও ২৩৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে; আজান আওয়াইস ৮৫ রানে এবং আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন।

ইমাম-উল-হক এবং আজান আওয়াইস ইতিবাচকভাবে ইনিংস শুরু করেন এবং বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের চাপ সামলে একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলেন। চা-বিরতির সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৫০ রান, যেখানে ইমাম ২৮ এবং আওয়াইস ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ সেশনে এই জুটি বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত রান তুলতে থাকে।

এই সময়েই আজান আওয়াইস তার প্রথম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং ইমামের সাথে ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটি পূর্ণ করেন। অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজ এই জুটি ভাঙেন এবং ইমাম-উল-হককে ৪৫ রানে বিদায় করেন, যার ফলে ১০৬ রানে পাকিস্তান তাদের প্রথম উইকেট হারায়। এরপর আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল মাঠে এসে বিচক্ষণতার সাথে ব্যাটিং করেন এবং আওয়াইসের সাথে ইনিংস মেরামত করে দলের সংগ্রহ ১৫০ পার করেন। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে মিরাজই একমাত্র উইকেট নিতে পেরেছেন।

এর আগে, দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মোহাম্মদ আব্বাসের পাঁচ উইকেটের কল্যাণে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয়। দিনের শুরুতে লিটন দাস ৩৩ রানে আব্বাসের বলে আউট হন। মুশফিকুর রহিম ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে নিজের ২৯তম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে এবং আব্বাস একে একে মেহেদী মিরাজ (১০) ও তাইজুল ইসলামকে (১৭) বিদায় করেন।

লাঞ্চের পর শাহীন আফ্রিদি মুশফিকুর রহিমকে ৭১ রানে বোল্ড করে তার প্রতিরোধের অবসান ঘটান। আব্বাস এবাদত হোসেনকে শূন্য রানে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এবং বাংলাদেশের স্কোর তখন দাঁড়ায় ৩৮৪-৯। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা কিছু দরকারী রান যোগ করেন, যার মধ্যে তাসকিনের ২৮ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ৪০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে। শাহীন আফ্রিদি তাসকিনকে আউট করে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এবং ৯২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন আব্বাস। শাহীন ৩টি এবং হাসান আলী ও নোমান আলী একটি করে উইকেট নেন।

প্রথম দিনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ এবং মুমিনুল হকের ৯১ রানের জুটিতে ভর করে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়েছিল। শান্তর আউট হওয়ার পর মুশফিক ও লিটন অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষ করেছিলেন এবং প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৩০১ রান।