০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

আর্টেমিস ২: চাঁদে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

  • আপডেট সময়: ০২:২৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • 4

৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের পর এবারই প্রথম নতুন করে মানুষ্যবাহী যান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করল। তবে এটি একটি পরীক্ষামূলক অভিযান, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার পথ প্রশস্ত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে নাসার অত্যন্ত শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে চড়ে চারজন নভোচারী বর্তমানে মহাকাশে অবস্থান করছেন। এই চার নভোচারী মোট ১০ দিনের মিশনে মহাকাশে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

চাঁদে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে?

আর্টেমিস ২ মিশনটি সরাসরি চাঁদের দিকে রওনা হয়নি। এটি চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ গতিপথে ভ্রমণ করবে, যা প্রমাণ করবে যে মহাকাশযানটি ভবিষ্যতের অভিযানেও নাবিকদল বহন করতে সক্ষম। যাত্রাটি মূলত কয়েকটি ধাপে বিভক্ত:

প্রথম ২৪ ঘণ্টা (পৃথিবীর কক্ষপথে): নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীর চারপাশে একটি উচ্চ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে অবস্থান করবেন। এই সময়ে তারা মহাকাশযানের অক্সিজেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করবেন।

চাঁদের পথে যাত্রা: প্রথম ২৪ ঘণ্টার পরীক্ষা সফল হলে মহাকাশযানটি চাঁদের দিকে ৪ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শুরু করবে।

চাঁদ প্রদক্ষিণ: সব মিলিয়ে যাত্রার প্রায় ষষ্ঠ দিনে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে পৌঁছাবেন। তবে তারা চাঁদে অবতরণ করবেন না, বরং চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘুরে আবার পৃথিবীর দিকে রওনা হবেন। পুরো মিশনটি শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১০ দিন। এই ১০ দিনে মহাকাশযানটি প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার মাইল পথ পাড়ি দেবে।

ফিরে আসা: ১০ দিনের যাত্রা শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘স্প্ল্যাশডাউন’ বা অবতরণের মাধ্যমে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মার্কিন নৌবাহিনী তাদের উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এই অভিযানের নভোচারী কারা?

এই মিশনে চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী রয়েছেন, যারা মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস গড়ছেন:

রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার): নাসার এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাবেক কমান্ডার আর্টেমিস ২ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): মার্কিন নৌবাহিনীর এই পাইলট প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে যাচ্ছেন।

ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট): প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের অভিযানে যাচ্ছেন তিনি। নারীদের মধ্যে দীর্ঘতম ৩২৮ দিনের একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ড রয়েছে ক্রিস্টিনার। তিনি একাধিকবার মহাকাশে হেঁটেছেন এবং তার বৈজ্ঞানিক ও গভীর মহাকাশ অভিযানের দক্ষতা রয়েছে।

জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট): প্রথম অ-মার্কিন এবং চাঁদে ভ্রমণকারী প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন তিনি। কানাডীয় একজন সাবেক ফাইটার পাইলট।

এরপর কী হবে? 

আর্টেমিস ২ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নাসার পরবর্তী বড় লক্ষ্য হলো আর্টেমিস ৩। এর মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প এবং কক্ষপথে ‘গেটওয়ে’ নামক স্পেস স্টেশন তৈরির কাজ শুরু হবে।

নাসা পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদে মানুষের এই উপস্থিতি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: আলজাজিরা

 

উত্তরাধুনিক

Writer, Singer & Environmentalist

আর্টেমিস ২: চাঁদে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

আপডেট সময়: ০২:২৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের পর এবারই প্রথম নতুন করে মানুষ্যবাহী যান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করল। তবে এটি একটি পরীক্ষামূলক অভিযান, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার পথ প্রশস্ত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে নাসার অত্যন্ত শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটে চড়ে চারজন নভোচারী বর্তমানে মহাকাশে অবস্থান করছেন। এই চার নভোচারী মোট ১০ দিনের মিশনে মহাকাশে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

চাঁদে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে?

আর্টেমিস ২ মিশনটি সরাসরি চাঁদের দিকে রওনা হয়নি। এটি চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ গতিপথে ভ্রমণ করবে, যা প্রমাণ করবে যে মহাকাশযানটি ভবিষ্যতের অভিযানেও নাবিকদল বহন করতে সক্ষম। যাত্রাটি মূলত কয়েকটি ধাপে বিভক্ত:

প্রথম ২৪ ঘণ্টা (পৃথিবীর কক্ষপথে): নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীর চারপাশে একটি উচ্চ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে অবস্থান করবেন। এই সময়ে তারা মহাকাশযানের অক্সিজেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করবেন।

চাঁদের পথে যাত্রা: প্রথম ২৪ ঘণ্টার পরীক্ষা সফল হলে মহাকাশযানটি চাঁদের দিকে ৪ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শুরু করবে।

চাঁদ প্রদক্ষিণ: সব মিলিয়ে যাত্রার প্রায় ষষ্ঠ দিনে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে পৌঁছাবেন। তবে তারা চাঁদে অবতরণ করবেন না, বরং চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘুরে আবার পৃথিবীর দিকে রওনা হবেন। পুরো মিশনটি শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় ১০ দিন। এই ১০ দিনে মহাকাশযানটি প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার মাইল পথ পাড়ি দেবে।

ফিরে আসা: ১০ দিনের যাত্রা শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘স্প্ল্যাশডাউন’ বা অবতরণের মাধ্যমে নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মার্কিন নৌবাহিনী তাদের উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

এই অভিযানের নভোচারী কারা?

এই মিশনে চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী রয়েছেন, যারা মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস গড়ছেন:

রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার): নাসার এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাবেক কমান্ডার আর্টেমিস ২ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): মার্কিন নৌবাহিনীর এই পাইলট প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে যাচ্ছেন।

ক্রিস্টিনা কচ (মিশন স্পেশালিস্ট): প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের অভিযানে যাচ্ছেন তিনি। নারীদের মধ্যে দীর্ঘতম ৩২৮ দিনের একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ড রয়েছে ক্রিস্টিনার। তিনি একাধিকবার মহাকাশে হেঁটেছেন এবং তার বৈজ্ঞানিক ও গভীর মহাকাশ অভিযানের দক্ষতা রয়েছে।

জেরেমি হ্যানসেন (মিশন স্পেশালিস্ট): প্রথম অ-মার্কিন এবং চাঁদে ভ্রমণকারী প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন তিনি। কানাডীয় একজন সাবেক ফাইটার পাইলট।

এরপর কী হবে? 

আর্টেমিস ২ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নাসার পরবর্তী বড় লক্ষ্য হলো আর্টেমিস ৩। এর মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প এবং কক্ষপথে ‘গেটওয়ে’ নামক স্পেস স্টেশন তৈরির কাজ শুরু হবে।

নাসা পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদে মানুষের এই উপস্থিতি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: আলজাজিরা